দিল্লির রাজপথে প্রতিবাদের কণ্ঠ নেহা বোরা

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ তুলে দিল্লিতে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে বিরোধী দল ও ছাত্র সংগঠনগুলো। পুলিশের বাধা ও ধরপাকড়ের মধ্যেও রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা।
রোববার (১১ অক্টোবর) দিল্লির কেন্দ্রস্থল থেকে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সভাপতি নেহা বোরা, সিপিআইএমের সংসদ সদস্য জন ব্রিটাস, সিপিআই (এমএল)-লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্যসহ বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক ও ছাত্রনেতাকে আটক করে পুলিশ। পরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
ঐতিহাসিক প্রতিবাদস্থল যন্তর মন্তরে জমায়েতের ওপর বিধিনিষেধ থাকায় আন্দোলনকারীরা দিল্লির বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আন্দোলনের বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছেন তরুণেরা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার
আইসার ২৯ বছর বয়সী নেত্রী নেহা বোরা রোববার দিল্লির বাণিজ্যিক এলাকা কনট প্লেসে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে গেলে পুলিশ তাঁকে আটক করে। পুলিশের ভাষ্য, আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে তাঁকে আটক করে বাসে তোলা হয়।
পুলিশের বাসে বসে ইনস্টাগ্রাম লাইভে নেহা আটক ব্যক্তিদের পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে আন্দোলনকারীদের পুলিশের নজর এড়িয়ে বিক্ষোভ চালানোর বিভিন্ন কৌশলও দেখা যায়।
জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার্থী ও নাট্যকর্মী নেহা বোরা রয়টার্সকে বলেন, “ভয় যেমন সংক্রামক, তেমনই আশাও সংক্রামক।” তাঁর ভাষ্য, মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের হতাশা ও প্রতারণার ক্ষোভ জমে রয়েছে।
সারা দেশে আন্দোলন ছড়ানোর ঘোষণা
গত শনিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রার চেষ্টা করলে চার সাবেক মুখ্যমন্ত্রীসহ অন্তত তিন হাজার আন্দোলনকারীকে আটক করে পুলিশ। পরে তাঁদের প্রায় সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
‘কোকরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নামের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক উদ্যোগের ডাক এবং বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র সমর্থনে এ আন্দোলন শুরু হয়। মুক্তির পর সিজেপির সহ-আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, সিইসি পদত্যাগ না করা পর্যন্ত দিল্লিসহ সারা দেশে আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
অন্যদিকে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) বিক্ষোভকে বিদেশি শক্তির ভারতবিরোধী ষড়যন্ত্র বলে সমালোচনা করেছে। বিজেপি সভাপতি নিতিন নবীন অভিযোগ করেন, সিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে নৈরাজ্য ছড়ানোর প্রতিযোগিতা চলছে।
সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে পদযাত্রার ঘোষণা
বিক্ষোভের ধারাবাহিকতায় সোমবার লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার উদ্দেশ্যে সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে পদযাত্রার নেতৃত্ব দেবেন বলে জানানো হয়েছে।
এর আগে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে বিরোধীদের দেওয়া চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, নির্বাচন কমিশনারদের আইনি সুরক্ষা প্রদানকারী ২০২৩ সালের আইন বাতিল, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) স্থগিত করে বাদ পড়া ভোটারদের নাম পুনর্বহাল, ভবিষ্যৎ নির্বাচনে ইভিএমের পরিবর্তে কাগজের ব্যালট চালু এবং গত দুই বছরে যেসব বিধানসভা নির্বাচনে ভোট চুরির অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর ফল বাতিল করা।