স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় নার্স ও মিডওয়াইফ সংখ্যা বাড়ানোর আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেছেন, দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় নার্স ও মিডওয়াইফের সংখ্যা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। শুধু চিকিৎসক তৈরিতে জোর না দিয়ে এই খাতে জনবল বাড়ানোর বিষয়েও সমান গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে দুটি গবেষণার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। গবেষণাগুলো ছিল—বাংলাদেশে জনমিতিক লভ্যাংশ কাজে লাগাতে স্বাস্থ্যকর্মীদের ভূমিকা এবং বিভিন্ন মহামারি মোকাবিলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রস্তুতি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে চিকিৎসকের সংখ্যা মোটামুটি পর্যাপ্ত হলেও তাদের বড় অংশই বেসরকারি খাতে কাজ করেন। অন্যদিকে, গ্রাম ও শহরের মধ্যে চিকিৎসকের বণ্টনে বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ গ্রামে বসবাস করলেও চিকিৎসকদের বড় অংশ শহরকেন্দ্রিক। এই বৈষম্য দূর করা জরুরি।
ড. এম এ মুহিত ফিজিওথেরাপিস্টসহ অন্যান্য স্বাস্থ্য সহায়ক পেশার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এসব পেশার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা এখনও যথাযথ স্বীকৃতি ও আলোচনার বাইরে রয়েছে। এসব খাতে সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর ওপর তিনি জোর দেন।
তিনি আরও বলেন, চিকিৎসকদের বিদেশে পাঠালেই রেমিট্যান্স বাড়বে—এমন ধারণা সঠিক নয়, কারণ অনেকেই বিদেশে স্থায়ীভাবে থেকে যান।
স্বাস্থ্যখাতের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডাক্তারদের ওপর অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে সামগ্রিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রয়োজন। মহামারি মোকাবিলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের ভূমিকা ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ থাকবে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, শহরের তুলনায় গ্রামে চিকিৎসকের ঘাটতি বেশি অনুভূত হয়। এ ভারসাম্য আনতে কাজ চলছে এবং তৃণমূল পর্যায়ে সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ইসরাত জামান এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসমীমসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।