হামলায় লণ্ডভণ্ড সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও, আইনে আস্থা নেই তার

ঘটনার সময় ঢাকায় ছিলেন না কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদির। খবর পেয়ে বিমানে ঢাকায় ফিরে ঘটনাস্থলে গিয়ে নিজের স্টুডিওর ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখেন তিনি। পরে লাইভে এসে দাবি করেন, হামলায় তার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও সৃজনশীল কাজের জায়গাটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগ্রিনি প্রপার্টিজে সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ’ স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। অভিযোগ উঠেছে, দলীয় পরিচয় দিয়ে তার কাছে চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। এতে রাজি না হওয়ায় স্টুডিওতে হামলা চালানো হয়।
ঘটনার পর স্টুডিওতে গিয়ে ভাঙচুরের চিত্র তুলে ধরেন সালমান। ভিডিওতে দেখা যায়, ভেতরে বাদ্যযন্ত্রসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ভেঙে পড়ে আছে। মেঝেতে ছড়িয়ে রয়েছে কাগজপত্র, ফোম ও অন্যান্য সামগ্রী। কাঁচের দরজা-জানালাও ভাঙা অবস্থায় দেখা যায়। উল্টে পড়ে আছে আসবাবপত্র ও সোফা। তার অর্জিত ইউটিউবের গোল্ডেন প্লে বাটনও মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা যায়।
রোববার সকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সালমান মুক্তাদির। হামলার ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাংলাদেশের আইনের প্রতি তার আস্থা নেই।
চাঁদা দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে সালমান বলেন, তাকে সরাসরি কেউ চাঁদা দাবি করেননি। পুলিশ ও অন্যদের কাছ থেকে তিনি এ বিষয়ে শুনেছেন। তার ভাষ্য, “আমার কাছে চাইলে আমি ডেফিনিটলি দিতাম, অফকোর্স আমি... যদি আমার পোষাইতো, অবশ্যই দিতাম।”
ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে চাইলে তিনি নির্দিষ্ট কোনো অঙ্ক উল্লেখ করেননি। তিনি বলেন, স্টুডিওতে বিভিন্ন ক্লায়েন্টের ফুটেজ ও অন্যান্য সরঞ্জাম রাখা ছিল। সেখানে নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের শুটিং হতো। প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি ক্লায়েন্টের কাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকলে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হতে পারে বলে জানান তিনি। তবে আইনগতভাবে নিশ্চিত না হয়ে ক্ষতির নির্দিষ্ট পরিমাণ বলতে চাননি।
সালমান মুক্তাদির বলেন, এই স্টুডিও শুধু কাজের জায়গা নয়, দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও সৃজনশীলতার সঙ্গে জড়িত একটি প্রতিষ্ঠান। হামলায় সেটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এই ঘটনায় তার কাজ থেমে থাকবে না।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, যা ঘটেছে তাতে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তবে এই ধ্বংসযজ্ঞ তাকে কাজ থেকে পিছিয়ে দিতে পারবে না। ভবিষ্যতেও নিজের কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এই কনটেন্ট ক্রিয়েটর।