হাটহাজারীতে মানবিক উদ্যোগ: শাহ আনোয়ার ফাউন্ডেশনের ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত

২০০০ সালের দিকে চিকিৎসক লায়ন হাফিজুর রহমান নিজ চেম্বারে শুরু করেন শিশুদের খৎনা ও নাক-কান ফোঁড়ানোর কার্যক্রম। শুরুতে মাসে একদিন বিনামূল্যে এ সেবা দেওয়া হলেও ধীরে ধীরে তা ব্যাপক সাড়া ফেলে। যদিও তিনি প্রচারের চেষ্টা করেননি, তবুও মানুষের মুখে মুখে সুনাম ছড়িয়ে পড়ে হাটহাজারী ছাড়িয়ে ফটিকছড়ি ও রাউজান পর্যন্ত।
শুধু খৎনা ও নাক-কান ফোঁড়ানো নয়, পরবর্তীতে রক্তদান কার্যক্রম, চোখের চিকিৎসা ও অন্যান্য মানবিক সেবাও যুক্ত হয়। শাহ আনোয়ার (রহ.) ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে গত দুই দশকে প্রায় ৪২ হাজার শিশুকে সেবা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৩ হাজার শিশু সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এ সুবিধা পেয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (২৭ আগস্ট) ইছাপুর ফয়জিয়া বাজারের আমিন মার্কেটস্থ শাহ আনোয়ার মেডিকেল সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয় দিনব্যাপী বিনামূল্যে খৎনা ও নাক-কান ফোঁড়ানোর ক্যাম্প। এদিন শতাধিক শিশু এ সেবা গ্রহণ করে। সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন চিকিৎসক লায়ন হাফিজুর রহমান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফাউন্ডেশনের পরিচালক মো. আব্দুল হাই মানিক এবং সঞ্চালনায় ছিলেন লায়ন হাফিজ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাগৃতি সংগঠনের সভাপতি মো. ওসমান। উদ্বোধক ছিলেন হাটহাজারী সাংবাদিক ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক যায়যায়দিন প্রতিনিধি মো. বোরহান উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাউজানের পূর্বদেশ পত্রিকার প্রতিনিধি ও হালদা টিভির অ্যাডমিন মো. তৈয়বসহ অনেকে।
বক্তারা বলেন, শাহ আনোয়ার (রহ.) ফাউন্ডেশন শুধুমাত্র চিকিৎসা সেবাই নয়, মানবতার এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বিয়ে, জন্মদিন এমনকি মেজবান অনুষ্ঠান থেকে পাওয়া অর্থ এই ফাউন্ডেশনের মানবিক কাজে ব্যয় করা হয়—যা নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রম ও প্রশংসার দাবিদার।
চিকিৎসক লায়ন হাফিজুর রহমান জানান, শুধু পরিবারের সদস্যই নয়, এলাকার অনেক সচ্ছল মানুষও জন্মদিন বা অন্যান্য আনন্দঘন অনুষ্ঠানের টাকা দিয়ে ফাউন্ডেশনের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে এ সেবা আরও বড় পরিসরে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।