আন্দোলনের মুখেও ধর্মেন্দ্র প্রধানকে কেন সরাচ্ছেন না মোদি?

ভারতে প্রশ্নফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র আন্দোলনের মুখে পড়েছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এক মাসের বেশি সময় ধরে রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলন সাম্প্রতিক সময়ে আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও এখনো নিজের পদে বহাল রয়েছেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ দমনে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছে। এতে অনেক আন্দোলনকারী আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোও শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে সংহতি জানিয়ে রাজপথে নেমেছে।
তবে এত চাপের পরও শিক্ষামন্ত্রীকে সরানোর কোনো উদ্যোগ নেয়নি বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার। ভারতের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি মোদি সরকারের সময়কার একটি ধারাবাহিক রাজনৈতিক প্রবণতার অংশ।
বিশ্লেষকদের মতে, মোদির শাসনামলে বড় ধরনের বিতর্ক বা জনদাবি তৈরি হলেও সাধারণত মন্ত্রীদের পদত্যাগের ঘটনা খুবই কম দেখা গেছে। সরকারের পক্ষ থেকে অনেক ক্ষেত্রেই মন্ত্রীদের পাশে থাকার নীতি অনুসরণ করা হয়েছে।
এর আগে ২০১৫ সালে উত্তর প্রদেশের দাদরিতে মোহাম্মদ আখলাক হত্যাকাণ্ডের পর তৎকালীন পর্যটনমন্ত্রী মহেশ শর্মার পদত্যাগের দাবি উঠেছিল। অভিযোগ ছিল, তিনি ঘটনাটিকে খাটো করে দেখেছিলেন। তবে তাকে মন্ত্রিসভা থেকে সরানো হয়নি।
২০১৬ সালে হায়দরাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের দলিত শিক্ষার্থী রোহিত ভেমুলার আত্মহত্যার ঘটনায় তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী স্মৃতি ইরানি ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বান্দারু দত্তাত্রেয়ের পদত্যাগের দাবি ওঠে। দেশজুড়ে আন্দোলন হলেও তারা পদে বহাল ছিলেন।
২০২১ সালে লখিমপুর খেরিতে কৃষক আন্দোলনের সময় সহিংসতার ঘটনায় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অজয় মিশ্র তেনির ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনার পরও দীর্ঘ সময় মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
মোদী সরকারের মেয়াদে বড় ধরনের চাপের মুখে মন্ত্রীর পদত্যাগের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল করোনা মহামারির দ্বিতীয় ঢেউয়ের পর। স্বাস্থ্য খাতের সংকট নিয়ে সমালোচনার মুখে তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন পদত্যাগ করেন।
মোদী সরকারের সমালোচকদের অভিযোগ, বর্তমান সরকার জনদাবি বা রাজনৈতিক চাপের মুখে মন্ত্রীদের সরানোর পরিবর্তে তাদের রাজনৈতিকভাবে সুরক্ষা দেওয়ার নীতি গ্রহণ করেছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা