মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • ডেঙ্গুতে আরও ৯ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৯০২ কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত, শিক্ষক আমৃত্যু রাষ্ট্রের কাছে সম্মানীয়: প্রধানমন্ত্রী ৫২ বছর ধরে ১ টাকায় পড়ানো লুৎফুর রহমান পেলেন রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ঢামেকের বাথরুমে নারীর ঝুলন্ত মরদেহ, পাশে রক্তাক্ত ছুরি বিশ্ব শিক্ষক দিবসে ১০২ গুণী শিক্ষককে সম্মাননা দিল সরকার এআই নিয়ে ভয় কমাতে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ প্রচারের উদ্যোগ ট্রাম্প প্রশাসনের চুম্বকত্বের তৃতীয় রূপ অলটারম্যাগনেটিজমের প্রমাণ পেলেন বিজ্ঞানীরা আলো দিয়ে স্নায়ুকোষ নিয়ন্ত্রণের আবিষ্কারে নোবেল পেলেন ৩ বিজ্ঞানী প্লেগ গবেষণাগারে কর্মীর মৃত্যু, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে যুক্তরাষ্ট্র রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, জামায়াতের নিন্দা, গ্রেপ্তারের দাবি
  • ইনুর ১০ বছরের সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল

    ইনুর ১০ বছরের সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল করেছে প্রসিকিউশন। সোমবার (৫ অক্টোবর) আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আপিল করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম।

    এর আগে গত ৩০ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন। তার বিরুদ্ধে আনা আটটি অভিযোগের মধ্যে ৩, ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় প্রতিটিতে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে তিনটি সাজা একসঙ্গে কার্যকর হওয়ায় মোট ১০ বছরই কারাগারে থাকতে হবে তাকে।

    ট্রাইব্যুনালের রায়ে বলা হয়, ৩ নম্বর অভিযোগে রাইসুল হকসহ অন্য ভুক্তভোগীদের গুরুতর আহত করা, নির্যাতন ও রাজনৈতিক কারণে নিপীড়নের দায় প্রমাণিত হয়েছে। এ অভিযোগে ইনুকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

    ৬ নম্বর অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের ষড়যন্ত্র, প্ররোচনা ও সহযোগিতার দায়ে তাকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। ৭ নম্বর অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্র ও চুক্তিতে সম্পৃক্ততার দায়েও একই সাজা ও জরিমানা দেওয়া হয়।

    অন্যদিকে ১, ২, ৪, ৫ ও ৮ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এসব অভিযোগ থেকে ইনুকে খালাস দেন ট্রাইব্যুনাল।

    মামলার অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই একটি ভারতীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জুলাই আন্দোলনকারীদের জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক হিসেবে আখ্যায়িত করে তাদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগে উসকানি ও সহায়তার অভিযোগ আনা হয় ইনুর বিরুদ্ধে।

    ১৯ জুলাই গণভবনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৪-দলীয় জোটের বৈঠকে উপস্থিত থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে ‘শুট অ্যাট সাইট’ সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে নির্দেশ, প্ররোচনা ও সহায়তার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে আনা হয়।

    ৩ নম্বর অভিযোগে আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার ছবি দেখে তালিকা তৈরি এবং তাদের আটক ও নির্যাতনের জন্য কুষ্টিয়ার তৎকালীন পুলিশ সুপারকে ফোনে নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ করা হয়।

    ৪ নম্বর অভিযোগে আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্র ব্যবহারের পাশাপাশি হেলিকপ্টারের মাধ্যমে বোমা হামলা ও ছত্রীসেনা নামানোর পরিকল্পনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।

    ৫ নম্বর অভিযোগে গণমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া এবং সরকারের বিভিন্ন হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতন-নিপীড়নকে সমর্থনের অভিযোগ আনা হয়।

    ৬ নম্বর অভিযোগে ১৪-দলীয় জোটের বৈঠকে উপস্থিত থেকে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ৭ নম্বর অভিযোগে শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে কথিত ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়।

    ৮ নম্বর অভিযোগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরে ইউসুফ শেখ, উসামা, সুরুজ আলী, আশরাফুল ইসলাম, বাবলু ফরাজী ও আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন নামে ছয় আন্দোলনকারীকে হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ করা হয়। একই অভিযোগে সারা দেশে ১ হাজার ৪০০ জনকে হত্যা এবং ২৫ হাজারের বেশি ছাত্র-জনতাকে আহত করার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

    প্রসিকিউশনের আপিলের মাধ্যমে এখন ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ১০ বছরের সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার আবেদন করা হলো।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন