শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম

অসমাপ্ত এক সম্ভাবনার নাম মিশু সাব্বির

অসমাপ্ত এক সম্ভাবনার নাম মিশু সাব্বির
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

বাংলা নাটকের দর্শকদের কাছে মিশু সাব্বির এমন একজন নাম, যার কথা মনে পড়লে একই সাথে ঠোঁটের কোণে হাসি আর বুকের ভেতর এক চিলতে আক্ষেপ জমা হয়। ক্যারিয়ারের শুরুতে যে অদম্য সম্ভাবনা আর প্রতিভার আলো নিয়ে তিনি পর্দায় হাজির হয়েছিলেন, তা তাকে সমকালীন অভিনেতাদের থেকে আলাদা করে চিনিয়েছিল। তবে সময়ের আবর্তে সেই মুগ্ধতা আর অভিনয়ের গভীরতা যেন একঘেয়ে চরিত্রের ভিড়ে হারিয়ে গেছে। বর্তমানে সুদূর কানাডায় প্রবাস জীবন কাটানো এই অভিনেতাকে নিয়ে ভক্তদের মনে এখন কেবলই এক শূন্যতার হাহাকার।

‘হাউজফুল’ থেকে ‘হ্যালো’: এক অন্য মিশুর উত্থান

আজকের প্রজন্মের কাছে মিশু সাব্বির মানেই হয়তো ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এর সেই বরিশালের টানে কথা বলা মজার কোনো চরিত্র। কিন্তু যারা একটু পুরনো দর্শক, তাদের কাছে মিশু মানেই ‘হাউজফুল’ নাটকের সেই নিষ্পাপ চেহারার ছোট ছেলেটি। বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে আর দুই বড় বোনের আদরের সেই ভাইয়ের চরিত্রটি ছিল ভীষণ মায়াবী ও দায়িত্বশীল। বন্ধুর আড্ডা কিংবা প্রেম—সব ছাপিয়ে মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সেই সংবেদনশীল মিশু আজও দর্শকের হৃদয়ে গেঁথে আছে।

অভিনয় জীবনের আরেকটি মাইলফলক ছিল ‘হ্যালো’ নাটক। মোশাররফ করিমের মতো দাপুটে অভিনেতার বিপরীতে তাল মিলিয়ে অভিনয় করাটা সহজ ছিল না। কিন্তু মিশু সেটি অবলীলায় করে দেখিয়েছেন। সেই নাটকের বিখ্যাত সংলাপ—“আপনার প্রতি যে সম্মান ছিল, তার ওপর আপনি পানের পিচকারী ফালায়া দিলেন” কিংবা রবিন সাহেবের উটকো অতিথিকে নিয়ে সেই ‘জাবেদা’ তৈরির কৌতুক আজও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরে বেড়ায়। ‘চৈতা পাগল’, ‘অল টাইম দৌড়ের উপর’ কিংবা ‘লাইক অ্যান্ড শেয়ার’-এর মতো কাজগুলো তাকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে গিয়েছিল।

একঘেয়েমি আর বৈচিত্র্যের সংকট

সাফল্যের তুঙ্গে থাকা অবস্থায় মিশু সাব্বির যেন ধীরে ধীরে একই ঘরানার চরিত্রের ভেতর বন্দি হয়ে পড়েন। বাংলা নাটকের সেই চিরচেনা ‘ব্যাচেলর’ ধাঁচের চরিত্রে বারবার ফিরে আসায় তার অভিনয়ের গভীরতা ও বৈচিত্র্য কমতে থাকে। যদিও মাঝখানে ‘ডিভোর্স ফটোগ্রাফি’র মতো কাজ দিয়ে ভিন্ন কিছু করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু সেই শুরুর দিকের সেই চিরচেনা মিশু যেন আর পুরোপুরি ফিরে আসেননি। দর্শক তাকে গভীর ও নিরেট চরিত্রে দেখতে চাইলেও, চিত্রনাট্যকার ও নির্মাতারা তাকে কমেডি ঘরানার গণ্ডিতেই আটকে রেখেছিলেন।

প্রবাস জীবন ও ফেরার অপেক্ষা

বর্তমানে মিশু সাব্বির অভিনয় থেকে দূরে গিয়ে সপরিবারে কানাডায় বসবাস করছেন। কেন হুট করে এই প্রস্থান? কেন এক উজ্জ্বল সম্ভাবনা থমকে গেল বিদেশে? এই প্রশ্নগুলো ভক্তদের মনে বারংবার ঘুরপাক খায়। একজন প্রিয় অভিনেতাকে পর্দায় না দেখার এই শূন্যতা তাকে ঘিরে দর্শকদের এক বড় আক্ষেপে পরিণত করেছে।

মিশু সাব্বির কি আবার ফিরবেন? ‘হাউজফুল’ বা ‘হ্যালো’-এর সেই শক্তিশালী ও সরল মিশুকে কি আবার দেখা যাবে? এই প্রশ্নের উত্তর হয়তো সময় দেবে। তবে বাংলা নাটকের ইতিহাসে তিনি এক অসমাপ্ত সম্ভাবনার নাম হয়ে থাকবেন—যার অভিনয় প্রতিভার পূর্ণ বিকাশ দেখার তৃষ্ণা দর্শকদের মিটবে না কখনোই। তিনি ফিরে এলে তা হবে দর্শকদের জন্য বড় এক পাওনা, আর না ফিরলে তিনি থেকে যাবেন কেবল এক মায়াবী স্মৃতির আড়ালে।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ