শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে পাকিস্তানকে হারিয়ে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ

সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ওয়ানডেতে রোমাঞ্চকর লড়াই শেষে পাকিস্তানকে ১১ রানে হারিয়ে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ। মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে তানজিদ হাসান তামিমের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি ও তাসকিন আহমেদের দাপুটে বোলিংয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নেয় মেহেদি হাসান মিরাজের নেতৃত্বাধীন দল।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা ওয়ানডে সিরিজ জয়ের নজিরও গড়ল বাংলাদেশ। এর আগে ২০১৫ সালে সর্বশেষ দ্বিপাক্ষিক সিরিজে পাকিস্তানকে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করেছিল টাইগাররা।
তামিমের সেঞ্চুরিতে বড় সংগ্রহ
টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে দুর্দান্ত সূচনা পায় বাংলাদেশ। ওপেনিং জুটিতে সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান তামিম দলকে শক্ত ভিত এনে দেন। উদ্বোধনী জুটিতে আসে ১০৫ রান।
সাইফ হাসান ৫৫ বলে ৩৬ রান করে আউট হলেও দুর্দান্ত ব্যাটিং চালিয়ে যান তামিম। তিনি ৯৮ বলে নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। শেষ পর্যন্ত ১০৭ বলে ১০৭ রান করে আউট হন এই ওপেনার। তার ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ৭টি ছক্কা।
মাঝের দিকে নাজমুল হোসেন শান্ত ২৭ রান করে আউট হন। এরপর লিটন দাস ও তাওহীদ হৃদয় চতুর্থ উইকেটে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে তোলেন। লিটন ৪১ রান করে ফেরেন, আর তাওহীদ হৃদয় অপরাজিত থাকেন ৪৪ বলে ৪৮ রানে। শেষদিকে আফিফ হোসেন অপরাজিত ৫ রান করেন। নির্ধারিত ওভারে বাংলাদেশ সংগ্রহ করে ২৯০ রান।
পাকিস্তানের হয়ে হারিস রউফ তিনটি উইকেট নেন। এছাড়া শাহিন শাহ আফ্রিদি ও আবরার আহমেদ একটি করে উইকেট শিকার করেন।
পেসারদের তোপে পাকিস্তান চাপে
২৯১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে পাকিস্তান। তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানার দুর্দান্ত বোলিংয়ে মাত্র ১৭ রানেই তিন উইকেট হারায় সফরকারীরা।
ইনিংসের প্রথম ওভারেই তাসকিন আহমেদ ফিরিয়ে দেন সাহিবজাদা ফারহানকে। পরের ওভারে নাহিদ রানা আউট করেন মাজ সাদাকাতকে। এরপর নিজের দ্বিতীয় ওভারে মোহাম্মদ রিজওয়ানকেও সাজঘরে ফেরান তাসকিন।
পরে গাজি ঘুরি (২৯) ও আব্দুল সামাদ (৩৪) কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি।
সালমানের লড়াই বৃথা
দল যখন বড় বিপদে, তখন একাই লড়াই চালিয়ে যান সালমান আলি আগা। তাকে সঙ্গ দেন অভিষিক্ত ব্যাটার সাদ মাসুদ। দুজন মিলে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করেন।
সাদ মাসুদ ৩৮ রান করে মুস্তাফিজুর রহমানের বলে আউট হন। এরপর ফাহিম আশরাফ ৯ রান করে তাসকিনের বলে বোল্ড হন।

শেষদিকে সালমান আলি আগা দলকে জয়ের খুব কাছাকাছি নিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত তা যথেষ্ট হয়নি। নির্ধারিত ওভারে পাকিস্তানের সংগ্রহ থামে ২৭৯ রানে।
বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন তাসকিন আহমেদ। তিনি একাই চারটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন।
এই জয়ের মাধ্যমে তিন ম্যাচের সিরিজে ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।