শাকিবের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে ঐশী, ‘সোলজার’ নিয়ে বড় প্রত্যাশা

মডেলিংয়ের মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়ার পর অভিনয়ে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী। ‘মিশন এক্সট্রিম’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেকের পর ‘নূর’সহ কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। এবার তার ক্যারিয়ারে যুক্ত হচ্ছে নতুন অভিজ্ঞতা—প্রথমবারের মতো শাকিব খানের সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করছেন ‘সোলজার’ সিনেমায়।
সিনেমাটির বেশির ভাগ অংশের শুটিং ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। কিছু দৃশ্যের কাজ এখনো বাকি। শিগগিরই আবার শুটিংয়ে ফিরবেন ঐশী। চরিত্রের প্রয়োজনেই বর্তমানে নিজের শারীরিক প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। এমনকি চরিত্রের সঙ্গে মানিয়ে নিতে ওজনও বাড়াচ্ছেন এই অভিনেত্রী।

‘সোলজার’-এর শুটিং প্রসঙ্গে ঐশী বলেন, সিনেমাটির অনেকটা কাজ হয়ে গেছে। কিছু অংশের শুটিং বাকি রয়েছে। আবার শুটিং শুরু হবে শিগগিরই। চরিত্রটি ঠিকভাবে ফুটিয়ে তুলতে নিজেকে প্রস্তুত করছেন তিনি।
সিনেমাটির সিনেমাটোগ্রাফার খসরুর সঙ্গেও দীর্ঘ বিরতির পর কাজ করছেন ঐশী। তার ভাষায়, প্রায় সাত বছর পর খসরুর সঙ্গে আবার কাজ হচ্ছে। তিনি খুব সহযোগিতাপরায়ণ এবং তার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা ভালো।

শাকিব খানের সঙ্গে প্রথমবার কাজের অভিজ্ঞতাও জানিয়েছেন ঐশী। তিনি বলেন, এর আগে শাকিব খানের সঙ্গে তার পরিচয় ছিল না। ‘সোলজার’-এর সেটে প্রথম দেখা। সেদিন শাকিবকে সিনেমার চরিত্রের লুকে ক্যামেরার সামনে প্রস্তুত অবস্থায় দেখেন তিনি। এরপরই শুরু হয় শুটিং।
শুটিংয়ের পরও শাকিবের কাছ থেকে কাজ নিয়ে বিভিন্ন পরামর্শ পেয়েছেন বলে জানান ঐশী। কীভাবে অভিনয় আরও ভালো করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করেছেন তারা। সহশিল্পী হিসেবে শাকিবকে সহযোগিতাপরায়ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ঐশীর ভাষায়, এখন পর্যন্ত শাকিবের সঙ্গে প্রায় ১০ দিন শুটিং করেছেন। তার কাছে শাকিবকে অত্যন্ত পেশাদার ও সিনেমার কাজে মনোযোগী মনে হয়েছে। সেটে থাকলে তিনি সব সময় সিনেমার কাজ নিয়েই ভাবেন।
‘সোলজার’ নিয়ে নিজের প্রত্যাশার কথাও জানিয়েছেন ঐশী। তার মতে, শাকিব খান দেশের বড় তারকাদের একজন এবং তার বিপুল দর্শক রয়েছে। পাশাপাশি পরিচালকও ভালোভাবে কাজ করছেন। নিজের চরিত্রেও অভিনয়ের সুযোগ রয়েছে। সব মিলিয়ে সিনেমাটি দর্শকের ভালো লাগবে বলে আশা করছেন তিনি। ঐশীর বিশ্বাস, ‘সোলজার’ তার ক্যারিয়ারে নতুন একটি মাত্রা যোগ করতে পারে।

ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ ছিল ঐশীর। নিয়মিত সিনেমা দেখতেন এবং অভিনেত্রীদের অভিনয় তাকে আকৃষ্ট করত। বড় হয়ে অভিনয় করার ইচ্ছা তখন থেকেই তৈরি হয়। পরে সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার পর সেই স্বপ্ন আরও দৃঢ় হয়।
ভবিষ্যতে একই ধরনের চরিত্রে আটকে থাকতে চান না ঐশী। তার ইচ্ছা, চ্যালেঞ্জিং ও বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয় করা। এমন চরিত্রে কাজ করতে চান, যেগুলো সিনেমা দেখার পর দর্শকদের ভাবাবে।

অভিনয়জীবনে পরিবারের সহযোগিতাকেও বিশেষভাবে গুরুত্ব দেন ঐশী। তার ভাষায়, পরিবার সব সময় পাশে ছিল এবং তাদের সমর্থনের জন্য তিনি কৃতজ্ঞ।
ভবিষ্যতের স্বপ্ন প্রসঙ্গে ঐশী বলেন, ভালো চরিত্রে অভিনয় করতে চান এবং ভালো সিনেমার অংশ হতে চান—এটাই তার মূল লক্ষ্য।

কাজের বাইরে নিজের ও পরিবারের জন্য সময় রাখেন এই অভিনেত্রী। অবসর সময়ে বেশির ভাগ সময় বাসাতেই থাকেন। সিনেমা দেখার পাশাপাশি বই পড়তেও পছন্দ করেন। বর্তমানে হুমায়ূন আহমেদের ‘মেঘ বলেছে যাব যাব’ বইটি পড়ছেন তিনি।