সেলফির অজুহাতে এক বছরের মেয়েকে নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ

ভারতের উত্তরপ্রদেশের আগ্রায় এক বছরের শিশুকন্যাকে যমুনা নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বাবার বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে স্ত্রীকেও সেতু থেকে নদীতে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন শিশুটির মা। নিখোঁজ শিশুটির সন্ধানে নদীতে তল্লাশি চালাচ্ছেন ডুবুরিরা।
ঘটনাটি ঘটেছে আগ্রার সিকান্দারা থানার আওতাধীন আকবরা যমুনা সেতুতে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম রিঙ্কু। তার স্ত্রী লক্ষ্মীর অভিযোগ, তারা এক বছরের মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে আগ্রা শহরের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।
লক্ষ্মীর ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে রিঙ্কু সেতুর ওপর মোটরসাইকেল থামিয়ে মেয়েকে নিয়ে সেলফি তুলতে চান। এরপর শিশুটিকে কোলে নিয়ে সেতুর রেলিংয়ের কাছে গিয়ে ছবি তোলেন তিনি। পরে সেখান থেকেই শিশুটিকে যমুনা নদীতে ফেলে দেন বলে অভিযোগ করেন লক্ষ্মী।
শিশুটিকে নদীতে ফেলে দেওয়ার পর তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে রিঙ্কু তাকেও সেতু থেকে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেছেন লক্ষ্মী। এ সময় তার চিৎকার শুনে আশপাশের পথচারীরা এগিয়ে আসেন।
পথচারীদের কাছে ঘটনার কথা জানান লক্ষ্মী। এরপর তারা রিঙ্কুকে আটক করে মারধর করেন এবং পরে পুলিশের হাতে তুলে দেন। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
এদিকে নিখোঁজ শিশুটিকে উদ্ধারে যমুনা নদীতে তল্লাশি শুরু হয়েছে। প্রাদেশিক সশস্ত্র কনস্ট্যাবুলারি (পিএসি) বাহিনীর ডুবুরিরা উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছেন। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শিশুটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় লক্ষ্মীর অভিযোগের ভিত্তিতে সিকান্দারা থানায় মামলা করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও বিস্তারিত জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।