সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • ইতালিতে বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষ-ভাঙচুর, গ্রেপ্তার ১৯৭ দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়ায় ঘাটতি ছিল কি না, তদন্ত চলছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জ্বালানি নিরাপত্তা ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে সরকারের নতুন উদ্যোগ শান্তি আলোচনার স্বার্থেই রাশিয়ার নিষেধাজ্ঞা স্থগিত: ট্রাম্প নিজের সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য হলেও ঢাকা পরিচ্ছন্ন রাখুন: প্রধানমন্ত্রী শুষ্ক মৌসুমে আগুনের ঝুঁকি, ফায়ার সার্ভিসের ১৩ নির্দেশনা অনলাইনে ব্যবসার লাইসেন্স, মেয়াদ বাড়ছে ৩ থেকে ৫ বছর: বাণিজ্যমন্ত্রী দেশে হাম ও উপসর্গে মৃত্যু ছাড়াল ১২০০ প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলেন ইশরাক হোসেন রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৪৮৪, মিরপুরেই ১৫০
  • নিজের সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য হলেও ঢাকা পরিচ্ছন্ন রাখুন: প্রধানমন্ত্রী

    নিজের সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য হলেও ঢাকা পরিচ্ছন্ন রাখুন: প্রধানমন্ত্রী
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    তিনি বলেন, ‘সবার কথা বাদ দেন, নিজের সন্তানের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ, একটি স্বাস্থ্যকর শহর গড়ে তুলি। আসুন, আমরা সবাই মিলে সেই চেষ্টা করি।’

    সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান কার্যালয় নগর ভবন পরিদর্শনকালে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

    সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে পুরো নগরী পরিচ্ছন্ন রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, কেউই চান না তাঁর সন্তান নোংরা, জীবাণুযুক্ত ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বেড়ে উঠুক। শিশুরা শুধু নিজেদের বাসার আশপাশে থাকে না; স্কুল, কলেজ, খেলার মাঠসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে। তাই শুধু নিজের এলাকা নয়, পুরো শহর পরিচ্ছন্ন রাখার উদ্যোগ নিতে হবে।

    তিনি বলেন, ‘আপনার সন্তান তো শুধু আপনার এলাকায় থাকবে না। সে সারা ঢাকা শহরে বিচরণ করবে। কাজেই আসুন, আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করি। চেষ্টা করলে আমরা পারব।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা শহরের অন্যতম বড় সমস্যা ময়লা-আবর্জনা ও অপরিচ্ছন্নতা। এ সমস্যা এক দিনে বা সাত দিনে সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে সবাই আন্তরিকভাবে কাজ করলে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি করা যাবে।

    সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নগরীর পরিচ্ছন্নতা সমস্যার সমাধানে তাঁদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকা রয়েছে। পরিবর্তন আনতে সময় লাগলেও আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাস ও কাজ করার ইচ্ছা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

    দায়িত্ব পালনে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, তিনি বিভিন্ন স্থানে গেলে সেখানকার সমস্যাগুলো খেয়াল করেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারাও একইভাবে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানে উদ্যোগী হলে নগরীর অবস্থার পরিবর্তন সম্ভব।

    এ প্রসঙ্গে যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরের উদাহরণ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ষাট ও সত্তরের দশকে লন্ডনের অনেক এলাকাতেও ময়লা-আবর্জনার সমস্যা ছিল। দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা ও নাগরিক সচেতনতার মাধ্যমে সেখানকার পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।

    বিদেশের পরিচ্ছন্ন শহর দেখে আফসোস না করে নিজেদের দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশের সুন্দর শহর দেখে দেশে ফিরে নিজের শহরকে সেভাবে গড়ে তোলার আকাঙ্ক্ষা তৈরি হতে পারে। তবে শুধু আফসোস না করে পরিবর্তনের জন্য নিজ নিজ জায়গা থেকে কাজ করতে হবে।

    ঢাকার পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে উল্লেখ করে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে সাম্প্রতিক কথোপকথনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি জানান, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করা ওই প্রতিষ্ঠানের একজন শীর্ষ ব্যক্তি সম্প্রতি তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় ঢাকার পরিবর্তন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি আগের তুলনায় শহরের পরিচ্ছন্নতা কিছুটা বেড়েছে বলে জানান।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই ব্যক্তি উল্লেখ করেননি যে ঢাকায় ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে; বরং কিছুটা উন্নতির কথা বলেছেন। এতেই বোঝা যায়, চেষ্টা করলে পরিবর্তন সম্ভব। সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করলে পরিস্থিতির আরও উন্নতি করা যাবে।

    নগরীর সড়ক ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অগ্রগতি সম্পর্কেও নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোথাও সড়ক বিভাজক নির্মাণ করা হচ্ছে, আবার কোথাও বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্রের অবস্থার উন্নতি হয়েছে। এসব উদ্যোগ ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নিতে হবে।

    কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আত্মমূল্যায়নের আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, অন্যের সমালোচনা করার পাশাপাশি নিজের দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও পর্যালোচনা করতে হবে। নিজের কাছে প্রশ্ন রাখতে হবে, দায়িত্ব কতটা সঠিকভাবে পালন করা হচ্ছে এবং পরিস্থিতির উন্নয়নে কতটা চেষ্টা করা হচ্ছে।

    এর আগে প্রধানমন্ত্রী নগর ভবনের জরুরি পরিচালন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। সেখানে আবহাওয়ার তথ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) ভূমিকম্পসংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য, বাতাসের গতিবেগ, বন্যার পূর্বাভাস এবং বায়ুর মান পর্যবেক্ষণের বিভিন্ন ওয়েবসাইট দেখেন। এসব তথ্য কীভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং জরুরি পরিস্থিতির বিষয়ে কীভাবে আগাম ধারণা পাওয়া যায়, সে সম্পর্কেও খোঁজ নেন তিনি।

    এ ছাড়া ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে নগরীর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন প্রধানমন্ত্রী। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর উন্নয়ন ও বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে তৈরি একটি ভিডিও চিত্রও দেখেন তিনি।

    এ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব শহীদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন