বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • শিক্ষকতা, প্রতিবন্ধকতা জয় ও বৃক্ষরোপণে দৃষ্টান্ত, পাশে থাকার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর ডেঙ্গুতে ৫ ও হামের উপসর্গে ৭ জনের মৃত্যু, বাড়ছে আক্রান্ত জার্মানিতে কিশোরীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ, রোবটসহ আটক ২ অবসরের আগে দেশের মাঠে বিশ্বকাপ খেলতে মুখিয়ে সিকান্দার রাজা নির্বাচনের পর হুথিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি ট্রাম্পের হিন্দু সম্প্রদায়ের সমস্যা সমাধানে পাশে থাকার আশ্বাস জামায়াত আমিরের পর্যটন উন্নয়নে বাংলাদেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক করতে চায় ইতালি ৯ নভেম্বর বিকেলে সংসদ অধিবেশন আহ্বান করেছেন রাষ্ট্রপতি স্পিকারের সঙ্গে ইউএনডিপি প্রতিনিধির বৈঠক, আলোচনায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন অপারেশন ক্লিনহার্টের মতো অভিযান চালানোর পরিকল্পনা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
  • ফ্রিজে কত দিন দই ভালো থাকে, টক হয়ে গেলে খাবেন কি না

    ফ্রিজে কত দিন দই ভালো থাকে, টক হয়ে গেলে খাবেন কি না
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    দই বাঙালির খাবারের তালিকায় পরিচিত ও জনপ্রিয় একটি খাবার। দুপুরের ভাতের সঙ্গে খাওয়া থেকে শুরু করে মিষ্টি ও লাচ্ছি তৈরিতেও এর ব্যবহার রয়েছে। অনেকে বাড়িতে দই তৈরি করেন, আবার অনেকে দোকান থেকে কিনে ফ্রিজে রেখে কয়েক দিন ধরে খান। তবে গরম আবহাওয়ায় দই দ্রুত টক হয়ে যেতে পারে। কখনো এর ওপর পানি জমে, আবার কখনো গন্ধ ও স্বাদে পরিবর্তন আসে। তখন প্রশ্ন জাগে, এমন দই খাওয়া নিরাপদ কি না।

    দই একটি গাঁজন করা দুগ্ধজাত খাবার। এতে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়া দুধের ল্যাকটোজকে ল্যাকটিক অ্যাসিডে রূপান্তর করে। এ প্রক্রিয়ায় দইয়ের স্বাভাবিক টক স্বাদ তৈরি হয়। তাপমাত্রা বেশি থাকলে গাঁজনের প্রক্রিয়া দ্রুত হতে পারে। তাই দইয়ের স্বাদ ও গুণমান বজায় রাখতে সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা জরুরি।

    ফ্রিজে কত দিন দই রাখা যায়

    দই কত দিন ভালো থাকবে, তা নির্ভর করে এর ধরন, তৈরির পদ্ধতি, সংরক্ষণের পরিবেশ ও ফ্রিজের তাপমাত্রার ওপর।

    বাড়িতে তৈরি দই পরিষ্কার পাত্রে রেখে জমে যাওয়ার পর দ্রুত ফ্রিজে রাখতে হবে। স্বাদ ও গুণমান বজায় রাখতে সম্ভব হলে দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে খেয়ে নেওয়া ভালো। তবে শুধু দিনের হিসাব দিয়ে দই নিরাপদ কি না নিশ্চিত হওয়া যায় না।

    বাজার থেকে কেনা প্যাকেটজাত দইয়ের ক্ষেত্রে প্যাকেটের মেয়াদ ও সংরক্ষণবিধি অনুসরণ করা উচিত। প্যাকেট খোলার পর দই ঢেকে ফ্রিজে রাখুন এবং প্রতিবার পরিষ্কার চামচ ব্যবহার করুন। খোলার পর কত দিন ব্যবহার করা যাবে, সে বিষয়ে প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা থাকলে তা মেনে চলুন।

    যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের খাদ্যনিরাপত্তা নির্দেশনা অনুযায়ী, সাধারণ দই ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার কম তাপমাত্রায় ফ্রিজে প্রায় এক থেকে দুই সপ্তাহ রাখা যেতে পারে। তবে এই সময়সীমা সব ধরনের বাড়িতে তৈরি দইয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। দইয়ের ধরন ও সংরক্ষণের পরিস্থিতি অনুযায়ী এর স্থায়িত্ব কমবেশি হতে পারে।

    দই দ্রুত টক হয়ে যায় কেন

    দই টক হওয়ার প্রধান কারণ গাঁজন প্রক্রিয়া। দই তৈরির সময় ব্যাকটেরিয়া দুধের শর্করা ভেঙে অ্যাসিড তৈরি করে, যা এর স্বাভাবিক টক স্বাদের জন্য দায়ী। দই জমে যাওয়ার পরও দীর্ঘ সময় গরম পরিবেশে রাখলে গাঁজন চলতে থাকে এবং স্বাদ আরও টক হতে পারে।

    এ ছাড়া বারবার ফ্রিজ থেকে বের করা, ঠিকমতো ঢেকে না রাখা এবং অপরিষ্কার চামচ ব্যবহারের কারণে দইয়ের গুণমান নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। বাংলাদেশের গরম আবহাওয়ায় তাই দই সংরক্ষণে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

    দই ভালো রাখার ৬টি নিয়ম

    ১. জমে গেলেই ফ্রিজে রাখুন

    বাড়িতে দই পাতার পর তা জমে গেলে ঘরের তাপমাত্রায় দীর্ঘ সময় ফেলে রাখবেন না। পরিষ্কার ও ঢাকনাযুক্ত পাত্রে রেখে দ্রুত ফ্রিজে দিন। এতে গাঁজনের গতি ধীর হবে এবং দই অতিরিক্ত টক হওয়ার প্রবণতা কমতে পারে।

    ২. পরিষ্কার ও ঢাকনাযুক্ত পাত্র ব্যবহার করুন

    দই রাখার জন্য খাবার সংরক্ষণের উপযোগী পরিষ্কার পাত্র ব্যবহার করুন। পাত্রটি ব্যবহারের আগে ভালোভাবে পরিষ্কার করে শুকিয়ে নিন। ঢাকনা দিয়ে রাখলে ধুলাবালি ও বাইরের দূষণ থেকে দইকে সুরক্ষিত রাখা সহজ হয়।

    ৩. ফ্রিজের তাপমাত্রা ঠিক রাখুন

    দইয়ের মতো পচনশীল খাবার সংরক্ষণের জন্য ফ্রিজের তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার কম রাখা ভালো। তাপমাত্রা বেশি হলে খাবারে ক্ষতিকর জীবাণু বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়তে পারে।

    ৪. প্রতিবার পরিষ্কার চামচ ব্যবহার করুন

    দই নেওয়ার সময় পরিষ্কার ও শুকনো চামচ ব্যবহার করুন। চামচে অন্য খাবারের অংশ, পানি বা ময়লা থাকলে দই দূষিত হতে পারে। একই চামচ দিয়ে খাওয়া এবং পরে সেটি মূল পাত্রে ঢোকানো এড়িয়ে চলুন।

    ৫. বারবার ফ্রিজ থেকে বের করবেন না

    প্রয়োজনমতো দই আলাদা করে নিয়ে বাকিটা দ্রুত ফ্রিজে ফিরিয়ে রাখুন। সাধারণ খাদ্যনিরাপত্তা নির্দেশনা অনুযায়ী, পচনশীল খাবার ঘরের তাপমাত্রায় দুই ঘণ্টার বেশি রাখা উচিত নয়। তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হলে এ সময়সীমা এক ঘণ্টা। এর বেশি সময় বাইরে থাকা দই ফেলে দেওয়াই নিরাপদ।

    ৬. গন্ধ, রং ও গঠন খেয়াল করুন

    দইয়ের স্বাভাবিক হালকা টক গন্ধ থাকতে পারে। তবে তীব্র দুর্গন্ধ, অস্বাভাবিক রং বা ছাঁচ দেখা গেলে তা খাবেন না। দইয়ের ওপর কিছুটা পানি জমা মানেই সেটি নষ্ট হয়ে গেছে, এমন নয়। এটি দই থেকে আলাদা হওয়া তরল হতে পারে। তবে শুধু দেখে বা গন্ধ শুঁকে খাবার নিরাপদ কি না নিশ্চিত হওয়া যায় না। সংরক্ষণ নিয়ে সন্দেহ থাকলে স্বাদ পরীক্ষা না করে ফেলে দিন।

    টক হয়ে যাওয়া দই কি খাওয়া যায়

    দইয়ের স্বাভাবিক গাঁজনের কারণে সামান্য টক স্বাদ তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। দই সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হলে, মেয়াদের মধ্যে থাকলে এবং নষ্ট হওয়ার কোনো লক্ষণ না থাকলে তা খাওয়ার উপযোগী হতে পারে।

    কিন্তু দই দীর্ঘ সময় ঘরের তাপমাত্রায় পড়ে থাকলে, সংরক্ষণের ইতিহাস জানা না থাকলে কিংবা তাতে ছাঁচ, অস্বাভাবিক রং বা দুর্গন্ধ দেখা দিলে তা খাওয়া উচিত নয়। নষ্ট দই রান্নায় ব্যবহার করলেই নিরাপদ হয়ে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

    দই ভালো রাখতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সঠিক তাপমাত্রায় সংরক্ষণ, পরিষ্কার পাত্র ব্যবহার এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত সময় ফ্রিজের বাইরে না রাখা। বাড়িতে তৈরি দই কয়েক দিনের মধ্যে খেয়ে নেওয়া ভালো। আর বাজারের দইয়ের ক্ষেত্রে প্যাকেটের মেয়াদ ও প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি।

    মনে রাখতে হবে, দই টক হলেই তা নষ্ট নয়। আবার দেখতে স্বাভাবিক হলেই যে নিরাপদ, তা-ও নয়। সংরক্ষণের সময়, পদ্ধতি ও তাপমাত্রা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিন। সন্দেহ হলে দই ফেলে দেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন