বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
Natun Kagoj

রামগঞ্জে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে ও আবাসিক ভবনে গ্যাস সিলিন্ডারের গোডাউন দূর্ঘটনার শঙ্কা

রামগঞ্জে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে ও আবাসিক ভবনে গ্যাস সিলিন্ডারের গোডাউন দূর্ঘটনার শঙ্কা
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে  নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে রামগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় ও আল ফোরকান ইসলামী মাদ্রসাসহ  শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে ও আবাসিক  ভবনে এলপিজি (তরলিকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) সিলিন্ডার গোডাউন। ফলে বিস্ফোরণ ঝুঁকিসহ অগ্নি দুর্ঘটনা শঙ্কা বিরাজ করছে। এ ছাড়াও যত্রতত্রেও রয়েছে গ্যাস সিলিন্ডারের দোকান। তবে এলপিজিসহ দাহ্য পদার্থ বিক্রিতে এদের অধিকাংশেরই নেই কোনো ছাড়পত্র।

অগ্নি দুর্ঘটনা ঝুঁকি এড়াতে গ্যাস সিলিন্ডার গোডাউন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকা থেকে অন্যত্র স্থানান্তরের দাবি এলাকাবাসীর। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের তদারকি না থাকায় ব্যবসায়ীরা তাদের ইচ্ছামত বছরের পর বছর এভাবে ব্যাবসা করে যাচ্ছে। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মেসার্স আল নূর ট্রেডার্সের প্রোপাইটার মোঃ রিপন হোসেন ওরপে গ্যাস রিপন দীর্ঘদিন যাবত  রামগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় ভবনের নীচতলা, থানা পিছনে ওয়াপদা সড়কে আল ফারুক ইসলামী মাদ্রাসার নীচে ও রামগঞ্জ দক্ষিন বাজার পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সংলগ্ন ৬ তলা একটি আবাসিক ভবনের নীচে শত শত গ্যাস সিলিন্ডার মজুত করে বাজারজাত করছেন। এ ছাড়াও রামগঞ্জ ও সোনাপুর এলাকায়  আবাসিক ভবনের নীচে , হসপিটালের সাথে, মার্কেটের ভিতর, মুদি দোকানসহ যে কোন ব্যবসার সাথে যত্রতত্রে অর্ধশতাধিক দোকানে  ৫০ থেকে শতাধিক গ্যাস সিলিন্ডার মজুত রেখে  ব্যবসা করে যাচ্ছে।

জনবহুল আবাসিক এলাকা থেকে নিরাপদ দূরত্বে এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের গোডাউন স্থানান্তরের দাবি করে আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী,  মোহাম্মদ সেলিম, সৈয়দ আহম্মদ শেখসহ ১০ থেকে ১৫ জন এলাকাবাসী বলেন- এ ব্যাপারে  স্থানীয় প্রশাসনের কোন তদারকি না থাকায় ব্যবসায়ীরা সকল নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে ঝুঁকিপূর্ন এ ব্যবসাটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আবাসিক ভবনসহ যত্রতত্রে চালিয়ে যাচ্ছে।  এতে যে কোন সময় ঢাকার মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজের মত দূর্ঘনায় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা প্রান হারাতে পারে। তারা ঝুঁকি এড়াতে এলপি গ্যাসসহ সব ধরনের দাহ্য পদার্থ সংরক্ষণ ও বিপণনে ডিলারসহ সকল ব্যবসায়ীর লাইসেন্স শর্তসহ অনুস্মরণে  জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেন। 

আল নুর ট্রেডার্সের মালিক মোঃ রিপন হোসেন জানান, আমার নিজের গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবসার লাইন্সেস নেই, তাহের পাটোয়ারী লাইন্সেসের উপর আমি ব্যবসা করে আসছি। মাদ্রাসা নিচে ও আমার বাড়ির নীচে  গোডাউন আছে, তবে রামগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের  নীচে গোডাউনটি কিছু দিনের মধ্যে ছেড়ে দিচ্ছি।
রামগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ সোহরাব হোসেন জানান, স্কুল ভবনের নিচের দোকানে গ্যাস সিলিন্ডারের গোডাউন করে রিপন দীর্ঘদিন যাবত ব্যবসা করে যাচ্ছে, আমরা তাকে মৌখিকভাবে নিষেধ  ও নোটিশ করছি, সে কোন কিছুই কর্নপাত করছে না। যে কোন সময় দূর্ঘনার শঙ্কায়। 

আমাদেরকে  সব সময় ভয়ের মধ্যে থাকতে হয়, কারন স্কুলে শত শত শিক্ষার্থী রয়েছে। রামগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন অফিসার নুরুল আফসার জানান, জনবহুল আবাসিক এলাকায়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার গোডাউন স্থাপনের সুযোগ নেই। তারপরও অনেকে করছে, আমরা উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে অবগত করে লাইসেন্সের শর্ত কেউ ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


দৈএনকে/ জে .আ
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আরও পড়ুন