ভবদহের জলাবদ্ধতা বন্যায় তলিয়ে গেছে কৃষকের স্বপ্ন

যশোরের মণিরামপুর উপজেলায় হঠাৎ আগাম বন্যায় পানিতে তলিয়ে গেছে শত শত বিঘা পাকা ধানক্ষেত। হরিহর ও মুক্তেশ্বরী নদীর পানি বেড়ে উপজেলার হোগলাডাঙ্গা, বাহাদুরপুর, পাঁচকাটিয়া, পাঁচ বাড়িয়া,ভুল বাড়িয়া , সুন্দলী নেবুগাতী, কাটাখালি, গোপালপুরসহ ৯৬টি এলাকার বিলাঞ্চল প্লাবিত হয় মাত্র ১-২ দিনের ব্যবধানে।
উপজেলা কৃষি অফিসার মোছাঃ মাহমুদা আক্তার বলেন, “চলমান আগাম বন্যায় উপজেলার কিছু নিচু জমির ধান ডুবে গেছে। আমাদের এবারের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩,২০০ হেক্টর, অর্জনও হয়েছে সেই পরিমাণ জমিতে। তবে এর মধ্যে ৫২৮ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”
বন্যার পানিতে নিমজ্জিত ধানক্ষেত থেকে অনেক কৃষক কোমর পানিতে দাঁড়িয়ে নিজের হাতে ধান কাটছেন। শ্রমিক সংকট, অতিরিক্ত মজুরি ও খারাপ আবহাওয়ার কারণে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, ধান এখনো পুরোপুরি পাকে নাই, বেশিরভাগই কাঁচা। তাই শুকিয়ে সংরক্ষণ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক কৃষক পলিথিনে ভাসিয়ে ধান তুলে নেওয়ার চেষ্টা করলেও নেই যথেষ্ট শুকনো জায়গা বা উপযুক্ত সরঞ্জাম।
কৃষক কালিপদ বিশ্বাস বলেন, "এমন আগাম পানি আগে দেখিনি। চোখের সামনে ধান নষ্ট হচ্ছে, আমরা কিছুই করতে পারছি না।"অন্যদিকে কৃষক মাধব মন্ডল জানান, "উৎসবের আগে এই ধান বিক্রি করে পরিবার নিয়ে ভালো সময় কাটানোর আশা ছিল, সব শেষ হয়ে গেল।"
কৃষক ও এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সরকারি সহায়তা, কৃষি যন্ত্রপাতি ও উপকরণ সরবরাহ এবং ভবিষ্যতে এমন আগাম বন্যা মোকাবিলায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।