সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • ঢাকাতেই বহাল সাব-রেজিস্ট্রার মাইকেল, হাজার কোটি টাকার সম্পদের অভিযোগ ইতালিতে বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষ-ভাঙচুর, গ্রেপ্তার ১৯৭ দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়ায় ঘাটতি ছিল কি না, তদন্ত চলছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জ্বালানি নিরাপত্তা ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে সরকারের নতুন উদ্যোগ শান্তি আলোচনার স্বার্থেই রাশিয়ার নিষেধাজ্ঞা স্থগিত: ট্রাম্প নিজের সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য হলেও ঢাকা পরিচ্ছন্ন রাখুন: প্রধানমন্ত্রী শুষ্ক মৌসুমে আগুনের ঝুঁকি, ফায়ার সার্ভিসের ১৩ নির্দেশনা অনলাইনে ব্যবসার লাইসেন্স, মেয়াদ বাড়ছে ৩ থেকে ৫ বছর: বাণিজ্যমন্ত্রী দেশে হাম ও উপসর্গে মৃত্যু ছাড়াল ১২০০ প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলেন ইশরাক হোসেন
  • কাজের চাপের মাঝে স্বস্তি পেতে ডেস্কে রাখতে পারেন যেসব গাছ

    কাজের চাপের মাঝে স্বস্তি পেতে ডেস্কে রাখতে পারেন যেসব গাছ
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    দীর্ঘ সময় অফিসে কাজ, একের পর এক মিটিং আর কম্পিউটারের পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে একঘেয়েমি ও ক্লান্তি ভর করতে পারে। কর্মব্যস্ত দিনের মাঝে কাজের জায়গায় একটু সবুজের ছোঁয়া এনে দিতে পারে স্বস্তির অনুভূতি। ডেস্কের এক কোণে ছোট্ট একটি গাছ যেমন কর্মক্ষেত্রের সৌন্দর্য বাড়ায়, তেমনি প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগের মাধ্যমে কাজের পরিবেশকে আরও মনোরম করে তুলতে পারে।

    তবে অফিসের ডেস্কে সব ধরনের গাছ রাখা উপযোগী নয়। আলো-বাতাসের পরিমাণ, ডেস্কের জায়গা এবং পরিচর্যার সুবিধা বিবেচনা করে বেছে নিতে পারেন নিচের গাছগুলো।

    ১. মানিপ্ল্যান্ট

    অফিসের ডেস্ক সাজানোর জন্য মানিপ্ল্যান্ট বেশ জনপ্রিয়। এর সবুজ পাতা কর্মক্ষেত্রে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যোগ করে। গাছটির পরিচর্যাও তুলনামূলক সহজ। পরোক্ষ আলোতে ভালো থাকে এবং মাটির উপরিভাগ শুকিয়ে এলে পানি দিতে হয়। ছোট টবে কিংবা পরিষ্কার পানিভর্তি কাচের পাত্রেও মানিপ্ল্যান্ট রাখা যায়। ডেস্কে জায়গা কম থাকলেও সহজেই মানিয়ে নেয় এই গাছ।

    ২. স্নেক প্ল্যান্ট

    নিয়মিত গাছের যত্ন নেওয়ার সময় যাঁদের কম, তাঁদের জন্য স্নেক প্ল্যান্ট ভালো বিকল্প। লম্বা ও খাড়া পাতার এই গাছ অল্প যত্নেও টিকে থাকতে পারে। কম আলো সহ্য করলেও উজ্জ্বল পরোক্ষ আলোতে ভালো বাড়ে। মাটি শুকানোর আগে পানি দেওয়া উচিত নয়। ছোট একটি টবে ডেস্কের পাশে রাখলেই কর্মক্ষেত্রে যোগ হবে সবুজের ছোঁয়া।

    ৩. লাকি ব্যাম্বু

    ছোট ডেস্কে সহজে রাখা যায় লাকি ব্যাম্বু। প্রচলিত বিশ্বাসে গাছটিকে সৌভাগ্য, শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। এটি পানি কিংবা মাটিতে জন্মাতে পারে এবং খুব বেশি পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না। তবে পানিতে রাখলে নিয়মিত পরিষ্কার পানি দিতে হবে। সরাসরি কড়া রোদ এড়িয়ে উজ্জ্বল পরোক্ষ আলোতে রাখলে গাছটি ভালো থাকে।

    ৪. পিস লিলি

    সবুজ পাতার সঙ্গে সাদা ফুলের সৌন্দর্য চাইলে বেছে নিতে পারেন পিস লিলি। এর স্নিগ্ধ চেহারা কর্মক্ষেত্রের সাজে ভিন্নতা আনে। গাছটি পরোক্ষ আলো ও পরিমিত আর্দ্রতায় ভালো থাকে। মাটির উপরিভাগ শুকিয়ে এলে পানি দিতে হবে।

    পিস লিলিকে ঘরের বাতাসের কিছু দূষক কমানোর সম্ভাব্য ক্ষমতার জন্য পরিচিত বলা হলেও, একটি ছোট টব ঘরের বাতাস উল্লেখযোগ্যভাবে বিশুদ্ধ করে—এমন নিশ্চয়তা নেই। গাছটি পোষা প্রাণীর জন্য বিষাক্ত হতে পারে। তাই অফিসে পোষা প্রাণী আসার সুযোগ থাকলে তাদের নাগালের বাইরে রাখুন।

    ৫. জেড প্ল্যান্ট

    মোটা, মসৃণ ও গোলাকার পাতার জন্য জেড প্ল্যান্ট দেখতে বেশ আকর্ষণীয়। ছোট টবে সহজেই রাখা যায় বলে ডেস্ক সাজানোর জন্য এটি উপযোগী। গাছটি ‘মানি প্ল্যান্ট’ বা সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবেও অনেকের কাছে পরিচিত। তবে এর পাতা মনোযোগ বাড়ায়—এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই।

    জেড প্ল্যান্ট ভালো রাখতে পর্যাপ্ত আলো প্রয়োজন। মাটি বেশ খানিকটা শুকিয়ে গেলে পানি দিন। অতিরিক্ত পানি দিলে শিকড় পচে যেতে পারে।

    ৬. অ্যালোভেরা

    সহজ পরিচর্যার গাছ হিসেবে অ্যালোভেরা বেশ পরিচিত। এর মাংসল পাতা দেখতে সুন্দর এবং ছোট টবেও রাখা যায়। তবে গাছটির ভালো বৃদ্ধির জন্য উজ্জ্বল আলো প্রয়োজন। জানালার কাছাকাছি আলোযুক্ত স্থানে রাখলে ভালো থাকে। মাটি শুকিয়ে গেলে পানি দিন এবং টবের নিচে যেন অতিরিক্ত পানি জমে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখুন।

    ৭. রোজমেরি

    সুগন্ধি গাছ পছন্দ করলে ডেস্কে রাখতে পারেন রোজমেরি। এর পাতায় রয়েছে স্বতন্ত্র সুবাস, যা কর্মক্ষেত্রে সতেজ অনুভূতি তৈরি করতে পারে। গাছটির পরিচর্যা করাও কাজের ফাঁকে ছোট বিরতি নেওয়ার উপলক্ষ হতে পারে। তবে রোজমেরির জন্য পর্যাপ্ত আলো ও বাতাস প্রয়োজন। তাই জানালার কাছে রাখাই ভালো। আলো কম পাওয়া যায়, এমন অফিসে গাছটি দীর্ঘদিন সুস্থ রাখা কঠিন হতে পারে।

    ৮. ল্যাভেন্ডার

    বেগুনি ফুল ও মনোরম সুবাসের জন্য ল্যাভেন্ডার বেশ পরিচিত। ডেস্কের এক কোণে ছোট টবে রাখলে কর্মক্ষেত্রের সৌন্দর্য বাড়বে। এর সুবাস অনেকের কাছে প্রশান্তিদায়ক মনে হয়। তবে সুস্থভাবে বেড়ে উঠতে গাছটির পর্যাপ্ত রোদ ও পানি নিষ্কাশনের ভালো ব্যবস্থা প্রয়োজন। কম আলোযুক্ত অফিসে ল্যাভেন্ডার রাখা খুব একটা উপযোগী নয়।

    ডেস্কে গাছ রাখলে মন ভালো থাকে কেন?

    কাজের জায়গায় প্রকৃতির উপস্থিতি অনেকের কাছে স্বস্তিদায়ক হতে পারে। কিছুক্ষণ সবুজ পাতার দিকে তাকানো, গাছে পানি দেওয়া কিংবা নতুন পাতা গজাতে দেখা একটানা কাজের মধ্যে ছোট বিরতি নেওয়ার সুযোগ তৈরি করে। বিভিন্ন গবেষণায় কর্মক্ষেত্রে গাছপালা ও প্রকৃতির উপস্থিতির সঙ্গে মানসিক স্বস্তি এবং কাজের পরিবেশ সম্পর্কে ইতিবাচক অনুভূতির সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

    তবে শুধু ডেস্কে গাছ রাখলেই মানসিক চাপ দূর হবে বা কাজের দক্ষতা নিশ্চিতভাবে বাড়বে—এমন নয়। কাজের ফাঁকে বিরতি নেওয়া, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং আরামদায়ক কর্মপরিবেশও গুরুত্বপূর্ণ।

    অফিসের ডেস্কের জন্য গাছ বাছাইয়ের সময় জায়গার পরিমাণ, আলো-বাতাস এবং পরিচর্যার সুবিধা বিবেচনা করুন। ছোট টব ব্যবহার করুন, নিয়মিত শুকনো পাতা পরিষ্কার করুন এবং অতিরিক্ত পানি দেওয়া এড়িয়ে চলুন। নিজের পছন্দ ও কর্মক্ষেত্রের পরিবেশের সঙ্গে মানানসই একটি গাছও কর্মব্যস্ত দিনের মাঝে এনে দিতে পারে সবুজের স্নিগ্ধতা।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ