মুম্বাইয়ে পারুল গুলাটির স্বপ্নের ডুপ্লেক্স, ইনডোর দোলনা থেকে টেরেস বারের চমক

অভিনয়, ব্যবসা আর দীর্ঘ পথচলার স্মৃতি—সবকিছুর ছাপ রয়েছে অভিনেত্রী পারুল গুলাটির মুম্বাইয়ের বিলাসবহুল ডুপ্লেক্সে। আধুনিক নকশার এই ৪ বিএইচকে বাড়িতে যেমন রয়েছে নান্দনিক সাজসজ্জা, তেমনি বিভিন্ন আসবাব, শিল্পকর্ম ও ব্যক্তিগত সংগ্রহে ফুটে উঠেছে অভিনেত্রীর নিজস্ব রুচি।
সম্প্রতি অর্চনা পুরান সিংয়ের ইউটিউব ভ্লগে নিজের বাড়ির অন্দরমহল ঘুরিয়ে দেখান পারুল। অর্চনার সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্বামী পারমিত শেঠি ও পরিবারের সদস্যরা। সেই হোম ট্যুরেই প্রকাশ্যে আসে পারুলের সাজানো ডুপ্লেক্সের বিভিন্ন আকর্ষণীয় অংশ।
সবুজ সোফা আর ইনডোর দোলনায় আলাদা আবহ
বাড়ির লিভিং রুমে আধুনিকতার সঙ্গে প্রাকৃতিক উপকরণের সুন্দর সমন্বয় করা হয়েছে। সবুজ সোফা, কাঠের আসবাব, র্যাটান-ধাঁচের ঝুলন্ত বাতি এবং বড় ইনডোর দোলনা ঘরটিকে দিয়েছে উষ্ণ ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ।
লিভিং রুমের পাশেই রয়েছে ডাইনিং স্পেস। বড় কাঠের টেবিলের সঙ্গে প্রশস্ত জানালা দিয়ে আসা প্রাকৃতিক আলো জায়গাটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।
বাড়ির আরেকটি বসার জায়গা পারুল নিজের কাজের জন্য ব্যবহার করেন। সেখানে তাঁর কর্মজীবন ও ব্যবসার সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন জিনিসও রয়েছে।
মায়ের পছন্দে সাজানো রান্নাঘর
পারুলের মডুলার রান্নাঘরেও আধুনিকতার ছাপ স্পষ্ট। ধূসর ক্যাবিনেট ও গাঢ় কাউন্টারটপের সমন্বয়ে তৈরি রান্নাঘরটি একই সঙ্গে আকর্ষণীয় ও ব্যবহারবান্ধব।
পারুল জানান, তাঁর মা এমন একটি রান্নাঘর চেয়েছিলেন যেখানে ড্রয়ারের মাধ্যমে সহজেই প্রয়োজনীয় জিনিস বের করা ও রাখা যায়। মায়ের সেই পছন্দকে গুরুত্ব দিয়েই রান্নাঘরের নকশা করা হয়েছে।
শোবার ঘরে ব্যক্তিগত পছন্দের ছাপ
ডুপ্লেক্সের ওপরের তলায় রয়েছে পারুলের দুটি শোবার ঘর। এর একটি ঘর একই সঙ্গে টিভি ও প্রজেক্টর দেখার জায়গা হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। মাস্টার বেডরুম থেকে মুম্বাই শহরের দারুণ দৃশ্য দেখা যায়।
শোবার ঘরের সাজেও রয়েছে ব্যক্তিগত পছন্দের ছাপ। শিল্পকর্ম, ধর্মীয় মূর্তি ও বিভিন্ন ব্যক্তিগত সামগ্রী ঘরগুলোকে দিয়েছে আলাদা আবহ। আধুনিক ইন্টেরিয়রের সঙ্গে এসব উপকরণের মিশেলে তৈরি হয়েছে বেশ ব্যক্তিগত ও শান্ত পরিবেশ।
টেরেসে বার, সবুজ আর শহরের দৃশ্য
পারুলের বাড়ির সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশগুলোর একটি টেরেস। সবুজে ঘেরা এই জায়গায় রয়েছে আরাম করে বসার ব্যবস্থা এবং বার-স্টাইলের একটি কাউন্টার। এখান থেকে মুম্বাই শহরের দৃশ্যও উপভোগ করা যায়।
বিভিন্ন আনন্দ-আয়োজনেও এই টেরেস ব্যবহার করেছেন পারুল। জন্মদিনের অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে তাঁর পোষ্য কুকুর মালিককে ঘিরে আয়োজন করা পার্টি—বাড়ির এই অংশটি তাঁর বেশ কিছু স্মরণীয় মুহূর্তের সাক্ষী।
১ বিএইচকে থেকে বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স
নিজের বাড়ি ঘুরিয়ে দেখানোর সময় পারুল তাঁর মুম্বাইয়ে আসার গল্পও শেয়ার করেন। একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে সুযোগ পাওয়ার পর মুম্বাইয়ে তাঁর নতুন জীবন শুরু হয়। প্রথমদিকে মায়ের সঙ্গে ১ বিএইচকে ফ্ল্যাটে থাকতেন তিনি। এরপর ধীরে ধীরে ২ বিএইচকে, ৩ বিএইচকে, অফিস এবং শেষ পর্যন্ত বর্তমান ডুপ্লেক্সে পৌঁছান।
অভিনয়ের পাশাপাশি চুলের ব্যবসাও শুরু করেছিলেন পারুল। ব্যবসার শুরুর দিকে মা ও তিনি লিভিং রুমে বসেই কাজ করতেন বলে জানান অভিনেত্রী।
এই দীর্ঘ পথচলার কারণে বর্তমান বাড়িটি তাঁর কাছে শুধু বিলাসবহুল আবাসন নয়; বরং সংগ্রাম থেকে সাফল্যে পৌঁছানোর গল্পেরও অংশ।
পুরোনো সেলাই মেশিনে শুরুর দিনের স্মৃতি
বাড়িতে থাকা বিভিন্ন জিনিসের সঙ্গে পারুলের ব্যক্তিগত স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে একটি পুরোনো সেলাই মেশিন, যা ব্যবসার শুরুর সময় থেকে তিনি যত্ন করে রেখে দিয়েছেন।
সেই সেলাই মেশিন তাঁর কাছে শুরুর দিনের পরিশ্রম ও সংগ্রামের স্মারক। তাই বাড়ির সাজে দামি আসবাব বা আধুনিক ইন্টেরিয়রের পাশাপাশি জায়গা পেয়েছে অতীতের স্মৃতিও।
সব মিলিয়ে পারুল গুলাটির মুম্বাইয়ের ডুপ্লেক্সে বিলাসিতা ও আধুনিকতার পাশাপাশি রয়েছে ব্যক্তিগত স্মৃতি, পারিবারিক সম্পর্ক এবং সাফল্যের গল্প। ইনডোর দোলনা, আধুনিক রান্নাঘর কিংবা টেরেসের বার—প্রতিটি অংশেই যেন নিজের জীবন ও রুচির ছাপ রেখেছেন এই অভিনেত্রী।