ভেজাল ও দূষিত খাদ্যে বছরে ১৫ লাখ মৃত্যু, ঝুঁকিতে সবচেয়ে বেশি শিশুরা: ডব্লিউএইচও

বিশ্বজুড়ে অনিরাপদ ও দূষিত খাদ্য একটি বড় জনস্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, প্রতি বছর প্রায় ৮৬ কোটি ৬০ লাখ মানুষ খাদ্যবাহিত রোগে আক্রান্ত হন এবং এর ফলে প্রায় ১৫ লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) প্রকাশিত ডব্লিউএইচওর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরা খাদ্যজনিত রোগে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। এই বয়সী শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার হার প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি। যদিও তারা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার মাত্র ৯ শতাংশ, তবুও খাদ্যবাহিত রোগের উল্লেখযোগ্য অংশ এই বয়সী শিশুদের মধ্যে দেখা যায়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নিরাপদ পানি সরবরাহ, উন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য প্রস্তুত ও সংরক্ষণ এবং সহজলভ্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা গেলে এসব রোগ ও মৃত্যুর বড় অংশ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক ড. তেদ্রোস আদহানোম গেব্রেয়েসুস বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা কেবল একটি নীতিগত বিষয় নয়; এটি প্রতিটি মানুষের দৈনন্দিন জীবন, পরিবার এবং স্বাস্থ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও পরজীবীর কারণে অধিকাংশ খাদ্যবাহিত রোগ সৃষ্টি হলেও মৃত্যুর ক্ষেত্রে রাসায়নিক দূষণের প্রভাব বেশি। বিশেষ করে সিসা ও অজৈব আর্সেনিকের মতো বিষাক্ত উপাদান হৃদ্রোগ, ক্যানসারসহ বিভিন্ন জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে খাদ্যজনিত মৃত্যুর প্রায় ৭৩ শতাংশের পেছনে রাসায়নিক দূষণ দায়ী ছিল। সিসা ও আর্সেনিকের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী ১০ লাখেরও বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
স্বাস্থ্যঝুঁকির পাশাপাশি অনিরাপদ খাদ্য বিশ্ব অর্থনীতিতেও বড় ধরনের ক্ষতি করছে। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, ২০২১ সালে খাদ্যবাহিত রোগের কারণে উৎপাদনশীলতা হ্রাস ও অন্যান্য অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ ছিল প্রায় ৩১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। জীবনযাত্রার ব্যয়ের সমন্বয় করলে এ ক্ষতির পরিমাণ ৬৪৭ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছায়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আফ্রিকা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চল খাদ্যবাহিত রোগের সবচেয়ে বড় বোঝা বহন করছে। বিশ্বব্যাপী আক্রান্তের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ এবং মৃত্যুর প্রায় ৬০ শতাংশ এই দুই অঞ্চলে ঘটছে।
ডব্লিউএইচও আরও সতর্ক করেছে যে, জলবায়ু পরিবর্তন, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি এবং খাদ্য ব্যবস্থাপনায় বৈষম্য ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার সংকট আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারগুলোকে খাদ্য নিরাপত্তা তদারকি জোরদার, কার্যকর আইন প্রয়োগ এবং প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।