ঈশ্বরগঞ্জে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৪২০ কেজি চাল উদ্ধার

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় সরকারের দরিদ্রবান্ধব খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির আওতায় বিতরণের জন্য নির্ধারিত ১৫ টাকা কেজি দরের ১৪ বস্তা চাল অবৈধভাবে মজুদ করার অভিযোগে জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। উদ্ধার করা চালের মোট পরিমাণ ৪২০ কেজি।
শনিবার বিকেলে উপজেলার ঈশ্বরগঞ্জ ইউনিয়নের জয়পুর গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে জয়পুর গ্রামের বাসিন্দা ইছাক মিয়ার ছেলে জুবায়ের (২২)-এর বসতঘর ও দোকানে তল্লাশি চালিয়ে চালগুলো উদ্ধার করা হয়।
শনিবার (১৪ মার্চ) বিকেলে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের যৌথ অভিযানে এসব চাল জব্দ করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা রহমানের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় ঈশ্বরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক খলিলুর রহমানসহ পুলিশের একটি দল উপস্থিত ছিল। অভিযানে স্থানীয় বাসিন্দা জুবায়েরের কাছ থেকে চালগুলো উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল কিছু অসাধু ব্যক্তি অবৈধভাবে সংগ্রহ করে বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে মজুদ করছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব চাল মূলত নিম্ন আয়ের দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য সরকার নির্ধারিত বিশেষ সহায়তা হিসেবে বরাদ্দ করা হয়। কিন্তু অসাধু চক্রের মাধ্যমে এসব চাল বাজারে চলে গেলে প্রকৃত দরিদ্র মানুষ বঞ্চিত হন এবং সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে জুবায়েরের বসতঘর ও দোকানে তল্লাশি চালায়। তল্লাশির সময় সরকারি সিলমোহরযুক্ত ৩০ কেজি ওজনের ১৪ বস্তা চাল উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা রহমান বলেন, সরকারের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দকৃত খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল অবৈধভাবে মজুদ বা বিক্রির চেষ্টা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দরিদ্র মানুষের প্রাপ্য খাদ্য যাতে কেউ আত্মসাৎ করতে না পারে সে জন্য উপজেলা প্রশাসনের নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও জানান, জব্দকৃত চাল বর্তমানে উপজেলা পরিষদে প্রশাসনের হেফাজতে রাখা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে আগামী সোমবার এসব চাল প্রকৃত দরিদ্র, দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে বিতরণ করা হবে।
এ ঘটনায় স্থানীয় সংসদ সদস্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, গরিব মানুষের প্রাপ্য চাল কেউ যেন আত্মসাৎ করতে না পারে—এ ব্যাপারে কোনো আপস করা হবে না। গরিবের চাল মেরে খাওয়ার চেষ্টা করলে সে যেই হোক, তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে ব্যবসায়ী, ডিলার ও মধ্যসত্বভোগীদের সতর্ক করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কেউ যদি এ ধরনের চাল অবৈধভাবে মজুদ বা বিক্রির তথ্য দিতে পারেন, তাহলে তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে এবং তাকে পুরস্কৃত করা হবে। অনিয়মের পক্ষে কেউ সুপারিশ করলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল নিয়ে অনিয়ম অনেকটাই কমবে এবং প্রকৃত উপকারভোগীরা তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পাবেন।