শুক্রবারই পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন

অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আগামীকাল শুক্রবার (২৪ জুলাই) পদত্যাগ করতে পারেন বলে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো রাষ্ট্রপতি কার্যালয় কিংবা সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
সূত্রগুলোর দাবি, স্বাস্থ্যগত কারণ বিবেচনায় রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
বঙ্গভবনের একাধিক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, শুক্রবার রাষ্ট্রপতি তার পদত্যাগপত্র জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পাঠাতে পারেন। তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানিয়েছে, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে সময় লাগলে সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
রাজনৈতিক সূত্রগুলোর ভাষ্য, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়েও আলোচনা রয়েছে। বিএনপির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, দলীয় উচ্চপর্যায় থেকে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে পদত্যাগের বিষয়ে বার্তা দেওয়া হয়েছে।
মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন এবং একই বছরের ২৪ এপ্রিল দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
দায়িত্ব পালনকালে তিনি সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে ওপেন হার্ট সার্জারি করান। পরবর্তীতে যুক্তরাজ্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে গিয়ে হৃদযন্ত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্লক ধরা পড়লে তার সফলভাবে এনজিওপ্লাস্টি ও স্টেন্ট প্রতিস্থাপন করা হয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশত্যাগের প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ এবং ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং নতুন সরকারকে শপথ পাঠ করান।
এদিকে রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত সরকার বা বঙ্গভবনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না আসায় বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।