তীব্র খরায় বদলে যাচ্ছে ইংল্যান্ডের চেনা প্রাকৃতিক দৃশ্য

তীব্র খরা ও দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক আবহাওয়ার প্রভাবে ইংল্যান্ডের চেনা সবুজ প্রকৃতি দ্রুত বিবর্ণ হয়ে পড়ছে। ঘাসে ঢাকা মাঠ, পাহাড়ি ঢাল ও পর্যটনকেন্দ্রগুলোর বিস্তীর্ণ এলাকা হারাচ্ছে সবুজ আচ্ছাদন। কোথাও কোথাও সবুজ ঘাসের জায়গা নিয়েছে বাদামি ও শুকনো মাটি।
দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে পানি সংকটও তীব্র হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে কৃষি, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ওপর। একই সঙ্গে শুষ্ক আবহাওয়া ও উচ্চ তাপমাত্রায় দাবানলের ঝুঁকিও বাড়ছে।
জুলাইয়ের শেষ দিকে ইংল্যান্ডের অর্ধেকের বেশি এলাকায় খরা পরিস্থিতি ঘোষণা করা হয়। এর আগে কয়েক দফা তাপপ্রবাহ এবং দীর্ঘ সময় বৃষ্টিহীন আবহাওয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। দেশটির ৪৮টি কাউন্টির মধ্যে ১৯টিতে জুলাই মাসজুড়ে খুব সামান্য বৃষ্টিপাত হয়েছে।
বৃষ্টির ঘাটতির কারণে জলাধার ও অন্যান্য পানির উৎসে মজুত কমে যাওয়ায় পানি ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে বিভিন্ন এলাকায়। বেশ কয়েকটি পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বাগানে পাইপ ও পানি ছিটানোর যন্ত্র ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।
এর ফলে সাধারণত সবুজে ঢাকা বাড়ির বাগান, পার্ক, মাঠ ও খোলা জায়গাগুলোও শুকিয়ে বাদামি হয়ে উঠছে। পানির ব্যবহার কমাতে বাসিন্দাদের বিভিন্নভাবে সচেতন করা হচ্ছে।
ইংল্যান্ডের দক্ষিণ উপকূলের বিখ্যাত পর্যটনকেন্দ্র বিচি হেডেও খরার প্রভাব স্পষ্ট। সাদা চুনাপাথরের পাহাড়, নীল সমুদ্র ও সবুজ ঘাসের সমন্বয়ে তৈরি মনোরম দৃশ্যের জন্য পরিচিত এলাকাটিতে এখন সবুজের উপস্থিতি অনেকটাই কমে গেছে।
দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক আবহাওয়ায় পাহাড়ের ঢালের ঘাস শুকিয়ে যাওয়ায় বিচি হেডের পরিচিত দৃশ্যপটে এসেছে বড় পরিবর্তন।
ঐতিহাসিক স্থাপনা স্টোনহেঞ্জের আশপাশেও একই পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। উইল্টশায়ারের এই বিখ্যাত প্রত্নস্থলের চারপাশের ঘাস ও উদ্ভিদ শুকিয়ে যাওয়ায় এলাকাটি আগের তুলনায় অনেক বেশি বাদামি ও শুষ্ক দেখাচ্ছে।
বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন আকর্ষণ স্টোনহেঞ্জের চারপাশের সবুজ প্রাকৃতিক পরিবেশ সাধারণত দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে। খরার কারণে সেই চেনা দৃশ্য এখন অনেকটাই বদলে গেছে।
দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক আবহাওয়ার প্রভাব পড়েছে উইন্ডসর ক্যাসলের আশপাশের এলাকাতেও। সাধারণত সবুজ ঘাস ও গাছপালায় ঘেরা এই ঐতিহাসিক স্থাপনার চারপাশে এখন শুকনো ও বাদামি জমির উপস্থিতি চোখে পড়ছে।
ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী সবুজ প্রাকৃতিক দৃশ্যের সঙ্গে এমন পরিবর্তন স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের কাছেও বেশ ব্যতিক্রমী।
বাড়ছে দাবানল ও পানি সরবরাহের ঝুঁকি
খরার সবচেয়ে বড় উদ্বেগগুলোর একটি হলো পানির ভবিষ্যৎ সরবরাহ। জলাধারগুলোর পানির স্তর কমে যাওয়ায় আগামী দিনগুলোতে পানি ব্যবস্থাপনা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে শুষ্ক মাটি, শুকিয়ে যাওয়া ঘাস এবং উচ্চ তাপমাত্রা বিভিন্ন এলাকায় দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে। কৃষিতেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে উষ্ণ ও শুষ্ক আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে মাটি, উদ্ভিদ ও কৃষির ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি হতে পারে। পরিবেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে পর্যাপ্ত ও নিয়মিত বৃষ্টিপাত প্রয়োজন।
ইংল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরে সবুজ মাঠ, ঘাসে ঢাকা পাহাড় ও মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্যের জন্য পরিচিত। কিন্তু সাম্প্রতিক তীব্র খরা সেই পরিচিত চিত্রে বড় পরিবর্তন এনেছে।
চরম আবহাওয়া, জলবায়ু পরিবর্তন ও পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে এই পরিস্থিতি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হলে ইংল্যান্ডের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিবেশ ও জনজীবনে খরার প্রভাব আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।