স্মৃতিতে ভাসছে ‘ম্যায় হুঁ না’, ২২ বছর পরও হিট

২০০৪ সালের ৩০ এপ্রিল। বলিউড বক্স অফিসে মুক্তি পেয়েছিল এক অন্যরকম মেজাজের সিনেমা—‘ম্যায় হুঁ না’। আজ সেই মুক্তির ২২ বছর পূর্ণ হলো। কলেজ লাইফ, প্রেম, অ্যাকশন আর দেশপ্রেমের এক অপূর্ব মিশেলে তৈরি এই ছবিটি আজও দর্শকদের কাছে সমানভাবে জনপ্রিয়। পরিচালক হিসেবে ফারাহ খানের অভিষেক এই ছবির মাধ্যমেই ঘটেছিল, যা তাঁকে রাতারাতি সেরার তালিকায় নিয়ে আসে।
অনিশ্চয়তা কাটিয়ে সাফল্যের চূড়ায়
ছবির শুরুটা মোটেও মসৃণ ছিল না। ২০০১ সালে শুটিং চলাকালীন শাহরুখ খান ‘শক্তি: দ্য পাওয়ার’ ছবির সেটে গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে যান। দীর্ঘ বিরতির পর সুস্থ হয়ে ফিরে এসে তিনি পুনরায় শুটিং শুরু করেন। এমনকি ছবির নাম নিয়েও ছিল দ্বিধা। ফারাহ খান চেয়েছিলেন ‘দ্য আউটসাইডার’ নাম রাখতে, কিন্তু পরে টাইটেল ট্র্যাক শোনার পর শাহরুখের পছন্দে ‘ম্যায় হুঁ না’ নাম চূড়ান্ত হয়।
কাস্টিং ও চরিত্রের অদলবদল
ছবির প্রতিটি চরিত্রই আজ আইকনিক, তবে শুরুর পরিকল্পনা ছিল ভিন্ন:
-
লাকি ও সাঞ্জু: ‘লাকি’ চরিত্রে হৃতিক রোশন বা ফারহান আখতারের বদলে আসেন জায়েদ খান। অন্যদিকে অমৃতা রাওয়ের ‘সাঞ্জু’ চরিত্রটি করার কথা ছিল আমিশা প্যাটেল বা আয়েশা টাকিয়ার।
-
চাঁদনী: সুস্মিতা সেনের সেই মোহময়ী ‘চাঁদনী’ চরিত্রটির জন্য প্রথমে ঐশ্বরিয়া রাইয়ের কথা ভাবা হয়েছিল।
-
ভিলেন রাঘবন: কমল হাসান ও নানা পাটেকার ফিরিয়ে দেওয়ার পর সুনীল শেট্টি এই চরিত্রে অনবদ্য অভিনয় করেন।
দার্জিলিংয়ের শুটিং ও গানের নেপথ্যে
দার্জিলিংয়ের সেন্ট পলস স্কুলে চিত্রায়িত এই ছবির গানগুলো আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে। ‘চলে যেমন হাওয়া’ গানটি কোনো কাট ছাড়াই এক টেকে শুট করা হয়েছিল। ‘তুমসে মিলকে দিল কা’ কাওয়ালির স্টেপ নিয়ে শাহরুখের সংশয় থাকলেও ফারাহর জেদেই সেটি শেষ পর্যন্ত ছবির অন্যতম আকর্ষণ হয়ে দাঁড়ায়। এমনকি পোশাক বিভ্রাটের কারণে শুটিংয়ে নিজের ড্যান্সার দলের পোশাক ব্যবহার করেও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছিলেন ফারাহ।
বক্স অফিস ও প্রাপ্তি
মাত্র ১৫ কোটি টাকা বাজেটে নির্মিত এই সিনেমা বিশ্বজুড়ে প্রায় ৮৪ কোটি টাকা আয় করে সে বছরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যবসা সফল ছবির তকমা পায়। অনু মালিক এই ছবির জন্য ফিল্মফেয়ারে সেরা সংগীত পরিচালকের পুরস্কার জিতে নেন। আজও ‘ম্যায় হুঁ না’ মানেই এক প্রজন্মের সোনালী স্মৃতি আর বুক ভরা আনন্দ।