২০২৩ সালের হজের বিমান ভাড়ার অতিরিক্ত অর্থের তদন্ত চান ধর্মমন্ত্রী

২০২৩ সালে হজযাত্রীদের কাছ থেকে বিমান ভাড়া বাবদ নেওয়া অর্থের বিষয়ে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। তার প্রশ্ন, ২০২৩ সালে যেখানে বিমান ভাড়া বাবদ ১ লাখ ৯৭ হাজার ৭৯৭ টাকা নেওয়া হয়েছিল, সেখানে ২০২৭ সালের জন্য তা ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হলো কীভাবে এবং আগের অতিরিক্ত অর্থ কোথায় গেছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বক্তব্যে ধর্মমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, ২০২৭ সালের জন্য হজযাত্রীদের বিমান ভাড়া ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অথচ ২০২৩ সালে একই খাতে ১ লাখ ৯৭ হাজার ৭৯৭ টাকা নেওয়া হয়েছিল। ওই অর্থের হিসাব এবং তা কোথায় ব্যয় হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, সাধারণত সময়ের সঙ্গে ভাড়া বাড়লেও বর্তমান সরকার হজযাত্রীদের জন্য বিমান ভাড়া কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এবার হজের বিমান ভাড়া কমানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
কমেছে হজ প্যাকেজের খরচ
ধর্মমন্ত্রী জানান, ২০২৭ সালের হজের জন্য দুটি প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম প্যাকেজের আওতায় ২০২৬ সালে খাবারের খরচ বাদ দিয়ে ব্যয় ছিল ৬ লাখ ৯০ হাজার ৫৯৭ টাকা। ২০২৭ সালে তা কমিয়ে ৬ লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে আগের বছরের তুলনায় ৭৫ হাজার ৩৩৪ টাকা কমেছে।
এবার প্রথম প্যাকেজে খাবারের জন্য ৪৯ হাজার ১৩৬ টাকা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। খাবারের খরচ যুক্ত করেও আগের বছরের তুলনায় প্যাকেজের ব্যয় কম বলে জানান ধর্মমন্ত্রী।
দ্বিতীয় প্যাকেজের ক্ষেত্রেও ব্যয় কমানো হয়েছে। ২০২৬ সালে এ প্যাকেজের খরচ ছিল ৫ লাখ ৫৮ হাজার টাকা, যেখানে খাবারের ব্যয় অন্তর্ভুক্ত ছিল না। ২০২৭ সালে তা কমিয়ে ৫ লাখ ৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ কমেছে ৫৩ হাজার টাকা। এবার খাবারের জন্য ২৯ হাজার টাকা প্যাকেজের মধ্যেই রাখা হয়েছে।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে হজযাত্রীদের সেবায় সরকার মানবিকতা, সততা, দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিতার ধারা অব্যাহত রাখতে চায়।
টিকিট না থাকায় বিপাকে পড়েছিলেন দুই হজযাত্রী
গত হজের একটি ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ধর্মমন্ত্রী বলেন, শেষ ফ্লাইটে সরকারি-বেসরকারি সব হজযাত্রী সৌদি আরবে যাওয়ার পর একটি গোয়েন্দা সংস্থা থেকে তিনি ফোন পান। তখন তিনি নিজেও সৌদি আরবে অবস্থান করছিলেন।
তাকে জানানো হয়, ভিসা থাকা সত্ত্বেও এক দম্পতি হজযাত্রী টিকিট না পাওয়ায় সৌদি আরবে যেতে পারছেন না। যে এজেন্টের মাধ্যমে তাদের যাওয়ার কথা ছিল, তিনি টিকিটের ব্যবস্থা করেননি।
ধর্মমন্ত্রী জানান, সৌদি আরব থেকেই তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। একটি ফ্লাইট তখনও বাকি থাকায় অনুরোধ করে রিয়াদ থেকে ওই দুই হজযাত্রীর টিকিটের ব্যবস্থা করা হয় এবং তাদের সৌদি আরবে পাঠানো সম্ভব হয়।
তিনি বলেন, তারা হজে যেতে পেরেছেন—এটাই সরকারের জন্য বড় পাওয়া। এ জন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আগামী হজের জন্য দোয়া চাইলেন
আগামী দিনের হজ আরও সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন ধর্মমন্ত্রী।
তিনি বলেন, হজ কার্যক্রম যেন আরও সুন্দরভাবে পরিচালনা করা যায় এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য কাজ করার তৌফিক যেন সরকার ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে দেওয়া হয়—এ জন্য তিনি মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন।