বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj

তারেক রহমানের ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন তথ্য নেই: ভারত

তারেক রহমানের ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন তথ্য নেই: ভারত
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আসন্ন ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে নয়াদিল্লি সফর করবেন কি না, সে বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য নেই বলে জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (এমইএ)।

মঙ্গলবার নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘আমার কাছে কোনো আপডেট নেই।’

এর ফলে আপাতত ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণ কিংবা তাঁর নয়াদিল্লি সফর নিশ্চিত হয়নি।

তবে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ভারতের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন জয়সওয়াল। ঢাকায় সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগকে দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদারের ক্ষেত্রে গঠনমূলক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির সাম্প্রতিক সৌজন্য সাক্ষাতের বিষয়েও কথা বলেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র।

জয়সওয়াল বলেন, ‘বাংলাদেশে আমাদের হাইকমিশনারের বৈঠকের বিষয়ে বলতে গেলে, তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। সেখানে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বিভিন্ন দিক, আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে আমরা কীভাবে এই সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে চাই, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।’

এর আগে মঙ্গলবার বঙ্গভবনে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি। এ সময় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ঝুলে থাকা বিষয়গুলো দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বঙ্গভবনের বিবৃতিতে বলা হয়, অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে ন্যায্য ও উভয়ের কাছে গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানো হলে দুই দেশের জনগণের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাস আরও বাড়বে।

সাধারণ নদীগুলোর ব্যবস্থাপনা দুই দেশের মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত উল্লেখ করে গঙ্গা, তিস্তাসহ অভিন্ন নদীগুলোর পানির ন্যায্য বণ্টনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ভারতকে আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।

জবাবে হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী জানান, এ বিষয়ে ভারত সরকার ইতিবাচক পদক্ষেপ নিচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, সবচেয়ে কাছের প্রতিবেশী এবং বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে বাংলাদেশ বিশেষ গুরুত্ব দেয়।

এর আগে গত মাসের শুরুতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশে থেকে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের যে অনুরোধ করা হয়েছে, তা ‘প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে’।

নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেছিলেন, পারস্পরিক স্বার্থ ও পারস্পরিকতার ভিত্তিতে বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যতমুখী সম্পর্ক চায় ভারত।

সাংবাদিকেরা তাঁকে প্রশ্ন করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কোনো শর্ত রয়েছে কি না। তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে কি না, জানতে চাইলে জয়সওয়াল বলেন, ‘এই নির্দিষ্ট বিষয়ে যখন আমার কাছে কোনো আপডেট থাকবে, আমি অবশ্যই আপনাদের জানাব...আমরা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের জন্য একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ আমন্ত্রণ জানিয়েছি।’

অন্যদিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় সফর নিয়ে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরে যোগাযোগ ও আলোচনা চলছে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শহীদুল করিম জানিয়েছিলেন, প্রস্তাবিত সফর নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লি থেকে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল যোগাযোগের পর ওই আলোচনায় প্রভাব পড়েছে।

তথ্যসূত্র: এএনআই


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আরও পড়ুন