চুক্তি হলেও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণে ইরানের প্রভাব অটুট থাকবে: সাবেক মার্কিন উপদেষ্টা

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ভবিষ্যতে কোনো শান্তি বা কূটনৈতিক চুক্তি হলেও হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের কৌশলগত প্রভাব দীর্ঘ সময় ধরে অটুট থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক মার্কিন জ্বালানি ও মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক উপদেষ্টা আমোস হোচস্টাইন।
ব্লুমবার্গকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বাস্তব পরিস্থিতিতে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে ইরানের প্রভাব কমে যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই সীমিত। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো কাগজে-কলমে নৌপথ উন্মুক্ত রাখার আশ্বাস দিতে পারে, তবে উপসাগরীয় দেশগুলো কার্যত সেই নিশ্চয়তায় আস্থা রাখে না, কারণ এই অঞ্চলে ইরানের প্রভাব এখনো অত্যন্ত শক্তিশালী।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমন ও সম্ভাব্য আলোচনা চললেও পরিস্থিতি জটিল রয়ে গেছে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ইরানের প্রতি কঠোর অবস্থান এবং আলোচনায় অগ্রগতি না হলে সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিতও রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে ইরান হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও উন্মুক্ত প্রবাহ নিশ্চিত করার বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা শিথিল ও পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দিলেও যুক্তরাষ্ট্র তা গ্রহণ করেনি বলে জানা গেছে।
চলমান উত্তেজনার প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। কুয়েত ও বাহরাইনের তেল রপ্তানি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। কাতার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত বিকল্প পাইপলাইনের মাধ্যমে আংশিক রপ্তানি চালিয়ে যাচ্ছে, আর ইরাক বিকল্প রুট ব্যবহারের চেষ্টা করছে।
হোচস্টাইন আরও বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে দামের বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। কাগজে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এক রকম দেখালেও বাস্তবে অনেক দেশকে আরও বেশি মূল্য দিতে হচ্ছে। দরিদ্র দেশগুলোতে এই চাপ আরও প্রকট হয়ে উঠছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, এই জ্বালানি সংকট ধীরে ধীরে এশিয়ার বিভিন্ন দেশ হয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ বিকল্প জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তুলতে বড় ধরনের বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকছে।