জাহাজ চলাচলে চীনের নির্দেশ, কড়া প্রতিবাদ তাইওয়ানের

টাইফুন ডলফিনের প্রভাবে তাইওয়ান প্রণালিতে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কার মধ্যে জাহাজ চলাচল নিয়ে চীনের দেওয়া নির্দেশের প্রতিবাদ জানিয়েছে তাইওয়ান। দেশটির মেইনল্যান্ড অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল (এমএসি) বলেছে, তাইওয়ানের জলসীমায় জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণের কোনো অধিকার চীনের নেই।
শনিবার (৮ আগস্ট) এক বিবৃতিতে এমএসি এ অবস্থান জানায়। শাফাক নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
টাইফুনের কারণে প্রণালিতে নৌ চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে—এমন পরিস্থিতিতে চীনের গুয়াংডং মেরিটাইম সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন দক্ষিণ দিক থেকে তাইওয়ান প্রণালিতে প্রবেশকারী জাহাজগুলোকে নির্দিষ্ট নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
তবে চীনের ওই নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করেছে তাইওয়ান।
এমএসি বলেছে, চীনের এ ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘের সমুদ্র আইনবিষয়ক কনভেনশনের (ইউএনক্লস) নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তাইওয়ানের কোস্টগার্ডও বাণিজ্যিক ও পণ্যবাহী জাহাজগুলোকে চীনের সম্প্রচারিত নির্দেশনা উপেক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছে। কোনো ধরনের বাধা বা হস্তক্ষেপের মুখে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে কোস্টগার্ডকে জানাতে বলা হয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত তাইওয়ান প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে অস্বাভাবিক কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলে জানিয়েছে তাইওয়ান।
চীনের দিকে এগোচ্ছে টাইফুন
টাইফুন ডলফিন ইতোমধ্যে জাপানের ওকিনাওয়া অঞ্চলে আঘাত হেনেছে। এরপর এটি উত্তর-পশ্চিম দিকে চীনের উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, রোববার রাত থেকে সোমবার ভোরের মধ্যে টাইফুনটি চীনের উপকূলে আঘাত হানতে পারে।
টাইফুনের প্রভাবে চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশে সর্বোচ্চ মাত্রার উপকূলীয় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে বেশ কয়েকটি বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ১৬২টি যাত্রীবাহী ফেরির চলাচল স্থগিত করা হয়েছে।
আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, টাইফুনের প্রভাবে ঝেজিয়াংয়ের কিছু এলাকায় ৬০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে।
জাপান ও তাইওয়ানেও প্রভাব
টাইফুন ডলফিনের প্রভাবে জাপানের ওকিনাওয়া অঞ্চলে পাঁচজন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া প্রায় ১৪ হাজার ভবনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
তাইওয়ানেও এর প্রভাব পড়েছে। দেশটিতে ৬৩টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
টাইফুনের কারণে আঞ্চলিক নৌ ও বিমান যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটলেও তাইওয়ান প্রণালিতে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো নৌ দুর্ঘটনা বা অস্বাভাবিক পরিস্থিতির খবর পাওয়া যায়নি।