শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj

বিহারি ঐতিহ্যে তামান্না, মধুবনী ও হীরার সাজে নজরকাড়া লুক

বিহারি ঐতিহ্যে তামান্না, মধুবনী ও হীরার সাজে নজরকাড়া লুক
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধনে বরাবরই আলাদা নজর কাড়েন বলিউড অভিনেত্রী তামান্না ভাটিয়া। এবার ‘দ্য ভিভান’ সিনেমার প্রচারে এমনই এক সাজে দেখা গেল তাকে, যেখানে পোশাকের প্রতিটি অনুষঙ্গে উঠে এসেছে বিহারের সংস্কৃতি ও লোকশিল্পের ছাপ।

সহ-অভিনেতা সিদ্ধার্থ মালহোত্রার সঙ্গে সিনেমার প্রচারে ব্যস্ত তামান্না রাধাষ্টমী উপলক্ষে বেছে নেন হলুদ-নীল শাড়ি, হাতে আঁকা মধুবনী নকশার ওড়না ও হীরার দুল। পুরো সাজে ছিল ঐতিহ্যবাহী আবহের সঙ্গে আধুনিকতার পরিমিত সংযোজন।

তামান্নার পরনে ছিল পোশাকের নকশাকারী প্রতিষ্ঠান টোরানির হলুদ ও নীল শাড়ি। শাড়ির পাড়জুড়ে ছিল সূক্ষ্ম কাটওয়ার্ক ও হাতে করা ফুলের কারুকাজ। গাঢ় নীল ব্লাউজে সাদা সুতার নকশা শাড়ির রঙের সঙ্গে তৈরি করেছে বৈপরীত্য।

তবে সাজটির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অনুষঙ্গ ছিল মধুবনী নকশার ওড়না। বিহারের সংস্কৃতি ও ‘দ্য ভিভান’ সিনেমার আবহের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এতে ব্যবহার করা হয়েছে মিথিলা অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী শিল্পরীতি।

শাড়ির হলুদ থেকে গাঢ় নীল রঙের সমন্বয়ের পেছনেও রয়েছে বিশেষ ভাবনা। তামান্নার ভাষ্য অনুযায়ী, ছটপূজায় উদীয়মান সূর্যের পাশাপাশি অস্তগামী সূর্যকেও প্রণাম করা হয়। সূর্যের আলো বিদায় নেওয়া এবং আবার ফিরে আসার সেই ভাবনাকে প্রতীকীভাবে তুলে ধরতেই শাড়িতে হলুদ থেকে গাঢ় নীলের রঙের পরিবর্তন রাখা হয়েছে।

মধুবনী ওড়নাটিও যেন আলাদা একটি গল্প বলছে। চারজন শিল্পী মিলে পুরো ওড়নাটি হাতে এঁকেছেন। এতে মিথিলা অঞ্চলের নানা সাংস্কৃতিক অনুষঙ্গ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ওড়নার মাঝখানে রয়েছে রাধা-কৃষ্ণের চিত্র, আর চারপাশে ছড়িয়ে আছে বিভিন্ন প্রতীক ও অলংকরণ।

মধুবনী চিত্রকলা, যা মিথিলা শিল্প নামেও পরিচিত, ভারতের অন্যতম পরিচিত লোকশিল্প। মিথিলা অঞ্চলের লোকজ জীবন, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে এ শিল্পরীতির গভীর সম্পর্ক রয়েছে। প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, রাজা জনক রাম ও সীতার বিয়ের সময় স্থানীয় শিল্পীদের দিয়ে বিভিন্ন চিত্র আঁকিয়েছিলেন। সেই ঐতিহ্য থেকেই মধুবনী শিল্পের সূত্রপাত বলে মনে করা হয়।

উজ্জ্বল রঙ, গাঢ় বৈপরীত্য, সূক্ষ্ম রেখা ও জটিল নকশা মধুবনী শিল্পের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ঐতিহ্যগতভাবে মিথিলা অঞ্চলের নারীদের মধ্যেই এই শিল্পের চর্চা বেশি দেখা গেলেও বর্তমানে পুরুষ শিল্পীরাও এতে যুক্ত হয়েছেন। দেয়াল, কাগজ, কাপড় ও ক্যানভাসসহ বিভিন্ন মাধ্যমে মধুবনী চিত্র আঁকা হয়।

ঐতিহ্যবাহী পোশাকের সঙ্গে আধুনিকতার ছোঁয়া আনতে তামান্না বেছে নিয়েছিলেন ঝাড়বাতি নকশার হীরার দুল। একাধিক স্তরে সাজানো হীরা ও সূক্ষ্ম ঝুলের এই গয়নাও অভিনেত্রীর নিজের গয়নার প্রতিষ্ঠানের। হাঁটার সঙ্গে দুলের ঝুলন্ত অংশের নড়াচড়া পুরো সাজে যোগ করেছে বাড়তি ঝিলিক।

শাড়ি, মধুবনী ওড়না ও হীরার দুল পরে গঙ্গার তীরে আরতি করতেও দেখা গেছে তামান্নাকে। নদীর পাড়ে তার এই সাজের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের নজর কেড়েছে।

‘দ্য ভিভান’ সিনেমার বিহার-যোগকে সামনে রেখে তামান্নার এবারের সাজে স্থানীয় লোকশিল্প ও সংস্কৃতির নানা উপাদান তুলে ধরা হয়েছে। পোশাক, নকশা ও গয়নার সমন্বয়ে পুরো আয়োজনেই ফুটে উঠেছে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মিশেল।

তামান্না ভাটিয়া ও সিদ্ধার্থ মালহোত্রা অভিনীত ‘দ্য ভিভান’ আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আরও পড়ুন