মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • বাংলাদেশকে হারিয়ে ইতিহাস গড়তে চায় আমিরাত ১৬ ডিসেম্বর চালু হচ্ছে শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনাল: বিমানমন্ত্রী ডেঙ্গু ঠেকাতে শনিবার থেকে তিন মাসের বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান আপিল বিভাগে প্রধান বিচারপতি ও বার সভাপতির বাগবিতণ্ডা মৈত্রী এক্সপ্রেস নিয়ে শিগগির সুখবর, যেকোনো সময় চালুর তারিখ ঘোষণা ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে অমীমাংসিত ইস্যু সমাধানের আহ্বান রাষ্ট্রপতির মানবিক ও পরিবেশবান্ধব নগরব্যবস্থা সরকারের লক্ষ্য: মাহ্দী আমিন সাত মাসে ২ হাজারের বেশি শিশু এখনো নিখোঁজ, মহিলা পরিষদের উদ্বেগ সরকার হাসিনাকে ধরে আনতে চায়: ডা. জাহেদ উর রহমান গণঅভ্যুত্থানের পর আ.লীগকে ‘সাধারণ ক্ষমা’ করে জামায়াত: রাশেদ খাঁন
  • এআইয়ের হাত ধরে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি হচ্ছে লাখ লাখ নতুন চাকরি

    এআইয়ের হাত ধরে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি হচ্ছে লাখ লাখ নতুন চাকরি
    ছবি: এআই
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মানুষের চাকরি কেড়ে নেবে—এমন আশঙ্কা প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে আরও জোরালো হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের সাম্প্রতিক চিত্র বলছে, এখন পর্যন্ত এআই শুধু চাকরি বিলুপ্ত করছে না; বরং নতুন কর্মসংস্থানেরও বড় সুযোগ তৈরি করছে।

    দ্য ইকোনমিস্টের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে এআইয়ের কারণে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ লাখ নতুন চাকরি তৈরি হয়েছে। বিপরীতে, ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে এআইয়ের প্রভাবে চাকরি হারিয়েছেন প্রায় ২ লাখ মানুষ। অর্থাৎ, এআইয়ের কারণে হারানো চাকরির তুলনায় নতুন তৈরি হওয়া চাকরির সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি।

    যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকসের (বিএলএস) ৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে দেশটিতে ১ লাখ ৬২ হাজার নতুন চাকরি যোগ হয়েছে। এ সময় বেকারত্বের হার ছিল ৪ দশমিক ১ শতাংশ।

    তরুণদের শ্রমবাজারেও এআইয়ের কারণে বড় ধরনের ধাক্কার স্পষ্ট প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের বেকারত্বের হার ও সামগ্রিক বেকারত্বের হারের ব্যবধানও কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম কম পর্যায়ে রয়েছে।

    ডেটা সেন্টারেই বাড়ছে কর্মসংস্থান

    এআই বিস্তারের সবচেয়ে দৃশ্যমান প্রভাব পড়ছে এর অবকাঠামো তৈরিতে। এআই পরিচালনার জন্য বিপুলসংখ্যক চিপ, সার্ভার, ডেটা সেন্টার, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎ অবকাঠামো প্রয়োজন হচ্ছে।

    গোল্ডম্যান স্যাকসের হিসাবে, ২০২২ সালের তুলনায় এআই পরিচালনার প্রয়োজনীয় অবকাঠামোতে বছরে প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে। শুধু ডেটা সেন্টার নির্মাণেই বছরে ৭৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ হচ্ছে, যা এক বছর আগের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি।

    এই অবকাঠামো তৈরিতে প্রয়োজন হচ্ছে ইলেকট্রিশিয়ান, প্রকৌশলী, এইচভিএসি বিশেষজ্ঞ এবং সার্ভার স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণকর্মীর। ফলে প্রযুক্তির পাশাপাশি নির্মাণ ও কারিগরি পেশাতেও বাড়ছে কর্মসংস্থান।

    দ্য ইকোনমিস্টের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ডেটা সেন্টার নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত পাঁচটি প্রধান শিল্পে ২০২৩ সালের পর প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার অতিরিক্ত কর্মসংস্থান হয়েছে। অন্যান্য নির্মাণ ও উৎপাদন খাতের স্বাভাবিক প্রবৃদ্ধি দিয়ে এই বাড়তি কর্মসংস্থানের পুরোটা ব্যাখ্যা করা যায় না।

    চাকরির ওয়েবসাইট ইনডিডের তথ্য অনুযায়ী, দুই বছরে ডেটা সেন্টার-সংক্রান্ত চাকরির বিজ্ঞপ্তি দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। লিংকডইনের হিসাবেও ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৫ লাখ ডেটা সেন্টার-সংক্রান্ত চাকরি তৈরি হয়েছে।

    বাড়ছে বেতন

    কর্মীর চাহিদা বাড়ায় ডেটা সেন্টারকেন্দ্রিক কিছু পেশায় বেতনও বাড়ছে। ইনডিডের হিসাবে, ডেটা সেন্টার স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণের চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা বেতন একই ধরনের অন্যান্য কাজের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি।

    সরকারি তথ্যেও বেতন বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। জুন পর্যন্ত এক বছরে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম উৎপাদন খাতে ঘণ্টাপ্রতি গড় আয় ১৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে। বৈদ্যুতিক ঠিকাদারি খাতে বেড়েছে প্রায় ৮ শতাংশ।

    অর্থাৎ, এআই অবকাঠামোর বিস্তার শুধু নতুন চাকরির সুযোগই তৈরি করছে না; কিছু কারিগরি পেশায় কর্মীদের দর-কষাকষির ক্ষমতাও বাড়াচ্ছে।

    তৈরি হচ্ছে নতুন পেশাজীবী চাকরি

    এআইয়ের কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রভাব শুধু নির্মাণ, বিদ্যুৎ বা যন্ত্রপাতি খাতে সীমাবদ্ধ নয়। তৈরি হচ্ছে নতুন ধরনের পেশাজীবী চাকরিও।

    এআই মডেল তৈরিতে প্রয়োজন হচ্ছে প্রকৌশলী। ডেটা লেবেলিংয়ের জন্য তৈরি হচ্ছে ডেটা অ্যানোটেটরের কাজ। আবার প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট প্রয়োজন অনুযায়ী এআই প্রযুক্তি কাজে লাগাতে ‘ফরওয়ার্ড-ডিপ্লয়ড ইঞ্জিনিয়ার’-এর মতো নতুন পদ তৈরি হচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠানেই চালু হয়েছে ‘হেড অব এআই’ পদ।

    লিংকডইনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ সময়ের তুলনায় হেড অব এআই, এআই ইঞ্জিনিয়ার এবং ডিরেক্টর অব এআই পদে চাকরির বিজ্ঞপ্তি প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

    বার্নিং গ্লাস ইনস্টিটিউটের প্রধান অর্থনীতিবিদ গ্যাড লেভাননের গবেষণা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের পেশাজীবী চাকরির প্রায় ১ শতাংশ এখন এআই-সম্পর্কিত। সংখ্যার হিসাবে এটি প্রায় ১০ লাখ পদ। কম্পিউটার ও জীবনবিজ্ঞান-সম্পর্কিত পেশায় এআইনির্ভর চাকরির অংশ আরও বেশি—প্রায় ৪ থেকে ৫ শতাংশ।

    লিংকডইনের আরেক বিশ্লেষণে ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে প্রায় ৬ লাখ ৪০ হাজার নতুন এআই-নির্দিষ্ট চাকরি তৈরির তথ্য পাওয়া গেছে।

    উৎপাদনশীলতা বাড়িয়েও কর্মসংস্থান

    এআই কর্মীদের উৎপাদনশীলতা বাড়িয়েও পরোক্ষভাবে নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি করতে পারে। একজন আইনজীবী এআই ব্যবহার করে দ্রুত চুক্তির খসড়া তৈরি করতে পারেন। একইভাবে একজন আর্থিক বিশ্লেষক অল্প সময়ে বিপুলসংখ্যক নথি পর্যালোচনা করতে পারেন।

    এতে কোনো সেবা দিতে সময় ও খরচ কমে গেলে সেই সেবার চাহিদা বাড়তে পারে। চাহিদা বাড়ার সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের কাজের পরিমাণও বাড়ে, ফলে নতুন কর্মীর প্রয়োজন তৈরি হতে পারে।

    এ কারণে এআইয়ের ঝুঁকিতে থাকা বলে বিবেচিত কিছু পেশাতেও কর্মসংস্থান বেড়েছে। ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্যারালিগ্যালদের কর্মসংস্থান প্রায় ১১ শতাংশ এবং বাজার গবেষণা বিশ্লেষকদের চাকরি প্রায় ৬ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে জাতীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হার ছিল প্রায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ।

    কিছু পেশা অবশ্যই ঝুঁকিতে

    তবে এআইয়ের প্রভাব পুরোপুরি ইতিবাচক নয়। নিয়মিত ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজের ওপর নির্ভরশীল কিছু পেশায় কর্মসংস্থান ইতিমধ্যে কমতে শুরু করেছে।

    ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে কাস্টমার সার্ভিস কর্মীদের চাকরি প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে। সচিব ও প্রশাসনিক সহকারীদের চাকরি কমেছে প্রায় ১৫ শতাংশ।

    বিএলএসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩৫ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অফিস ও প্রশাসনিক সহায়তাসংক্রান্ত পেশায় প্রায় ৭ লাখ ৫২ হাজার চাকরি কমতে পারে।

    ভবিষ্যতের চাকরির ধরন কেমন হবে?

    এআই শেষ পর্যন্ত মানুষের চাকরি কেড়ে নেবে, নাকি নতুন কর্মসংস্থানের বড় ক্ষেত্র তৈরি করবে—এর চূড়ান্ত উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি। তবে বর্তমান তথ্য বলছে, প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে চাকরির ধরনও বদলাচ্ছে।

    কম্পিউটার যুগের আগে অস্তিত্ব ছিল না—এমন কম্পিউটার-সম্পর্কিত পেশায় বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ৬০ লাখের বেশি মানুষ কাজ করেন। গিগ অর্থনীতি, ই-কমার্স ও কনটেন্ট তৈরির মতো নতুন শিল্পেও কাজ করছেন আরও প্রায় ৮০ লাখ মানুষ।

    ভবিষ্যতে মানুষ হয়তো একসঙ্গে একাধিক স্বয়ংক্রিয় এআই এজেন্ট পরিচালনা করবেন। কেউ হয়তো এআই এজেন্টগুলোর মধ্যে বিরোধ মীমাংসার কাজ করবেন। আজ এসব ধারণা অস্বাভাবিক মনে হলেও প্রযুক্তির ইতিহাস বলছে, নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে এমন অনেক পেশাই তৈরি হয়েছে, যা আগে কল্পনাও করা যায়নি।

    এক-দুই দশক আগেও ‘ইনফ্লুয়েন্সার’কে একটি বড় পেশা হিসেবে কল্পনা করা কঠিন ছিল। তাই এআইয়ের যুগেও হারিয়ে যাওয়া কিছু কাজের পাশাপাশি সম্পূর্ণ নতুন ধরনের পেশা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


    সূত্র: দ্য ইকোনমিস্ট
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন