ব্রণ ও র্যাশ এড়াতে ওয়ার্কআউট স্কিনকেয়ারে যা করেন শ্বেতা

নিয়মিত শরীরচর্চা শরীরকে যেমন সুস্থ রাখে, তেমনি ত্বকেরও প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে। তবে ব্যায়ামের সময় ত্বকের সঠিক যত্ন না নিলে ব্রণ, র্যাশ, অতিরিক্ত শুষ্কতা কিংবা লোমকূপ বন্ধ হওয়ার মতো নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ভারতের জনপ্রিয় টেলিভিশন অভিনেত্রী শ্বেতা তিওয়ারি সম্প্রতি নিজের ইউটিউব ভ্লগে ওয়ার্কআউটের আগে ও পরে অনুসরণ করা স্কিনকেয়ার রুটিন শেয়ার করেছেন। তার মতে, কয়েকটি সহজ অভ্যাসই ত্বককে দীর্ঘদিন সতেজ ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল রাখতে পারে।

শ্বেতার পরামর্শ অনুযায়ী, ব্যায়ামের আগে ভারী মেকআপ এড়িয়ে চলাই সবচেয়ে ভালো। ঘামের সঙ্গে ফাউন্ডেশন বা কনসিলার মিশে লোমকূপ বন্ধ করে দিতে পারে, যা থেকে ব্রণ ও ত্বকের জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই তিনি জিমে যাওয়ার সময় নো-মেকআপ লুককেই প্রাধান্য দেন।
ওয়ার্কআউটের আগে তিনি হালকা বা জেল-বেসড ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করেন, যা ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং ভারী অনুভূতি তৈরি করে না। বাইরে ব্যায়াম করলে ঘাম-প্রতিরোধী বা ওয়াটার-বেসড সানস্ক্রিন ব্যবহার করার পরামর্শও দেন তিনি, যাতে সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বক সুরক্ষিত থাকে।

শুধু মুখ নয়, ঠোঁটের যত্নেও গুরুত্ব দেন এই অভিনেত্রী। ব্যায়ামের আগে লিপবাম ব্যবহার করলে ঠোঁট শুষ্ক ও ফেটে যাওয়ার ঝুঁকি কমে বলে জানান তিনি।
ওয়ার্কআউট শেষে যত দ্রুত সম্ভব মুখ পরিষ্কার করার ওপর জোর দেন শ্বেতা। এতে ঘাম, তেল ও ধুলাবালি ত্বকে জমে থেকে ব্রণের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে না। মুখ ধোয়ার পর তিনি হায়ালুরোনিক অ্যাসিড বা সেরামাইডসমৃদ্ধ ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করেন, যা ত্বকের আর্দ্রতা ফিরিয়ে এনে স্কিন ব্যারিয়ারকে শক্তিশালী রাখতে সহায়তা করে।
শরীরের ত্বকের যত্নেও সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। ব্যায়ামের সময় এমন পোশাক পরা উচিত, যাতে বাতাস সহজে চলাচল করতে পারে এবং ঘাম দ্রুত শুকিয়ে যায়। এতে পিঠ, বুক বা কাঁধে বডি অ্যাকনের ঝুঁকিও কমে।
এ ছাড়া জিমে ব্যবহারের জন্য সবসময় পরিষ্কার তোয়ালে ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন শ্বেতা। অনেক সময় তিনি ডিসপোজেবল তোয়ালে ব্যবহার করেন, যাতে ঘামে ভেজা তোয়ালে পুনরায় ব্যবহারের কারণে ত্বকে জীবাণু ছড়িয়ে না পড়ে।
তার মতে, ব্যায়ামের সুফল পুরোপুরি পেতে হলে শরীরচর্চার পাশাপাশি ত্বকের যত্নেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। ছোট ছোট কিছু অভ্যাসই ত্বককে দীর্ঘদিন সুস্থ, সতেজ ও প্রাণবন্ত রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।