অবসরের আগে দেশের মাঠে বিশ্বকাপ খেলতে মুখিয়ে সিকান্দার রাজা

ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে রয়েছেন জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর আগে দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলার সুযোগকে আশীর্বাদ হিসেবে দেখছেন ৪০ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার।
২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়া। আগামী ২ অক্টোবর শুরু হয়ে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে ১৪ দলের এই আসর।
মঙ্গলবার মোবাইল গেম ‘সিক্সার’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাজা বলেন, প্রত্যেক ক্রিকেটারেরই বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন থাকে। ক্যারিয়ারের শেষ দিকে এসে দেশের মাঠে সেই সুযোগ পাওয়াটা তাঁর জন্য বিশেষ প্রাপ্তি।
বিশ্বকাপকে শুধু নিজের স্বপ্নপূরণ নয়, আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ের সৌন্দর্য বিশ্বের সামনে তুলে ধরার সুযোগ হিসেবেও দেখছেন তিনি। তাঁর আশা, বিশ্বকাপ দেখতে আসা দর্শকদের জন্য জিম্বাবুয়ে হবে স্মরণীয় এক অভিজ্ঞতা।
বিশ্বকাপে ‘এ’ গ্রুপে জিম্বাবুয়ের প্রতিপক্ষ ভারত, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া ও আফগানিস্তান। বাছাইপর্বের মাধ্যমে গ্রুপের ষষ্ঠ দল নির্ধারিত হবে। এবার ১০ দলের পরিবর্তে ১৪ দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপ। গ্রুপ পর্বের পর থাকবে ‘সুপার সেভেন’ পর্ব। নতুন এই কাঠামোকে স্বাগত জানিয়েছেন রাজা। তাঁর মতে, ভালো খেলা দলগুলোর আরও বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ থাকা উচিত।
বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট বোর্ডের উদ্যোগেরও প্রশংসা করেছেন তিনি। নির্ধারিত সূচির বাইরেও বিভিন্ন দলের সঙ্গে ম্যাচ আয়োজন করে খেলোয়াড়দের প্রস্তুতির সুযোগ বাড়ানো হচ্ছে বলে জানান রাজা।
ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ হলেও স্বাগতিক হিসেবে বাড়তি সুবিধা পাওয়া কঠিন হবে বলে মনে করেন তিনি। আইসিসির প্রতিযোগিতায় উইকেট ও মাঠের ব্যবস্থাপনায় আইসিসির নিয়ন্ত্রণ থাকায় ন্যায্য উপায়ে যতটা সম্ভব সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করবে জিম্বাবুয়ে।
হারারে ও বুলাওয়ের পাশাপাশি ভিক্টোরিয়া ফলসের নতুন স্টেডিয়ামেও হবে বিশ্বকাপের ম্যাচ। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে স্টেডিয়ামটি উদ্বোধনের কথা রয়েছে। আগামী বছরের ২৪ অক্টোবর সেখানে ভারতের মুখোমুখি হবে জিম্বাবুয়ে। নতুন ভেন্যু নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে রাজা বলেন, ক্রিকেটের পাশাপাশি ভিক্টোরিয়া ফলসের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দর্শকদের বাড়তি আকর্ষণ জোগাবে।
এদিকে জিম্বাবুয়েকে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষেও কথা বলেছেন রাজা। আগামী নভেম্বরে আইসিসির সভায় পরবর্তী চক্রে জিম্বাবুয়ের অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনার কথা রয়েছে। এখন পর্যন্ত টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম তিন চক্রে জায়গা পায়নি জিম্বাবুয়ে, আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ড।
রাজার বিশ্বাস, টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে সুযোগ পেলে জিম্বাবুয়ের ক্রিকেট দ্রুত উন্নতি করবে। শুধু টেস্ট নয়, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। নিজের ক্যারিয়ারের উন্নতিতেও টেস্ট ক্রিকেটের বড় ভূমিকা ছিল বলে জানান তিনি।
তবে জিম্বাবুয়ে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে সুযোগ পেলেও অবসরের সিদ্ধান্ত বদলাবেন না রাজা। অবসর ভেঙে ফেরার সম্ভাবনা নাকচ করে তিনি বলেন, নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি মানসিকভাবে স্থির এবং অবসরের পর ফিরে আসার মানুষ তিনি নন।
তাই ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ে দেশের দর্শকদের সামনে বিশ্বকাপ খেলার সুযোগটিকেই স্মরণীয় করে রাখতে চান জিম্বাবুয়ের অভিজ্ঞ অধিনায়ক।