বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলার মামলা: আখতারুজ্জামানের এক দিনের রিমান্ড

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালনরত এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা, সরকারি কাজে বাধা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে করা মামলায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জনের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর এ আদেশ দেন।
এর আগে দুপুরে আখতারুজ্জামানকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করে বিমানবন্দর থানার পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা থানার এসআই মাজেদুল ইসলাম এ আবেদন করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিলের পাশাপাশি জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ঢাকা মহানগর অতিরিক্ত পিপি মোহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব বাদী হয়ে শুক্রবার বিমানবন্দর থানায় মামলাটি করেন। ওই দিনই আখতারুজ্জামানকে তাঁর বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার মদিনা থেকে জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ সদস্যের একটি দল পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঢাকায় ফেরে। বিমানবন্দরে লাগেজ সংগ্রহের সময় অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে ট্রলি পাওয়া নিয়ে ভোগান্তি তৈরি হয়। এ নিয়ে কয়েকজনের সঙ্গে বিমানবন্দরের কর্মীদের কথা-কাটাকাটি হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, লাগেজ পেতে দেরি এবং জমজমের পানি না পাওয়াকে কেন্দ্র করেও সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিষয়টি জানার পর ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেন বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদকে ঘটনাস্থলে যেতে বলেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, নির্বাহী পরিচালক সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের সঙ্গে তাঁর উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। এ সময় তিনি হুমকিমূলক ও অশালীন ভাষা ব্যবহার করেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংসদ সদস্য নির্বাহী পরিচালককে সেখান থেকে সরিয়ে নেন।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, ঘটনার পর বিমানবন্দরের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকেও আখতারুজ্জামান হুমকি দেন। তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজন প্রটোকল সহকারী ঘটনার ভিডিও ধারণ করছিলেন এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার কথা বলছিলেন।
বিমানবন্দরের কেপিআইভুক্ত এলাকায় ভিডিও ধারণ বন্ধ করতে আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের অনুরোধ করেন নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন। এ সময় তাঁর সঙ্গেও আখতারুজ্জামান অশালীন আচরণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে ওই নিরাপত্তাকর্মীকে শারীরিকভাবে আঘাত করা হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একজন প্রতিনিধি ঘটনাস্থলে গেলে তাঁর সঙ্গেও আখতারুজ্জামান উত্তেজনাপূর্ণ আচরণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়। একই সময়ে যাত্রীদের জন্য রাখা জমজমের পানির বোতল বা পাত্র ট্রলি থেকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
বাদীর অভিযোগ, এসব ঘটনার কারণে বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তা ও নিরাপত্তাকর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ তৈরি হয়।
এদিকে রিমান্ড আবেদনে পুলিশ বলেছে, বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ঘটনায় কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ইন্ধন ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে আখতারুজ্জামানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতে আসামিপক্ষের বক্তব্য ও তদন্তের ফলাফল এখনো পাওয়া যায়নি।