বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে কড়াকড়ি শিথিলের নির্দেশ, জবাব চাইল সুপ্রিম কোর্ট

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে আরোপ করা বিধিনিষেধ শিথিল এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সব ব্যারিকেড দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায় জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৬৩ ধারায় আরোপ করা বিধিনিষেধ অবিলম্বে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
রোববার (১১ অক্টোবর) বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনাকুমারের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালত বলেন, সুপ্রিম কোর্ট ও আশপাশের এলাকায় ১৬৩ ধারার অধীনে বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। এসব বিধিনিষেধ তুলে নিতে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়ে বেঞ্চ বলেন, সুপ্রিম কোর্টসহ অন্য আদালতে আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের যাতায়াত এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত করা যাবে না।
আদালত আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। তবে সাধারণ মানুষের চলাচল দ্রুত স্বাভাবিক করতে হবে।
এর আগে গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চ কেন্দ্রীয় সরকারকে ১০ অক্টোবর দিল্লির মেট্রো ও দূরপাল্লার ট্রেন চলাচলে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা না দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। আদালত তখন পর্যবেক্ষণ করেন, বিক্ষোভের কারণে পুরো পরিবহনব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়া যায় না।
তবে আদালতের ওই নির্দেশের পরও শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লির বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়। রোববারের শুনানিতে পিটিশনকারী আইনজীবী শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠী বিষয়টি তুলে ধরে একে আদালত অবমাননা হিসেবে বিবেচনার অনুরোধ জানান।
বিক্ষোভের অধিকার প্রসঙ্গে আদালত বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মানুষের প্রতিবাদ করার অধিকার রয়েছে। তবে সেই বিক্ষোভ আইন ও পুলিশি বিধিবিধানের মধ্যে থেকেই পরিচালিত হতে হবে। বিচারপতি বাগচী বলেন, প্রতিবাদ করার অধিকার পুলিশ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।
শুনানি শেষে দিল্লি পুলিশ, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব এবং দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশনকে (ডিএমআরসি) কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে আদালত। বিক্ষোভের সময় রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ মানুষকে ব্যাপকভাবে আটক করার অভিযোগের বিষয়ে তাদের জবাব দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি আগামী মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) এর মধ্যে আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নের বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুনানিতে আইনজীবীদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার বিষয়টিও উঠে আসে। এ সময় আদালত পুলিশকে আইনজীবীদের কাজে কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটানোর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে আইনজীবীদের শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের দাবি ও অবস্থান তুলে ধরতে এবং কোনো ধরনের উসকানি এড়িয়ে চলতে বলেন।
ভারতের নির্বাচনী তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপি ও বিরোধী জোটগুলো কয়েক দিন ধরে আন্দোলন করছে। সেই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করেই দিল্লিতে পরিবহন ও চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়।