প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ঘেরাও, প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের প্রতিবাদে যুব ও ক্রীড়া উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের পদত্যাগসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুব সংগঠন জাতীয় যুবশক্তি। রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর মতিঝিলে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি থেকে এসব দাবি জানানো হয়।
কর্মসূচিতে জাতীয় যুবশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদক রিফাত রশিদ বলেন, প্রশ্নফাঁসের ঘটনা নিয়ে পাওয়া তথ্য তাঁদের সন্দেহ বাড়িয়েছে যে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় আরও অনিয়ম থাকতে পারে। তিনি দাবি করেন, নিয়োগে ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে কোনো বিরোধের কারণে প্রশ্নপত্র ফাঁসের তথ্য প্রকাশ্যে এসে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে কোনো প্রমাণ তুলে ধরেননি তিনি।
রিফাত রশিদ বলেন, ২৪২টি পদের বিপরীতে ৩ লাখ ১৯ হাজার পরীক্ষার্থী আবেদন করেছেন। এ চিত্র দেশের চাকরির বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা ও কর্মসংস্থানের সংকট তুলে ধরে। এমন পরিস্থিতিতে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করার পরিবর্তে কোটা, ভাইভার নম্বর বৃদ্ধি ও রাজনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়া প্রভাবিত করার অভিযোগ করেন তিনি।
জাতীয় যুবশক্তির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ সোহেল অভিযোগ করেন, বিএনপি দ্রুত আওয়ামী লীগের মতো হয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। তাঁর দাবি, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করে অকার্যকর করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
তিনি বলেন, দেশের তরুণেরা বারবার বঞ্চনার শিকার হয়েছেন। এক কোটি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পরিবর্তে চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা প্রতিমন্ত্রীর নিয়োগের ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ফরহাদ সোহেল। প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে চাকরিপ্রত্যাশীদের হয়রানি বন্ধের দাবিও জানান তিনি।
জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি তারিকুল ইসলাম বলেন, তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে সরকার কার্যকর পরিকল্পনা তুলে ধরতে পারেনি। তাঁর অভিযোগ, এক কোটি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতির বিপরীতে দেশে চাঁদাবাজির সুযোগ বাড়ছে। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও কর্মসূচি সচল করতে কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তারিকুল ইসলাম আরও বলেন, প্রশ্নফাঁসের তথ্য পরীক্ষার আগের রাতেই সামনে এলেও পরীক্ষা শুরুর আগে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। চাকরি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ পেতে তরুণদের রাজনৈতিক পরিচয়ের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
কর্মসূচি থেকে জাতীয় যুবশক্তির পাঁচ দফা দাবি ঘোষণা করেন তারিকুল ইসলাম। দাবিগুলো হলো—যুব ও ক্রীড়া উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের পদত্যাগ; প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন এবং দায়ীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তি নিশ্চিত করা; নিয়োগে দলীয়করণ, স্বজনপ্রীতি ও অনিয়ম বন্ধ করে মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করা; ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানি ও ভাইভার নম্বর নিয়ে কারসাজি বন্ধ করা; এবং বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও যুব উন্নয়নে সরকারের সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করা।