কাসেমিরোকে দলে টেনেই আইনি জটিলতায় ইন্টার মায়ামি

ব্রাজিলিয়ান তারকা মিডফিল্ডার কাসেমিরোকে দলে ভেড়ানোর পর বড় ধরনের আইনি জটিলতায় পড়েছে ইন্টার মায়ামি। মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) দলবদল ও চুক্তি সংক্রান্ত নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে ফ্লোরিডার ক্লাবটির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে লিগ কর্তৃপক্ষ।
এমএলএস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করা হবে না।
ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম ইএসপিএনের তথ্য অনুযায়ী, কাসেমিরোর সঙ্গে যোগাযোগের আগে তার ‘ডিসকভারি প্রায়োরিটি’ নেওয়া হয়নি—এমন অভিযোগ তুলেছে লস অ্যাঞ্জেলেস গ্যালাক্সি। এ কারণেই ইন্টার মায়ামির বিরুদ্ধে এমএলএসের কাছে অভিযোগ জানায় ক্লাবটি।
তবে ইন্টার মায়ামির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কাসেমিরোকে দলে নেওয়ার বিষয়ে তারা ইতোমধ্যে গ্যালাক্সির সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছে। এরপরও নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এমএলএস।
এমএলএসের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি ক্লাব সর্বোচ্চ পাঁচজন খেলোয়াড়কে ‘ডিসকভারি লিস্টে’ রাখতে পারে। কোনো খেলোয়াড় এই তালিকায় থাকলে ওই ক্লাব তার সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পায়।
কাসেমিরোর ক্ষেত্রে এই অধিকার ছিল লস অ্যাঞ্জেলেস গ্যালাক্সির। ফলে ইন্টার মায়ামিকে চুক্তি সম্পন্ন করতে হলে আগে গ্যালাক্সির কাছ থেকে সেই অধিকার নিতে হতো।
লিগের নিয়ম অনুযায়ী, অন্য কোনো ক্লাবের ডিসকভারি লিস্টে থাকা খেলোয়াড়কে দলে নিতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ক্লাবকে ৫০ হাজার ডলার জেনারেল অ্যালোকেশন মানি (জিএএম) দিয়ে খেলোয়াড়ের স্বত্ব নিতে হয়। অথবা আগ্রহী ক্লাবকে খেলোয়াড়ের জন্য একটি যৌক্তিক চুক্তির প্রস্তাব দিতে হয়।
গ্যালাক্সির সঙ্গে সমঝোতার পর ইন্টার মায়ামি কাসেমিরোর সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করে। ব্রাজিলিয়ান এই মিডফিল্ডারের সঙ্গে ২০২৭ সালের এমএলএস মৌসুম পর্যন্ত চুক্তি করেছে ক্লাবটি। তবে ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত চুক্তি বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন কাসেমিরো। তিনি জানিয়েছেন, গ্যালাক্সির সঙ্গে যোগাযোগ হলেও তিনি ইন্টার মায়ামিতে যোগ দিতে আগ্রহী ছিলেন। কারণ মায়ামি শহরের সঙ্গে তার ও তার পরিবারের বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে।
কাসেমিরো বলেন, মায়ামি এমন একটি শহর যেখানে তিনি, তার স্ত্রী ও সন্তানরা নিয়মিত সময় কাটান এবং শহরটির সঙ্গে তাদের ভালোবাসার সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।