ভোলা ছাত্রদল নেতা হত্যা মামলার আসামি এখন রামু থানার ওসি

ভোলায় ছাত্রদল সভাপতি নুরে আলম হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার এক আসামিকে পদোন্নতি দিয়ে কক্সবাজারের রামু থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে—এমন অভিযোগকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।
জানা যায়, ২০২২ সালের ৩১ জুলাই ভোলা জেলা বিএনপির বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেন জেলা ছাত্রদল সভাপতি নুরে আলম। ওই সময় সংঘর্ষের এক পর্যায়ে তিনি পুলিশের গুলিতে আহত হন এবং তিন দিন পর হাসপাতালে মারা যান।
ঘটনার পর নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে ২০২২ সালের ৪ আগস্ট ভোলা সদর থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) আরমান হোসেনসহ ৩৬ জন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, মামলার অন্যতম আসামি আরমান হোসেনকে পদোন্নতি দিয়ে চট্টগ্রাম রেঞ্জের অধীনে কক্সবাজার জেলার রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনো পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা বলছেন, এমন অভিযোগ সত্য হলে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং নিহত নুরে আলমের স্মৃতির প্রতি অসম্মানজনক হবে। তারা বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে সাংবাদিক মহলের কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করে প্রশ্ন তুলেছেন, হত্যা মামলার আসামির পদায়ন হলে ন্যায়বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিতে পারে।
তবে কক্সবাজার জেলা পুলিশের কয়েকজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত তারা বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেননি। অন্যদিকে চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের একটি সূত্র বলছে, প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় এ ধরনের পদায়ন হয়ে থাকলেও বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা বা সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে অনিশ্চয়তা ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।