বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৬ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৯৪৮ রামসু বাজারের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে সেনাবাহিনী: মাসব্যাপী উন্নয়ন কার্যক্রমের সমাপনী নীতি সুদহার ৯.৫০ শতাংশেই রাখল বাংলাদেশ ব্যাংক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে ল্যাপটপ চুরির অভিযোগ রাশেদ খাঁনের মিরপুরে সংঘর্ষের পর সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জামায়াত আমিরের জাতিসংঘে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও মানবিক রাষ্ট্রের বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী: মাহদী আমিন মরিয়মের বাবার আপসনামা দাখিল, জামিন পেলেন মাকসুদা; কারাগারেই নজরুল ফেসবুকে ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করেছে মেটা, জরিমানার মুখে প্রতিষ্ঠান ফলের জুস থেকে মিল্কশেক, নিয়মিত পান করলে হতে পারে ক্ষতি কালকিনিতে বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান
  • মরিয়মের বাবার আপসনামা দাখিল, জামিন পেলেন মাকসুদা; কারাগারেই নজরুল

    মরিয়মের বাবার আপসনামা দাখিল, জামিন পেলেন মাকসুদা; কারাগারেই নজরুল
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামকে সন্দেহের ভিত্তিতে আসামি করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন মামলার বাদী ও মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ।

    বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালতে মামলাটি নিয়ে আপসনামা দাখিল করেন মাসুম বিল্লাহ। আদালতে তিনি জানান, গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকসুদা ইসলামের জামিনে তার কোনো আপত্তি নেই।

    শুনানি শেষে আদালত মাকসুদা ইসলামের জামিন মঞ্জুর করলেও গাজী নজরুল ইসলামের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    আপসনামায় বলা হয়েছে, মরিয়মের মৃত্যুর পর তার বাবা সন্দেহের বশে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেন। এতে গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়।

    নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়, মরিয়মের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের বিয়ের পর প্রথম স্ত্রী মাকসুদার সঙ্গে তার সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ছিল এবং তারা সংসার পরিচালনা করছিলেন। গত ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকায় গাজী নজরুলের বাসায় মরিয়মের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে। মেয়ের জামাইয়ের বাসায় এমন ঘটনা ঘটায় তাৎক্ষণিকভাবে সন্দেহ থেকে মামলা করেন তার বাবা।

    পরবর্তীতে বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজখবর নেওয়ার পর মরিয়মের পরিবার জানতে পারে, গাজী নজরুল বা তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদার কোনো প্ররোচনা কিংবা কর্মকাণ্ডের কারণে রাগ বা অভিমানে মরিয়ম আত্মহত্যা করেননি—এমনটাই আপসনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। দুই পরিবারের মধ্যে আগে থেকেই আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকায় উভয় পক্ষের সম্মতিতে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে আপসনামাটি করা হয়।

    আপসনামার শর্ত অনুযায়ী, গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকসুদা ইসলাম জামিন পেলে বাদী বা তার পরিবারের কোনো আপত্তি থাকবে না। জামিনের পর দুই পক্ষ সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখবে এবং মামলার বিচারিক কার্যক্রমে নিরপেক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

    এর আগে ২০ সেপ্টেম্বর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে ১৯ বছর বয়সী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তার বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন।

    মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়। গ্রেপ্তারের পর ২১ সেপ্টেম্বর গাজী নজরুলের চার দিন এবং মাকসুদার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। রিমান্ড শেষে ২২ সেপ্টেম্বর মাকসুদাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ২৩ সেপ্টেম্বর ওবায়দুর রহমানকেও কারাগারে পাঠানো হয়। গাজী নজরুলের চার দিনের রিমান্ড শেষে ২৪ সেপ্টেম্বর তাকে আরও চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। পরে ২৮ সেপ্টেম্বর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

    এর আগে জুলাইয়ে মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মুহূর্তের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তাকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ওই ঘটনার পর ২২ জুলাই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলনের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকেও জানানো হয়।

    ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ এবং ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ২১ জুলাই পল্লবী থানায় আরেকটি মামলা করেন গাড়িচালক ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমান। ওই মামলায় হাইকোর্ট থেকে ১০ আগস্ট গাজী নজরুল ইসলাম আট সপ্তাহের জামিন পান। পরবর্তীতে ওবায়দুর রহমানকেই মরিয়মের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় আসামি করা হয়।

    আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলার এজাহারে মরিয়মের পরিবার অভিযোগ করে, গত জুনে ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। সংসদ সদস্য হওয়ায় নজরুল, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ও মরিয়ম ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন। এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, বিয়ের পর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের কথা তিনি বিভিন্ন সময় ফোনে পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন।

    এজাহার অনুযায়ী, ২০ সেপ্টেম্বর বিকেলে গাজী নজরুল মরিয়মের বাবাকে ফোন করে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, মরিয়ম একটি কক্ষে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলছিলেন। পরে পুলিশের সহায়তায় দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোট পাওয়ার কথাও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতে বিচারাধীন মামলায় প্রমাণের বিষয়টি এখনো নিষ্পত্তি হয়নি।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন