জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে সরকার জনস্বার্থ উপেক্ষা করেছে: মঞ্জু

গত সাত মাসে দুই দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো এবং বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। তার অভিযোগ, সংকট মোকাবিলায় বিকল্প পথ না খুঁজে সরকার এর প্রভাব সরাসরি জনগণের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর এবি পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, জনস্বার্থ ও অর্থনীতিতে এর প্রভাব নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালীসহ আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন সংকটের প্রভাব দেশের মানুষের ওপর পড়ছে। তার দাবি, পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার কৌশলগত বা বিকল্প কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করেনি।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর দেশের বিভিন্ন জ্বালানি তেলের পাম্পে দীর্ঘ লাইনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সে সময় সরকার বারবার জানিয়েছিল দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তেলের দাম বাড়ানোর পর পাম্পগুলোতে আগের মতো দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে না।
মঞ্জু প্রশ্ন করেন, যদি সে সময় জ্বালানি সংকট না থাকে, তাহলে পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়েছিল কেন? আবার এখন সেই পরিস্থিতি নেই কেন? একই সঙ্গে সরকারও বলছে না যে সে সময় কোনো সংকট ছিল না এবং বর্তমানে সেই সংকটের সমাধান হয়েছে।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া নিয়ে সরকারের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান। তার অভিযোগ, মূল্যবৃদ্ধির ক্ষেত্রে সরকার একটি নির্দিষ্ট কৌশল অনুসরণ করছে এবং এ বিষয়ে জনগণের কাছে যথেষ্ট স্বচ্ছতা নেই।
তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে শুধু পরিবহন ব্যয়ই বাড়ে না, পণ্য পরিবহন, শিল্প ও উৎপাদন খরচও বেড়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের দামে। তাই জ্বালানির মূল্য নির্ধারণের সময় জনস্বার্থের পাশাপাশি অর্থনীতিতে এর সামগ্রিক প্রভাব বিবেচনা করা প্রয়োজন।
মঞ্জু বলেন, জনগণের ওপর ধারাবাহিকভাবে মূল্যবৃদ্ধির চাপ না দিয়ে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারকে বিকল্প ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।