সুখী দাম্পত্য জীবন মানসিক চাপ হ্রাস করে ও দীর্ঘায়ু বাড়ায়

আধুনিক জীবনের ব্যস্ততা, কাজের চাপ, আর্থিক উদ্বেগ এবং মানসিক টেনশন—এসব কারণে পুরুষদের মধ্যে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে কর্মব্যস্ত পুরুষদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। তবে সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, পারিবারিক ভালোবাসা ও দাম্পত্য ঘনিষ্ঠতা পুরুষদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
গবেষণা অনুযায়ী, স্ত্রীর সঙ্গে সময় কাটানো, একসাথে অবসর যাপন করা, কথা বলা বা ছোট আনন্দ ভাগাভাগি করা স্বামীর মানসিক চাপ কমায়, মস্তিষ্ক সক্রিয় রাখে এবং হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখে।
মানসিক চাপ কমে যায়
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত স্ত্রীর সঙ্গে সময় কাটান, তাদের মানসিক চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কম থাকে। কথা বলা বা হাঁটতে যাওয়া মস্তিষ্কে সুখের হরমোন নিঃসৃত করে, যা স্ট্রেস হরমোন কর্টিসল কমিয়ে দেয়। ফলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে।
মস্তিষ্ক সুস্থ থাকে
ভারতের AIIMS-এর গবেষণায় দেখা গেছে, যারা পরিবার ও স্ত্রীর সঙ্গে নিয়মিত সময় কাটান, তাদের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বেশি থাকে। কথোপকথন, স্মৃতি ভাগাভাগি বা পরিকল্পনা করা মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে এবং রক্ত চলাচল উন্নত করে, ফলে স্ট্রোকের সম্ভাবনা কমে।
শারীরিক কার্যকলাপ বৃদ্ধি পায়
স্ত্রীর সঙ্গে অবসর যাপন প্রাকৃতিকভাবে শারীরিক কার্যকলাপ বাড়ায়। বাংলাদেশ হার্ট ফাউন্ডেশনের গবেষণায় দেখা গেছে, হাঁটা, বাজার করা বা ঘুরতে যাওয়া স্বাভাবিকভাবে নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস তৈরি করে, যা রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে।
আবেগগত সমর্থন পাওয়া যায়
স্ত্রীর কাছ থেকে মানসিক সমর্থন পাওয়া স্বামীর মানসিক স্থিতিশীলতা বাড়ায়। জীবনসংক্রান্ত চাপ সহজে মোকাবিলা করা সম্ভব হয় এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।
সুখী দাম্পত্য জীবন দীর্ঘায়ু বাড়ায়
ICMR-এর গবেষণায় বলা হয়েছে, সুখী বৈবাহিক সম্পর্কযুক্ত পুরুষদের হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কম থাকে। মানসিক সন্তুষ্টি ও শান্তি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে ওঠে
স্ত্রীর সঙ্গে বেশি সময় কাটালে স্বামী স্বাস্থ্য সচেতন হয়। ধূমপান কমানো, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা সম্ভব হয়, যা স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়।
একাকীত্ব কমে যায়
WHO-এর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন ব্যক্তিদের হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি। স্ত্রীর সঙ্গে সময় কাটানো একাকীত্ব দূর করে এবং মানসিক সুস্থতা বজায় রাখে।
গবেষণাগুলি স্পষ্টভাবে দেখিয়েছে, স্ত্রীর সঙ্গে সময় কাটানো কেবল ভালোবাসার প্রকাশ নয়, এটি স্বামীর মানসিক ও শারীরিক সুস্থতারও চাবিকাঠি। ব্যস্ত জীবনের মাঝেও প্রতিদিন কিছু সময় স্ত্রীকে দেওয়া—হাঁটাচলা, কথা বলা বা আনন্দ ভাগাভাগি করা—স্বামীর জীবনকে দীর্ঘায়ু, সুস্থ ও প্রাণবন্ত রাখে।
দৈএনকে/জে, আ