জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১তম ব্যাচের ছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ৫১তম ব্যাচের এক নারী শিক্ষার্থী শারমিন জাহান রহস্যজনক পরিস্থিতিতে মারা গেছেন। রোববার (১৫ মার্চ) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ইসলামনগর এলাকার ভাড়া বাসা থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শারমিন বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
নিহতের স্বামী ফাহিম জানান, সকালে তারা দুজন ঢাকায় মোবাইল ফোন কেনার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে শারমিন শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় (লো ব্লাড প্রেসার) ফাহিম একাই ঢাকায় যান। পরবর্তীতে ঢাকার থেকে একাধিকবার মেসেজ দিলেও শারমিন কোনো উত্তর দেননি।
দুপুর ২টা থেকে ৩টার মধ্যে ফাহিম বাসায় ফিরে সামনের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ দেখতে পান। বারবার ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়া না পাওয়ায় বাড়িওয়ালার পরামর্শে পেছনের দরজা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে তিনি মেঝেতে মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত ও রক্তাক্ত অবস্থায় শারমিনকে পড়ে থাকতে দেখেন।
পরবর্তীতে ফাহিম ও বাড়িওয়ালার সহযোগিতায় শারমিনকে দ্রুত সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ফাহিম আরও জানান, বাসায় যাওয়ার জন্য তারা একটি লাগেজ গুছিয়ে রেখেছিলেন, যা এলোমেলো অবস্থায় পড়ে ছিল। এ ছাড়া ঘটনার পর শারমিনের মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপও পাওয়া যায়নি। এই পরিস্থিতি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বা ডাকাতি সন্দেহকে জন্ম দিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, “খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পুলিশ প্রশাসনকে অনুরোধ জানিয়েছে।”
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুবেল হাওলাদার বলেন, “পুলিশ ঘটনাস্থলে কাজ করছে। নিবিড় তদন্তের জন্য ইতোমধ্যে ডিবি ও সিআইডি ডাকা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্ত চলছে, তাই এখনই নির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য দেওয়া যাচ্ছে না।”