চীনের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে এফবিআই

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় চীনের হয়ে নিবন্ধন ছাড়াই বিদেশি এজেন্ট হিসেবে কাজ এবং তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে-র ছেলে ও তার পরিবারের ওপর নজরদারির অভিযোগে ৩৪ বছর বয়সী এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে এফবিআই।
গ্রেপ্তার ওয়ানইং ‘হিদার’ ঝাং ক্যালিফোর্নিয়ার ইরভিনের বাসিন্দা। শনিবার দায়ের করা ফেডারেল অভিযোগপত্রের বরাত দিয়ে কর্মকর্তারা জানান, ২০২৫ সালে সিয়াটলে গিয়ে তিনি তাইওয়ানের এক উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের ওপর নজরদারি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এফবিআই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, ওই ব্যক্তি ছিলেন প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে-র ছেলে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, চীনা কর্মকর্তাদের নির্দেশে ওই আত্মীয়ের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ এবং তার ছবি তোলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ঝাংকে। তবে অভিযোগপত্রে ওই আত্মীয়ের নাম প্রকাশ করা হয়নি।
এফবিআইয়ের বিশেষ এজেন্ট কেভিন হল্ট অভিযোগপত্রে বলেন, ঝাং ও ‘ইন্ডিভিজুয়াল-১’ নামে উল্লেখ করা এক ব্যক্তি ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর লাস ভেগাস থেকে সিয়াটলে যান। এরপর তারা ওই ব্যক্তির বাড়ির কাছে অবস্থান নেন।
প্রতিবেশীর নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, ঝাং ও ওই ব্যক্তি একটি ভাড়া করা কালো রঙের এসইউভিতে বসে বাড়িটির বাইরে অপেক্ষা করছিলেন। পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে পৌঁছালে তারা গাড়ি থেকে উঠে মোবাইল ফোন বের করে ছবি বা ভিডিও ধারণ করেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, তাইওয়ানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের অবস্থান, বাড়ি ও গাড়ির ছবি চীনের কাছে সম্ভাব্য কোনো সংঘাতের সময় তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের ওপর চাপ তৈরিতে কাজে লাগতে পারে।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, ঝাং চীনের হয়ে কাজ করলেও যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে বিদেশি সরকারের হয়ে কাজ করার বিষয়টি নিবন্ধন বা অবহিত করেননি। দেশটির আইনে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টের ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ইউএস অ্যাটর্নি বিল এসাইলি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, ঝাং একজন সহযোগীর সঙ্গে ওই সফরের সমন্বয় করেছিলেন এবং নজরদারি এড়াতে কৌশল ব্যবহার করেছিলেন। সোমবার লস অ্যাঞ্জেলেসের ফেডারেল আদালতে তার প্রাথমিক শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
ঝাংয়ের কোনো আইনজীবী রয়েছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এ বিষয়ে এফবিআই, মার্কিন বিচার বিভাগ ও চীনা দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে CNN।
তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের মুখপাত্র কারেন কুও অভিযোগের নিন্দা করে ঘটনাটিকে ‘ক্লাসিক ট্রান্সন্যাশনাল রেপ্রেশন’ বা সীমান্তপারের দমন-পীড়নের উদাহরণ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে আসছে। অন্যদিকে, প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ মানুষের স্বশাসিত গণতান্ত্রিক তাইওয়ান নিজেদের সার্বভৌমত্বের পক্ষে অবস্থান নেয়। প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে তাইওয়ানের স্বায়ত্তশাসন ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় বেইজিংয়ের তীব্র সমালোচনার মুখে রয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের ‘ওয়ান চায়না’ নীতির আওতায় ওয়াশিংটন তাইওয়ান চীনের অংশ—বেইজিংয়ের এই অবস্থানকে স্বীকার করে; তবে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির তাইওয়ানের ওপর সার্বভৌমত্বের দাবি যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়নি।