ঢামেকের বাথরুমে নারীর ঝুলন্ত মরদেহ, পাশে রক্তাক্ত ছুরি

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের একটি বাথরুম থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে শাহবাগ থানা পুলিশ। সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ১১০ ও ১১১ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝামাঝি বাথরুমের ৪ নম্বর কক্ষ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
মরদেহ উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টা আগে হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লকের কনফারেন্স রুমের দ্বিতীয় গেটের সামনে রক্তমাখা একটি ফল কাটার ছুরি ও রক্তের দাগ পাওয়া যায়। এ কারণে ঘটনাটি নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। নারীটি আত্মহত্যা করেছেন, নাকি তাকে হত্যার পর মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সকাল ১০টার দিকে পরিচ্ছন্নতাকর্মী মাহমুদ শেখ বাথরুম পরিষ্কার করতে যান। ৪ নম্বর কক্ষের দরজায় কয়েকবার নক করেও কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি সহকর্মী রাসেল ও কামালকে ডাকেন। পরে দরজা খুলে তারা ওই নারীকে রক্তাক্ত অবস্থায় ঝুলতে দেখেন। বিষয়টি আনসার সদস্য ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
মাহমুদ শেখ বলেন, কক্ষটির দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। পরে ঝুলন্ত অবস্থায় নারীকে দেখতে পেয়ে তারা দ্রুত বিষয়টি আনসার সদস্য ও সর্দারকে জানান।
এদিকে একই দিন ভোরে হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লকের কনফারেন্স রুমের দ্বিতীয় গেটের সামনে রক্তমাখা একটি কালো স্টিলের ছুরি পড়ে থাকতে দেখা যায়। সকাল সাড়ে ৬টার দিকে পরিচ্ছন্নতাকর্মী কাশী সন্তোষ ছুরিটি দেখতে পান।
সন্তোষ জানান, রক্তমাখা ছুরিটি পড়ে থাকতে দেখে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে তিনি ওই জায়গা পরিষ্কার করেন। পরে ছুরিটি ধুয়ে নিজের কাছে রাখেন। কয়েক ঘণ্টা পর বাথরুমে নারীর মরদেহ পাওয়ার খবর জানতে পারেন তিনি।
ঢামেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. শায়লা ফেরদৌস আহসান বলেন, সকালে হাসপাতালে এসে বাথরুমে ঝুলন্ত মরদেহের খবর পান। পরে কনফারেন্স রুমের সামনে রক্ত ও ছুরি পাওয়ার বিষয়টিও জানতে পারেন।
তিনি বলেন, সকাল ৮টার আগে দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় আনসার সদস্যরা কনফারেন্স রুমের সামনে ছুরিটি দেখতে পান। পরে জায়গাটি পরিষ্কার করা হয়। ওই এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে এবং ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, মরদেহটি পানির লাইনের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় পাওয়া গেছে। ওই নারীর বাম হাতে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড কি না, তা সিসিটিভি ফুটেজ ও আলামত বিশ্লেষণের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ঘটনাস্থলে সিআইডির ক্রাইমসিন ইউনিট ও পুলিশের সদস্যরা কাজ করছেন। তারা মরদেহ ও আশপাশ থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছেন।
ওই নারীর ব্যাগ থেকে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের একটি কাগজ ও চিরকুট পাওয়া গেছে। সেখানে ‘তন্ময় মণ্ডল’ নাম লেখা ছিল। ব্যাংকের কাগজে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হসপিটালের ঠিকানাও পাওয়া যায়। ওই তথ্যের সূত্র ধরে তন্ময় মণ্ডল নামে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালের এক কর্মীর বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে।
তবে ওই কাগজে থাকা মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা হলে অপর প্রান্তের ব্যক্তি নিজেকে তন্ময় মণ্ডল নন বলে জানান। তিনি নিজেকে নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ কামাল হোসেন পরিচয় দিয়ে বলেন, মোবাইলটি বর্তমানে তার হেফাজতে রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে তিনি রাজি হননি।
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সিআইডির ক্রাইমসিন ইউনিটকে খবর দেয়। সিআইডি বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। প্রাথমিকভাবে ওই নারীর নাম ঝুমা রানী দে বলে জানা গেছে। তবে তার পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।
তন্ময় মণ্ডল নামে কাউকে আটক করা হয়েছে কি না—জানতে চাইলে ওসি বলেন, এ ঘটনায় তন্ময় মণ্ডল নামে কেউ তাদের হেফাজতে নেই।
পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ ও সংগৃহীত আলামত বিশ্লেষণের পর ওই নারীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।