শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • কালিয়াকৈরে ইবনেসিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের কারখানায় আগুন, কাজ করছে ৩ ইউনিট কর্ণফুলী টানেলের লোকসানের কারণ খতিয়ে দেখবে সংসদীয় কমিটি প্রধান তথ্য কমিশনার হলেন অধ্যাপক ড. নাহরিন ইসলাম খান দুর্গাপূজায় প্লাস্টিক, উচ্চ শব্দ ও আতশবাজি এড়ানোর নির্দেশনা মারা গেছেন ঢাকা জেলা দলের কোচ মোসাদ্দেক হোসেন ছোটন সাড়ে চার ঘণ্টায় ১৩ স্থান পরিদর্শন, পরিচ্ছন্নতায় সময় বেঁধে দিলেন প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: নিরাপত্তা ব্যবস্থা তদন্তের দাবি জামায়াতের ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন অজুর পর নখ কাটলে কি অজু ভেঙে যায়? ডেঙ্গু সেরে যাওয়ার পরও ঝরতে পারে চুল, কী করবেন?
  • ডেঙ্গু সেরে যাওয়ার পরও ঝরতে পারে চুল, কী করবেন?

    ডেঙ্গু সেরে যাওয়ার পরও ঝরতে পারে চুল, কী করবেন?
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার পরও অনেকের চুল পড়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। জ্বর কমে যাওয়ার কয়েক সপ্তাহ বা মাস পর বালিশে, গোসলের সময় কিংবা চিরুনিতে আগের তুলনায় বেশি চুল দেখতে পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন অনেকে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, গুরুতর সংক্রমণ ও শারীরিক চাপের পর এ ধরনের চুল পড়া অনেক ক্ষেত্রে সাময়িক হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ অবস্থাকে বলা হয় ‘টেলোজেন এফ্লুভিয়াম’।

    এ অবস্থায় চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি চক্রে পরিবর্তন আসে। ফলে একসঙ্গে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি চুল ঝরে পড়তে পারে। সাধারণত এতে মাথার নির্দিষ্ট কোনো স্থানে টাক পড়ে না; বরং পুরো মাথাজুড়েই চুলের ঘনত্ব কমে যেতে পারে।

    ডেঙ্গুর পর চুল পড়ে কেন?

    চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি চক্রে বৃদ্ধি, বিশ্রাম ও ঝরে পড়ার পর্যায় রয়েছে। উচ্চ জ্বর, সংক্রমণ, ক্ষুধামন্দা, পানিশূন্যতা, মানসিক চাপ কিংবা দ্রুত ওজন কমে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি এই চক্রে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে বেশি সংখ্যক চুল বিশ্রাম পর্যায়ে চলে যায় এবং পরে ঝরে পড়ে।

    এ ধরনের চুল পড়া সাধারণত অসুস্থতার সময়ই শুরু হয় না। ডেঙ্গু থেকে সেরে ওঠার প্রায় দুই থেকে চার মাস পর এটি স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে। এ কারণে অনেকেই চুল পড়ার সঙ্গে আগের অসুস্থতার সম্পর্ক বুঝতে পারেন না।

    ডেঙ্গুর পর চুল পড়া কি স্থায়ী?

    ডেঙ্গুর পর চুল পড়ার সমস্যা দেখা দিলেই স্থায়ীভাবে চুল নষ্ট হয়ে গেছে, এমনটি ভাবার কারণ নেই। টেলোজেন এফ্লুভিয়ামের ক্ষেত্রে সাধারণত চুলের গোড়া স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চুলের বৃদ্ধির চক্রও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

    তবে নতুন চুল গজানো এবং আগের ঘনত্ব ফিরে পেতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। তাই দ্রুত ফল পাওয়ার আশায় অপ্রয়োজনীয় ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ না করে শরীরের স্বাভাবিক পুনরুদ্ধারে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

    অন্যদিকে, সব ধরনের চুল পড়ার জন্য ডেঙ্গুকে দায়ী করাও ঠিক নয়। শরীরে আয়রনের ঘাটতি, থাইরয়েডের সমস্যা, পর্যাপ্ত প্রোটিনের অভাব, হরমোনের পরিবর্তন, দ্রুত ওজন কমানো কিংবা বংশগত কারণে চুল পড়তে পারে। চুল অতিরিক্ত ঝরলে, দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা চলতে থাকলে, মাথার নির্দিষ্ট স্থানে টাক দেখা দিলে বা অন্য উপসর্গ দেখা দিলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

    চুলের স্বাস্থ্য ফেরাতে কী খাবেন?

    চুলের প্রধান উপাদান কেরাটিন, যা এক ধরনের প্রোটিন। তাই ডেঙ্গু থেকে সেরে ওঠার সময় পর্যাপ্ত প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্যতালিকায় ডাল, ছোলা, শিম, সয়াবিন, টোফু, দুধ, দই, পনির, ডিম, মাছ ও চর্বিহীন মাংস রাখা যেতে পারে।

    চুলের স্বাস্থ্যে আয়রনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মসুর ডাল, শিম, সবুজ শাকসবজি ও তিল থেকে আয়রন পাওয়া যায়। এসব খাবারের সঙ্গে পেয়ারা, আমলকী, লেবু, টমেটো বা ক্যাপসিকামের মতো ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ খাবার খেলে উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে পাওয়া আয়রন শোষণে সহায়তা করে।

    তবে কোনো একটি খাবার খেলেই ডেঙ্গুর পর চুল পড়া দ্রুত বন্ধ হয়ে যাবে, এমন ধারণা ঠিক নয়। বরং সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা এবং শরীরে পুষ্টির ঘাটতি থাকলে তা শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

    চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া উচ্চমাত্রার আয়রন, বায়োটিন, জিঙ্ক বা ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা উচিত নয়। শরীরে ঘাটতি না থাকলে এসব সাপ্লিমেন্ট অতিরিক্ত গ্রহণে উপকারের নিশ্চয়তা নেই; বরং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। কিছু সাপ্লিমেন্ট নির্দিষ্ট চিকিৎসা পরীক্ষার ফলাফলকেও প্রভাবিত করতে পারে।

    ডেঙ্গুর পর চুলের যত্ন নেবেন যেভাবে

    ডেঙ্গু থেকে সেরে ওঠার পর স্বাভাবিক নিয়মেই চুল ধোয়া যায়। শ্যাম্পু ব্যবহারের কারণে টেলোজেন এফ্লুভিয়াম হয় না। তবে আগে থেকেই ঝরে পড়ার পর্যায়ে থাকা চুল ধোয়ার সময় বেরিয়ে আসতে পারে বলে তখন চুল পড়ার পরিমাণ বেশি মনে হতে পারে।

    এ সময় চুলের প্রতি যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন। ভেজা চুলে জোরে আঁচড়ানো, তোয়ালে দিয়ে ঘষে শুকানো, অতিরিক্ত তাপ প্রয়োগ, ঘন ঘন রাসায়নিক ট্রিটমেন্ট এবং চুল শক্ত করে বাঁধা এড়িয়ে চলা ভালো। এসব অভ্যাস চুল ভেঙে যাওয়া বাড়াতে পারে।

    দ্রুত ওজন কমানোর জন্য কঠোর খাদ্যনিয়ন্ত্রণ বা ক্র্যাশ ডায়েটিং থেকেও বিরত থাকা উচিত। সংক্রমণের পর শরীরের পুনরুদ্ধারের জন্য পর্যাপ্ত ক্যালরি, প্রোটিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান প্রয়োজন। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম, বিশ্রাম এবং ধীরে ধীরে স্বাভাবিক কাজে ফিরে যাওয়া সুস্থ হতে সহায়তা করে।

    ডেঙ্গুর পর চুল পড়া অনেক ক্ষেত্রে সাময়িক হলেও দীর্ঘস্থায়ী বা অস্বাভাবিক মাত্রায় চুল ঝরলে অবহেলা করা উচিত নয়। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে এর প্রকৃত কারণ শনাক্ত করাই সবচেয়ে ভালো পদক্ষেপ।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ