ইরানি ট্যাংকারে মার্কিন হামলা, জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ফের সামরিক উত্তেজনা তীব্র হয়েছে। ওমান উপসাগর ও খার্গ দ্বীপের কাছে ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়ে সেগুলো অচল করে দেওয়ার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় ইরানি ট্যাংকারে হামলার তথ্য জানায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। সংস্থাটি জানায়, রোববার ও সোমবার হরমুজ প্রণালিতে টহলরত মার্কিন যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে ইরানি বাহিনী ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এর প্রতিক্রিয়ায় পাঁচটি ইরানি ট্যাংকারকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
সেন্টকমের তথ্যমতে, হামলার শিকার পাঁচটি ট্যাংকার হলো—এম/টি কাভিজ, এম/টি চারমিনার, এম/টি হরাইজন ১, এম/টি রিয়েস্কো এবং এম/টি দেরিয়া। এর মধ্যে প্রথম চারটি ওমান সাগরে এবং পঞ্চমটি খার্গ দ্বীপের কাছে অবস্থান করছিল।
মার্কিন বাহিনী জানিয়েছে, হামলায় ট্যাংকারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত ও অচল হয়ে পড়লেও কোনো ক্রু নিহত বা আহত হননি। হামলার আগে জাহাজগুলোর ক্রুদের নিরাপদে জাহাজ ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলেও জানিয়েছে সেন্টকম। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবিও ট্যাংকারে হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে।
জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা
মার্কিন হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে জর্ডানের আল আজরাক এলাকায় অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের দাবি করেছে আইআরজিসি।
জর্ডানের প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, ঘাঁটিটি লক্ষ্য করে কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। তবে দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই শনাক্ত ও ধ্বংস করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর পর তার জবাবেই আল আজরাকের মার্কিন ঘাঁটিতে ‘ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা’ চালানো হয়েছে।
মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দাবি
হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার যে অভিযোগ সেন্টকম করেছে, সেটিও স্বীকার করেছে আইআরজিসি। তাদের দাবি, ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে মার্কিন নৌবাহিনীর দুটি ডেস্ট্রয়ার—ইউএস নেভি ডিডিজি-১১৯ ও ইউএস নেভি ডিডিজি-৫৩—গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তবে মার্কিন পক্ষ থেকে এসব যুদ্ধজাহাজ গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দাবির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
কুয়েত ও বাহরাইনকে হুমকি
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দুই মিত্র দেশ কুয়েত ও বাহরাইনের বন্দরগুলোতে হামলার হুমকি দিয়েছে আইআরজিসি।
বিবৃতিতে কুয়েত ও বাহরাইনের বন্দরে থাকা তেলবাহী ট্যাংকারের ক্রুদের দ্রুত জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। আইআরজিসি বলেছে, বন্দরে নোঙর করা কিংবা অন্য যেকোনো অবস্থায় থাকা এসব জাহাজ ভবিষ্যতে হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা এবং নতুন হুমকিকে কেন্দ্র করে হরমুজ প্রণালি ও মধ্যপ্রাচ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।