হৃদয়বিদারক মুহূর্তে সেলিনা জেটলি

বলিউড অভিনেত্রী সেলিনা জেটলি ব্যক্তিগত জীবনে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। স্বামীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন তিনি। বর্তমানে তাদের মধ্যে বিচ্ছেদের মামলা চলছে।
সব ঝড় পেরিয়ে হাসির আড়ালে জীবনের কঠিন বাস্তবতাকে লুকিয়ে রেখেছেন অভিনেত্রী।
জীবনের কঠিন এই বাস্তবতায় মানসিকভাবে নিজেকে শক্ত রাখলেও বহু রাতে একা কেঁদেছেন সেলিনা। বুকভরা কষ্ট নিয়ে ভেবেছেন, সব ছেড়ে চলে যাওয়াই হয়তো সহজ পথ।
স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ ও সন্তানদের অধিকার ফিরে পাওয়ার আইনি লড়াইয়ের মাঝে এবার পুত্রশোকে ভেঙে পড়লেন এই নায়িকা। সম্প্রতি নিজের প্রয়াত ছেলে শামশেরের কবরের সামনে দাঁড়িয়ে অঝোরে কাঁদার একটি হৃদয়বিদারক ভিডিও শেয়ার করেছেন তিনি।
একইসঙ্গে তুলে ধরেছেন তার জীবনের বর্তমান চরম সংকটের কথা। ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ছোট ছেলে শামশেরের কবরের পাশে বিষণ্ণ মনে দাঁড়িয়ে আছেন সেলিনা। ভিডিওটির ক্যাপশনে তিনি তার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ট্রমার কথা বিশ্ববাসীকে জানিয়েছেন।
সেলিনা লেখেন, ‘একজন মা হিসেবে নিজের ট্রমা বিশ্ববাসীকে দেখানোর জন্য এই হৃদয়বিদারক ভিডিওটি শেয়ার করা ছাড়া আমার আর কোনো উপায় ছিল না। গত কয়েক সপ্তাহ আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় ছিল। আমি আমার বিবাহবিচ্ছেদের শুনানির জন্য অস্ট্রিয়ায় ছিলাম। অস্ট্রিয়ান বিচারকের কাছে অঙ্গীকার করা সত্ত্বেও আমার সন্তানদের বৈবাহিক আবাসে ফিরিয়ে আনা হয়নি, উল্টো তাদের অজ্ঞাত স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।’
নিজের কষ্টের কথা প্রকাশ করে অভিনেত্রী আরও বলেন, ‘আমার সন্তানদের মধ্যে কেবল ছেলে শামশেরের সাথেই আমার দেখা হয়েছে, যে কিছুদিন আগে মারা গেছে। এটি এমন একজন মায়ের গল্প, যিনি সন্তানদের জন্মের দিন থেকে তাদের জন্য সবকিছু করেছেন। কেবল স্বামীর ক্যারিয়ার ও উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে সমর্থন করার জন্য আমি নিজের দেশ, বাবা-মা এবং কর্মস্থল ছেড়ে ভারত থেকে দুবাই, সিঙ্গাপুর ও অস্ট্রিয়ায় বারবার আবাসন পরিবর্তন করেছি।’
দীর্ঘদিন ক্যামেরার আলো থেকে দূরে আছেন সেলিনা। বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে নিজের ভেতরেই খুঁজে নিয়েছেন শক্তি। সময়ের সঙ্গে হয়েছেন আরও দৃঢ়, আত্মবিশ্বাসী।
গ্ল্যামারের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এই লড়াই যেন মনে করিয়ে দেয়, মানসিক স্বাস্থ্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সেলিনা জেটলি দেখিয়ে দিয়েছেন- সময়টা যত কঠিনই হোক, আত্মশক্তিই পারে মানুষকে নতুন করে দাঁড় করাতে।
দৈএনকে/জে, আ