বিচ্ছেদে এত টাকা! সাবেক স্ত্রীকে ৮ হাজার কোটি দেওয়ার নির্দেশ

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি খাতের ধনকুবের ও এসকে গ্রুপের চেয়ারম্যান চে তায়ে-ওনকে বিবাহবিচ্ছেদের পর সাবেক স্ত্রী রোহ সো-ইয়ংকে ৯৪৪ বিলিয়ন কোরিয়ান ওন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির আদালত। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৮ হাজার ২০০ কোটি টাকা।
বিবাহবিচ্ছেদ সংক্রান্ত এই বিপুল অর্থের রায়ের বিরুদ্ধে আবারও দেশটির সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছেন চে তায়ে-ওন। শনিবার তার আইনজীবীরা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
৯৪৪ বিলিয়ন ওনের এই অর্থের মূল্য প্রায় ৬৬ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার। দক্ষিণ কোরিয়ায় বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনায় সম্পদ বণ্টনের ক্ষেত্রে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় অঙ্কের রায়।
চে তায়ে-ওনের বয়স ৬৫ বছর। তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী এসকে গ্রুপের চেয়ারম্যান। প্রতিষ্ঠানটির অধীন এসকে হাইনিক্স বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় মেমোরি চিপ নির্মাতাদের একটি।
যেভাবে শুরু হয় বিচ্ছেদের মামলা
চে তায়ে-ওন ও রোহ সো-ইয়ং ১৯৮৮ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের তিন সন্তান রয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ধরেই তারা আলাদা বসবাস করছেন।
২০১৫ সালে চে তায়ে-ওন প্রকাশ্যে জানান, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের মাধ্যমে তার একটি সন্তান রয়েছে। এরপর থেকেই তাদের দাম্পত্য সম্পর্ক ও বিচ্ছেদের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
২০২৪ সালে সিউল হাইকোর্টের এক রায়ে চে তায়ে-ওনকে রোহ সো-ইয়ংকে ১ দশমিক ৩৮ ট্রিলিয়ন ওন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সে সময় এই অর্থের মূল্য ছিল ১০০ কোটি মার্কিন ডলারেরও বেশি।
চে ওই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করলে সর্বোচ্চ আদালত মামলাটি পুনর্বিবেচনার জন্য হাইকোর্টে পাঠিয়ে দেয়।
এরপর চলতি বছরের জুলাইয়ে সিউল হাইকোর্ট নতুন রায় দেয়। সেখানে আগের অঙ্ক কমিয়ে ৯৪৪ বিলিয়ন ওন নির্ধারণ করা হয়। তবে এই সিদ্ধান্তেও সন্তুষ্ট নন চে তায়ে-ওন। ফলে তিনি আবারও সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন।
সম্পদের এক-তৃতীয়াংশের দাবি
সিউল হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, বৈবাহিক সম্পদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পাওয়ার অধিকার রয়েছে রোহ সো-ইয়ংয়ের।
সম্পদ বণ্টনের ক্ষেত্রে চে তায়ে-ওনের এসকে গ্রুপের শেয়ারের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রোহ সো-ইয়ংয়ের পারিবারিক ভূমিকা এবং এসকে গ্রুপের কর্মকাণ্ডে তার সহযোগিতার বিষয়টিও আদালতের বিবেচনায় এসেছে।
চে তায়ে-ওনের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, মামলার বিভিন্ন দিক সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করেই সুপ্রিম কোর্টে আপিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসকে গ্রুপের ব্যবস্থাপনা ও শেয়ারহোল্ডারদের ওপর সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব কমানোর বিষয়টিও তারা বিবেচনা করছেন।
রোহ সো-ইয়ংয়ের আইনজীবীরা এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেননি।
শেয়ারবাজারেও পড়তে পারে প্রভাব
বিবাহবিচ্ছেদের সম্পদ বণ্টনের এই মামলা এসকে গ্রুপের শেয়ারবাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদমাধ্যম মানি টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চে তায়ে-ওন শেয়ার ও নগদ অর্থ মিলিয়ে সম্পদ বণ্টনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে রোহ সো-ইয়ং পুরো অর্থ নগদে দাবি করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে বিপুল অঙ্কের অর্থ পরিশোধের জন্য চে তায়ে-ওনকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ শেয়ার বিক্রি করতে হতে পারে। এতে এসকে গ্রুপের সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর শেয়ারের বাজারমূল্যে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
২০১৫ সালের ডিসেম্বরের পর থেকে এসকে গ্রুপের শেয়ারের দাম তিন গুণেরও বেশি বেড়েছে। একই সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির প্রসারের কারণে এসকে হাইনিক্সের মেমোরি চিপ ব্যবসার মূল্যও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।