রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • কপ-৩১: প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবায়নের পথে—তুরস্কে জলবায়ু কূটনীতির নতুন পরীক্ষা শহীদ ও আহত ১০ পরিবারের সদস্যদের সরকারি চাকরি দিলেন প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে হাইকমিশনারের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ‘পচা’ শেয়ারেই বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ, ডিএসইতে বড় উত্থান ঢাকা-রিয়াদ সরাসরি বিমান চলাচল শুরু তীব্র খরায় বদলে যাচ্ছে ইংল্যান্ডের চেনা প্রাকৃতিক দৃশ্য রোববার প্রথমবার চট্টগ্রামে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী হাসিনার রাজনৈতিক তৎপরতায় ভারতের দায় রয়েছে: সালাহউদ্দিন জাহাজ চলাচলে চীনের নির্দেশ, কড়া প্রতিবাদ তাইওয়ানের মেসিকে হত্যার পরিকল্পনা, বিশ্বকাপে নিরাপত্তা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য
  • তিন দশক পর এভারেস্ট থেকে উদ্ধার হচ্ছে ‘গ্রিন বুটস’

    তিন দশক পর এভারেস্ট থেকে উদ্ধার হচ্ছে ‘গ্রিন বুটস’
    ছবি : সংগৃহীত
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ার কাছাকাছি একটি পাথুরে খাঁজে প্রায় ৩০ বছর ধরে পড়ে আছে ‘গ্রিন বুটস’ নামে পরিচিত একটি মৃতদেহ। দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতের চূড়ায় ওঠার পথে এটি পর্বতারোহীদের কাছে ভয়াবহ এক পরিচিত চিহ্ন হয়ে ছিল।

    ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এখন বিশেষজ্ঞ উচ্চতাজনিত উদ্ধারকারী দল খুঁজছে, যারা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও কঠিন অভিযান চালিয়ে মৃতদেহটি এভারেস্ট থেকে নামিয়ে আনতে পারবে। কর্তৃপক্ষের ধারণা, দেহটি ১৯৯৬ সালে এভারেস্ট অভিযানে গিয়ে নিহত ভারতীয় পর্বতারোহী দোরজে মোরুপের।

    মোরুপ ছিলেন ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশের (আইটিবিপি) সদস্য। প্রায় তিন দশক ধরে বরফের নিচে পড়ে থাকা তার দেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভারতে নেওয়ার পর ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    এভারেস্ট জয়, ফেরার পথে মৃত্যু

    ১৯৯৬ সালে আইটিবিপির ছয় সদস্যের একটি দল চীনের নিয়ন্ত্রিত তিব্বত দিক দিয়ে এভারেস্টের চূড়ায় ওঠার অভিযান শুরু করে। তুষারঝড়ের কারণে দলের তিন সদস্য ফিরে গেলেও দোরজে মোরুপ, তসেওয়াঙ সামানলা ও তসেওয়াঙ পালজোর চূড়ার দিকে এগিয়ে যান।

    তিনজনই শেষ পর্যন্ত ৮ হাজার ৮৪৯ মিটার উচ্চতার এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছাতে সক্ষম হন। তবে ফেরার পথে ভয়াবহ তুষারঝড়ে তারা মারা যান।

    তিনজনের মধ্যে দুজনের মরদেহ আর কখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে সবুজ রঙের বুট পরা একটি মরদেহ পর্বতের প্রায় ৮ হাজার ৫০০ মিটার উচ্চতায় বরফের মধ্যে পড়ে থাকে। এ কারণেই সেটি ‘গ্রিন বুটস’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠে।

    এতদিন ধারণা করা হতো, মরদেহটি তসেওয়াঙ পালজোরের। তবে ১৯৯৬ সালের অভিযানে বেঁচে যাওয়া সদস্যদের বক্তব্য, শেষ রেডিও যোগাযোগের অবস্থান এবং পোশাক ও পর্বতারোহণের সরঞ্জাম বিশ্লেষণ করে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এখন মনে করছে, ‘গ্রিন বুটস’ আসলে দোরজে মোরুপের দেহ।

    আইটিবিপির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাদের কাছে থাকা তথ্য ও সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে মোরুপের পরিচয়ের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়া গেছে।

    উদ্ধার অভিযান হবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ

    এভারেস্টের ‘ডেথ জোন’ হিসেবে পরিচিত এলাকায় পড়ে থাকা মৃতদেহ উদ্ধার করা অত্যন্ত কঠিন। এই অঞ্চলে তাপমাত্রা মাইনাস ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যেতে পারে। একই সঙ্গে সমুদ্রপৃষ্ঠের তুলনায় অক্সিজেনের পরিমাণও থাকে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।

    ‘গ্রিন বুটস’-এর দেহ চীনের দিকের খাড়া ঢালে রয়েছে। সেখানে উদ্ধারকাজের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোও নেপালের দিকের তুলনায় সীমিত।

    পর্বতারোহণ বিশেষজ্ঞদের মতে, দেহটি উদ্ধার করতে ১০ থেকে ১২ জন দক্ষ ও অভিজ্ঞ পর্বতারোহীর প্রয়োজন হতে পারে। তাদের প্রথমে দেহটির অবস্থান পর্যন্ত পৌঁছে নিরাপদে দড়ি স্থাপন করতে হবে। এরপর হাতে করে মরদেহটি এমন উচ্চতায় নামাতে হবে, যেখানে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে তা সরিয়ে নেওয়া সম্ভব।

    তুষারে দীর্ঘদিন জমাটবদ্ধ থাকার কারণে মৃতদেহের ওজনও স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি হতে পারে। বরফ থেকে নিচে নামানোর পর দেহ গলতে শুরু করলে উদ্ধারকারীদের জন্য কাজটি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুরো অভিযানে বিপুল অর্থ ব্যয় হতে পারে। তুলনামূলক সহজ উদ্ধার অভিযানেও ৪০ হাজার থেকে ৮০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত খরচ হতে পারে।

    সেপ্টেম্বরের মধ্যে উদ্ধারের লক্ষ্য

    আইটিবিপি এবার নিজেরাই দোরজে মোরুপের দেহ উদ্ধারের অর্থায়ন করছে। কর্তৃপক্ষ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অভিযান শেষ করে মরদেহটি ভারতে ফিরিয়ে আনতে চায়।

    এ জন্য অভিজ্ঞ শেরপা ও উচ্চতাজনিত উদ্ধারকারী দল খোঁজা হচ্ছে। ভারতে মরদেহ পৌঁছানোর পর ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে। পরিচয় নিশ্চিত হলে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।

    তিন দশক ধরে অপেক্ষায় পরিবার

    মোরুপের স্ত্রী কনচাক ইয়াংস্কিট প্রায় ৩০ বছর ধরে স্বামীর ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন। তিনি জানান, মোরুপ অভিযানে যাওয়ার আগে তাকে বলেছিলেন, ফিরে এসে তিনি বিমানবন্দরে স্বাগত জানাবেন।

    স্বামীর মৃত্যুর খবর পেলেও মরদেহ না দেখায় দীর্ঘদিন তার মৃত্যু মেনে নিতে পারেননি ইয়াংস্কিট।

    তিনি বলেন, ‘আমি তার মৃতদেহ দেখিনি। তাই তার মৃত্যু মেনে নেওয়া আমার জন্য খুব কঠিন ছিল।’

    মোরুপের স্মৃতি হিসেবে পরিবারের কাছে রয়েছে তার কয়েকটি পদক, ট্রফি, অভিযানের ছবি এবং চীনা সরকারের দেওয়া এভারেস্ট জয়ের সনদ। ওই সনদে উল্লেখ রয়েছে, ১৯৯৬ সালের ১০ মে বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে মোরুপ এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছেছিলেন।

    মোরুপের ছেলে পুনচোক দোরজাই জানিয়েছেন, উদ্ধার অভিযান সফল হলে লাদাখের লেহতে তার বাবার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে।

    তিনি বলেন, তার বাবা দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন এবং তাকে একজন শহীদ হিসেবে স্মরণ করা উচিত। একই সঙ্গে মোরুপের সঙ্গে নিহত অন্য দুই পর্বতারোহীকেও একই মর্যাদা দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

    পরিবারের কাছে ‘গ্রিন বুটস’ও বিশেষ স্মৃতির প্রতীক হয়ে থাকবে। মোরুপের ছেলে জানিয়েছেন, উদ্ধার করা সম্ভব হলে তার বাবার ব্যবহৃত সবুজ বুটটি তারা সংরক্ষণ করতে চান।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন