নারীকে হাসির পাত্র না বানিয়েও কমেডি সম্ভব: ফাতিমা সানা শেখ

বলিউডের কমেডি সিনেমায় নারী চরিত্রের উপস্থাপন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিনেত্রী ফাতিমা সানা শেখ। তার মতে, অনেক সিনেমায় নারীদের স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্ব ও গল্প তুলে ধরার পরিবর্তে তাদের চেহারা, যৌনতা কিংবা অপমানকে হাসির উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
‘ভ্যারাইটি ইন্ডিয়া’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কমেডি ঘরানার বর্তমান প্রবণতা এবং নারী চরিত্রে বৈচিত্র্য আনার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কথা বলেন এই অভিনেত্রী।

ফাতিমার মতে, শুধু কতগুলো কমেডি সিনেমা তৈরি হচ্ছে, সেটিই বিবেচনার বিষয় নয়; বরং এসব সিনেমায় নারী চরিত্রকে কীভাবে দেখানো হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে স্ল্যাপস্টিক কমেডিতে নারীদের নিয়ে প্রচলিত কিছু উপস্থাপনাকে তিনি যৌনবৈষম্যমূলক বলে মনে করেন।
অভিনেত্রী বলেন, ‘স্ল্যাপস্টিক কমেডি সবসময়ই যৌনবৈষম্যমূলক।’ তার মতে, নারীকে হাসির পাত্রে পরিণত না করেও দর্শকদের বিনোদন দেওয়া সম্ভব।

বর্তমানে বলিউডে হালকা মেজাজের সিনেমার সংখ্যা কমে যাওয়ায়ও হতাশা প্রকাশ করেন ফাতিমা। তার মতে, ইন্ডাস্ট্রি এখন থ্রিলার ও ডার্ক ঘরানার সিনেমার দিকে বেশি ঝুঁকে পড়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের ভালো কমেডি শো দরকার। আমরা থ্রিলার ও ডার্ক সিনেমার দিকে বেশি ঝুঁকে যাচ্ছি। সাধারণভাবে বলতে গেলে, এখন হালকা মেজাজের সিনেমা তৈরি হচ্ছে না।’
নব্বইয়ের দশক ও ২০০০-এর শুরুর দিকের সিনেমার প্রসঙ্গ তুলে ফাতিমা বলেন, সে সময় অভিনেত্রীদের বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে কাজ করার সুযোগ তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল। বিদ্যা বালান ও জুহি চাওলার অভিনয়ের উদাহরণও দেন তিনি।
ফাতিমার ভাষায়, ‘বিদ্যা বালানের কমেডি টাইমিং অসাধারণ। জুহি চাওলাও দুর্দান্ত। তখন প্রত্যেক অভিনেতা-অভিনেত্রীকে বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যেত। এখন সবাইকে একটি নির্দিষ্ট ধরনের চেহারা, আচরণ ও চরিত্রের মধ্যে আটকে ফেলা হয়। সবকিছুই একমাত্রিক হয়ে গেছে।’

তিনি আরও বলেন, আগের সময়ের অভিনেত্রীদের অভিনয়ে আলাদা বৈশিষ্ট্য ছিল। শুধু চেহারা বা পর্দায় উপস্থাপনের দিক থেকেই নয়, অভিনয়ের ক্ষেত্রেও তাদের নিজস্বতা স্পষ্ট ছিল।
কমেডি সিনেমার দর্শক ও বয়সভিত্তিক রেটিং নিয়েও কথা বলেন ফাতিমা। তার মতে, একসময় পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে উপভোগ করতে পারেন—এমন কমেডি সিনেমা বেশি তৈরি হতো।
নিজের অভিনীত সর্বশেষ হালকা মেজাজের সিনেমা ‘আপ জ্যায়সা কোই’-এর উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, এটি পিজি-১৩ রেটিংয়ের সিনেমা ছিল। আগেও পরিবারের সঙ্গে বসে দেখার উপযোগী কমেডি সিনেমা তৈরি হতো বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ফাতিমা বলেন, ‘আগে কমেডি সিনেমাও পিজি-১৩ হতো। অমরিশ পুরী কিংবা ওম পুরীর সিনেমাতেও তারা বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করতেন, যেগুলো পরিবারের সবাই উপভোগ করতে পারত। আমরা সবাই একসঙ্গে প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে সিনেমা দেখতে পারতাম। এখন বেশিরভাগ সিনেমাই এ-রেটেড।’
এদিকে ফাতিমা সানা শেখের সর্বশেষ কাজ ‘হুঙ্কার: দ্য রোর’। গত ২৫ সেপ্টেম্বর জিওহটস্টারে মুক্তি পেয়েছে সিরিজটি।