শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • রাজধানীতে নতুন ৪ থানার পরিকল্পনা, একটির প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে: ডিএমপি কমিশনার চুক্তি হলেও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণে ইরানের প্রভাব অটুট থাকবে: সাবেক মার্কিন উপদেষ্টা মুমিনুলের ৯১ রানে আক্ষেপ, মুশফিকের সঙ্গে জুটিতে এগোচ্ছে বাংলাদেশ পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী নিয়ে সিদ্ধান্ত আজ গঠনমূলক সমালোচনাই গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে: রিজভী এনসিপির প্রস্তাব, রাজনৈতিক চাপ ও আত্মগোপন—যা ঘটছে মনজুর আলমকে ঘিরে ‘রাজনীতিতে এখনো কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি’, রবীন্দ্রজয়ন্তীতে মির্জা ফখরুলের আক্ষেপ শান্তর দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে ঘুরে দাঁড়াল বাংলাদেশ, মুমিনুলের ব্যাটও জ্বলে উঠল আজ বিশ্ব গাধা দিবস: অবহেলিত অথচ পরিশ্রমী প্রাণীর প্রতি সম্মান জানানোর দিন বিপিএল দুর্নীতি তদন্তে বড় সিদ্ধান্ত, স্থগিত ৪ জন, বহিষ্কার ১
  • এনসিপির প্রস্তাব, রাজনৈতিক চাপ ও আত্মগোপন—যা ঘটছে মনজুর আলমকে ঘিরে

    এনসিপির প্রস্তাব, রাজনৈতিক চাপ ও আত্মগোপন—যা ঘটছে মনজুর আলমকে ঘিরে
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) সাবেক মেয়র ও ব্যবসায়ী মোহাম্মদ মনজুর আলমকে ঘিরে চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-তে তার যোগদানের গুঞ্জন চলছিল।

    দলটির পক্ষ থেকে তাকে চট্টগ্রাম মহানগরের গুরুত্বপূর্ণ পদ ও আসন্ন চসিক নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলেও জানা গেছে। তবে রাজনৈতিক চাপ, সমালোচনা ও পারিবারিক পরামর্শের কারণে শেষ পর্যন্ত তিনি আড়ালে চলে গেছেন বলে জানিয়েছেন ঘনিষ্ঠরা।

    সূত্রগুলো বলছে, এনসিপির কয়েকজন কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতা দীর্ঘদিন ধরেই মনজুর আলমকে দলে আনার চেষ্টা করছিলেন। রমজানে নগরের একটি কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এনসিপির ইফতার অনুষ্ঠানে তার প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে অনুদান দেওয়া হয়। ওই অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত পানির বোতলে মনজুর আলমের ছবি থাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে।

    পরবর্তীতে এনসিপির শীর্ষ নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ চট্টগ্রামে মনজুর আলমের বাসভবনে গিয়ে সাক্ষাৎ করলে গুঞ্জন আরও জোরালো হয়। এরপর বৃহস্পতিবার (৭ মে) এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের চট্টগ্রাম সফর ঘিরে ধারণা তৈরি হয়, সেদিনই হয়তো আনুষ্ঠানিকভাবে দলে যোগ দিতে পারেন তিনি।

    তবে শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। ঘনিষ্ঠজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় মনজুর আলম পিছু হটেন। বিএনপি ও আওয়ামী লীগ—দুই পক্ষ থেকেই সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। অনেকেই তার অতীত রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে আনেন। রাজনৈতিক উপদেষ্টারাও তাকে সতর্ক করেন যে, এনসিপির সঙ্গে জামায়াতের রাজনৈতিক সমঝোতা থাকায় দলটির ব্যানারে নির্বাচন করলে নির্দিষ্ট ভোটব্যাংক হারানোর ঝুঁকি রয়েছে।

    এদিকে গত ১৪ এপ্রিল হাসনাত আবদুল্লাহর মনজুর আলমের বাসায় যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বৈঠক শেষে বের হওয়ার সময় ক্ষুব্ধ বিএনপি নেতাকর্মীরা হাসনাতকে ঘিরে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করেন। পরে পুলিশ তাকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়। সেই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মনজুর আলমের ওপর চাপ আরও বাড়ে।

    পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে, বুধবার থেকেই তিনি লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যান বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র। বৃহস্পতিবার দিনভর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তার বাসা ও অফিসে খোঁজ নিয়েও অবস্থান নিশ্চিত হতে পারেননি।

    মনজুর আলমের ছেলে সরওয়ার উল আলম জানিয়েছেন, পারিবারিক ও ব্যবসায়িক পরিস্থিতি বিবেচনায় তার বাবা আপাতত কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হচ্ছেন না। তিনি কিছুদিন নীরব থাকবেন বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন।

    উল্লেখ্য, মোহাম্মদ মনজুর আলম প্রথমে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে ২০১০ সালে বিএনপির সমর্থনে চসিক মেয়র নির্বাচিত হন। এরপর বিভিন্ন সময়ে আবার আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা দেখা যায় তার। সর্বশেষ ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কখনও বিএনপি, আবার কখনও এনসিপির সঙ্গে তার যোগাযোগের খবর সামনে আসে।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন