অজুর পর নখ কাটলে কি অজু ভেঙে যায়?

অজু ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতগুলোর একটি। নামাজ আদায়ের আগে অজু করা আবশ্যক। তবে অজু করা অবস্থায় নখ কাটলে অজু ভেঙে যায়—এমন ধারণা প্রচলিত থাকলেও ইসলামি শরিয়তে এর ভিত্তি নেই। অজু ভঙ্গের নির্ধারিত কারণগুলোর মধ্যে নখ কাটার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত নয়। তাই অজু করার পর নখ কাটলে নতুন করে অজু করার প্রয়োজন হয় না।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা অজুর নিয়ম সম্পর্কে বলেন, ‘হে মুমিনরা, যখন তোমরা নামাজের জন্য প্রস্তুত হবে তখন তোমাদের মুখ ও হাত কনুই পর্যন্ত ধৌত করবে এবং মাথা মাসেহ করবে আর পা টাখনু (গ্রন্থি) পর্যন্ত ধৌত করবে।’ (সুরা মায়েদা, আয়াত: ৬)
ইসলামি শরিয়তে অজুর ফরজ কাজ চারটি—সম্পূর্ণ মুখ ধোয়া, উভয় হাত কনুইসহ ধোয়া, মাথার এক-চতুর্থাংশ মাসেহ করা এবং উভয় পা টাখনুসহ ধোয়া। এর কোনো একটি বাদ পড়লে অজু শুদ্ধ হবে না।
পরিচ্ছন্নতার অংশ হিসেবে নিয়মিত গোসল করা, দাঁত পরিষ্কার রাখা, শরীরের অপ্রয়োজনীয় লোম ছাঁটা এবং নখ কাটা গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামি শরিয়তে নখ কাটাকে সুন্নত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে নখ কাটার নির্দিষ্ট সময় নিয়ে বিভিন্ন মত প্রচলিত থাকলেও অজুর পর নখ কাটলে অজু নষ্ট হয়—এমন কোনো বিধান নেই।
অজু ভঙ্গের কারণগুলো কী?
ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী, অজু ভঙ্গের কয়েকটি নির্ধারিত কারণ রয়েছে। প্রচলিত হানাফি ফিকহ অনুসারে এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—
পায়খানা বা প্রস্রাবের রাস্তা দিয়ে কোনো কিছু বের হওয়া।
শরীর থেকে রক্ত, পুঁজ বা ক্ষতস্থান থেকে তরল বের হয়ে গড়িয়ে পড়া।
মুখভর্তি বমি হওয়া।
থুতুর সঙ্গে রক্তের পরিমাণ সমান বা বেশি হওয়া।
চিৎ বা কাত হয়ে এমনভাবে ঘুমানো, যাতে শরীরের নিয়ন্ত্রণ থাকে না।
পাগল, মাতাল বা অচেতন হয়ে যাওয়া।
নামাজের মধ্যে উচ্চস্বরে হাসা।
এসব কারণের মধ্যে নখ কাটার বিষয়টি নেই। ফলে অজু করার পর নখ কাটলে অজু ভাঙবে না এবং শুধু এ কারণে নতুন করে অজু করার প্রয়োজনও হবে না।
ফতোয়ায় কী বলা হয়েছে?
ঢাকা থেকে প্রকাশিত আবুল হাসান মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ সম্পাদিত মাসিক আল-কাউসার-এর একটি ফতোয়ায় বলা হয়েছে, অজুর পর নখ কাটলে নতুন করে সেই স্থান ধোয়া বা অজু করার প্রয়োজন নেই। এতে অজুর কোনো ক্ষতি হয় না।
ফতোয়াটিতে তাবেয়ি ইউনুস (রহ.)-এর সূত্রে হাসান বসরি (রহ.)-এর একটি বক্তব্যও উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁকে অজুর পর চুল ও নখ কাটলে পুনরায় সংশ্লিষ্ট স্থান ধোয়া বা অজু করা আবশ্যক কি না, জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, কোনো কিছুই আবশ্যক নয়। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, বর্ণনা: ৫৭৬)
সুতরাং অজু করার পর নখ কাটলে অজু নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় নতুন করে অজু করার প্রয়োজন নেই। তবে অজু ভঙ্গের অন্য কোনো কারণ ঘটলে পুনরায় অজু করতে হবে।