বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
Natun Kagoj

চাঁদপুর-শরীয়তপুর নৌরুটে দেশের বৃহত্তম মেঘনা সেতু নির্মাণ করবে সরকার

চাঁদপুর-শরীয়তপুর নৌরুটে দেশের বৃহত্তম মেঘনা সেতু নির্মাণ করবে সরকার
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

চাঁদপুর ও শরীয়তপুর জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি মেঘনা নদীতে একটি সেতুর। অবশেষে এই নৌ-রুটে দুই জেলাবাসীর সেই স্বপ্নের সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা চলছে। সেতুটি হলে চাঁদপুর ও শরীয়তপুরেরই শুধু লাভবান হবে না, সারাদেশে অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার পরিবর্তনে বিপ্লব সাধিত হবে।

দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের কাছ থেকে বৃহৎ দুটি সেতু নির্মাণে অর্থায়ন চাইছে বাংলাদেশ, যার পরিমাণ ৩৩ হাজার ৪২৩ কোটি টাকা (৩১০ কোটি ডলার)। এই সেতু প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে আঞ্চলিক সংযোগে আমূল পরিবর্তন আসবে, অর্থনীতিতেও হবে উল্লেখযোগ্য গতি সঞ্চার। অর্থায়ন নিশ্চিত হলে প্রকল্পগুলো ২০৩৩ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

সেতু বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, গত ২৫ জুন প্রাথমিক প্রকল্প প্রস্তাবনা পরিকল্পনা কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কমিশন প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করছে। তারা আরও জানান, এরই মধ্যে ৪ আগস্ট মেঘনা সেতু নির্মাণ নিয়ে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) কাঠামোর পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শরীয়তপুর-চাঁদপুর সেতু, ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সেতুটি মেঘনা নদীর ওপর নির্মিত হবে। এর আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকা। সেতুটি নির্মাণ হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলা সরাসরি যুক্ত হবে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ১১ জেলার সঙ্গে। ফেরিতে পারাপার বর্তমান অনির্ভরযোগ্য ব্যবস্থার বিকল্প তৈরি হবে, এবং সড়ক পথে চট্টগ্রামের সঙ্গে খুলনার দূরত্ব প্রায় ৯০ কিলোমিটার হ্রাস পাবে। এতে ঢাকার ওপর যানবাহনের চাপও অনেকাংশে কমে যাবে।

সেতু বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চাঁদপুরের হরিনা ফেরিঘাট পয়েন্টে এই সেতু নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। সেতুর অন্যপ্রান্তের সংযোগ সড়ক মিলিত হবে শরীয়তপুরের সখিপুরে। প্রাথমিক প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০৩২ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর এ প্রকল্পের সমীক্ষা প্রতিবেদন তৈরির কাজ শেষ হয়।

অর্থায়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: প্রকল্পের বিপুল ব্যয় মেটাতে

উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে যৌথ অর্থায়ন পাওয়ার চেষ্টা করছে সেতু বিভাগ। কোরিয়ার ইডিসিএফের ঋণের সুদের হার ০.০১ শতাংশ থেকে ০.০৫ শতাংশ, পরিশোধের মেয়াদ ৪০ বছর পর্যন্ত, যা বাংলাদেশের জন্যে অত্যন্ত সুবিধাজনক। তবে শর্ত রয়েছে, কাজ অবশ্যই কোরিয়ান ঠিকাদারদের দিয়ে করাতে হবে। দুটি সেতু প্রকল্পের ঋণ দেওয়ার জন্যে জাপানকেও অনুরোধ করা হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশন বর্তমানে প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করছে। কোরিয়ার কর্তৃপক্ষ মেঘনা সেতুর প্রকল্প প্রস্তাব তাদের ঋণ সিদ্ধান্তের জন্যে চেয়েছে।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী কাজী মুহাম্মদ ফেরদৌস বলেন, "শরীয়তপুর-চাঁদপুর সেতু প্রকল্পে দ. কোরিয়া অর্থায়নের আগ্রহ দেখিয়েছে। এছাড়া জাপানের কাছেও ঋণ চাওয়া হয়েছে। যৌথভাবেও অর্থায়ন আসতে পারে। ইআরডিকে বলা হয়েছে সহজ শর্তে ঋণ নিশ্চিত করে দেওয়ার জন্যে। তিনি আরও জানান, বিস্তারিত নকশা তৈরি হলে ব্যয় কিছুটা বাড়তে পারে।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আরও পড়ুন