বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • স্পেনে দুই দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষ, নিহত ৪৬, ১৭৯ জন আহত নারী ও শিশুর সুরক্ষায় ইউনিসেফের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় সরকার ইসরায়েলে সরকার গঠনে আরব দলগুলোর সমর্থন চান বিরোধী নেতা গোলান ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের জিডিপি ছাড়াবে ১ ট্রিলিয়ন ডলার: প্রধানমন্ত্রী ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনের ওপর নির্ভর করছে স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ: জামায়াত ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে নিরাপত্তায় এসআরবি-১৩-এর বিশেষ প্রস্তুতি নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর আশা সরকারের রোগীদের যাতায়াতের ভোগান্তি কমাতে অ্যাম্বুলেন্স পুল গড়বে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছেলেকে বাঁচাতে নিজের কিডনি দিতে প্রস্তুত মা, অর্থাভাবে অনিশ্চিত রাকিবের জীবন ফেসবুক লাইভে বিএনপি সরকার নিয়ে মন্তব্য, জামিন পেলেন সেই সাথী আক্তার
  • ওজন কমাতে খাবার বাদ নয়, নজর দিন ৯ অভ্যাসে

    ওজন কমাতে খাবার বাদ নয়, নজর দিন ৯ অভ্যাসে
    ছবি: সংগৃহীত
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    ওজন কমাতে ভাত বা পছন্দের খাবার পুরোপুরি বাদ দেওয়া কিংবা না খেয়ে থাকার প্রয়োজন নেই। বরং পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ, সুষম খাবার, নিয়মিত শরীরচর্চা ও পর্যাপ্ত ঘুমের মতো অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে ওজন নিয়ন্ত্রণে বেশি কার্যকর হতে পারে। সাধারণভাবে অধিকাংশ প্রাপ্তবয়স্কের জন্য সপ্তাহে প্রায় ১–২ পাউন্ড ওজন কমানোকে ধীরে ও তুলনামূলক নিরাপদ লক্ষ্য হিসেবে ধরা হয়।

    কঠোর ডায়েটের পরিবর্তে দৈনন্দিন জীবনে কিছু ছোট পরিবর্তন আনতে পারেন। তবে প্রত্যেকের শারীরিক গঠন, বয়স, জীবনযাপন ও স্বাস্থ্যগত প্রয়োজন আলাদা। তাই দ্রুত ওজন কমানোর পরিকল্পনা থাকলে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

    ১. দিন শুরু করুন পানি দিয়ে

    ঘুম থেকে উঠে পানি পান করার অভ্যাস শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে। কেউ কেউ লেবু, জিরা, মেথি বা মৌরি মেশানো পানি পান করেন। তবে এসব পানীয়কে ‘ডিটক্স’ হিসেবে ধরে নেওয়ার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। ওজন নিয়ন্ত্রণে মূল বিষয় হলো সুষম খাবার ও শারীরিক সক্রিয়তা।

    ২. খাবারে রাখুন ভারসাম্য

    নির্দিষ্ট সময়ে পরিমিত খাবার খাওয়ার অভ্যাস করুন। ভাত, ডাল, মাছ, মাংস, ডিম ও শাকসবজি—সবই সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে। খাবারের পরিমাণ এবং এতে থাকা পুষ্টি উপাদানের ভারসাম্যই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

    ৩. ভাত পুরোপুরি বাদ দেওয়ার দরকার নেই

    ওজন কমাতে গিয়ে ভাতকে একেবারে খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। প্লেটে ভাতের পরিমাণ কিছুটা কমিয়ে পর্যাপ্ত শাকসবজি, ডাল ও প্রোটিন রাখতে পারেন। পছন্দের খাবার পরিমিতভাবে খেলে দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ধরে রাখা সহজ হয়।

    ৪. স্বাস্থ্যকর ফ্যাট খান পরিমিতভাবে

    বাদাম, বিভিন্ন বীজ ও ঘির মতো ফ্যাটসমৃদ্ধ খাবার সুষম খাদ্যতালিকায় থাকতে পারে। তবে এসব খাবারে ক্যালোরির পরিমাণ বেশি হওয়ায় পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ জরুরি। কোনো খাবার স্বাস্থ্যকর হলেই তা ইচ্ছেমতো খাওয়া উচিত নয়।

    ৫. চিনি ছাড়া টক দই রাখতে পারেন

    চিনি ছাড়া টক দই খাদ্যতালিকায় ভালো সংযোজন হতে পারে। এতে প্রোটিন থাকে এবং কিছু দইয়ে উপকারী ব্যাকটেরিয়াও পাওয়া যায়। বাজারের দই কেনার সময় এতে অতিরিক্ত চিনি যোগ করা হয়েছে কি না, তা দেখে নেওয়া ভালো।

    ৬. খাবারের পর হাঁটার অভ্যাস করুন

    খাওয়ার পর দীর্ঘ সময় বসে বা শুয়ে না থেকে হালকা হাঁটাহাঁটি করতে পারেন। নিয়মিত হাঁটা ও অন্যান্য শারীরিক কর্মকাণ্ড ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়াম ওজন কমানোর সময় পেশি ধরে রাখতেও ভূমিকা রাখতে পারে।

    ৭. ‘চিট ডে’র বদলে খাবারে নমনীয়তা আনুন

    সপ্তাহের বেশির ভাগ সময় পুষ্টিকর খাবার খেয়ে মাঝে মাঝে পছন্দের খাবার পরিমিতভাবে খেতে পারেন। অনেকের জন্য এ ধরনের নমনীয় খাদ্যাভ্যাস দীর্ঘদিন বজায় রাখা সহজ হতে পারে। তবে ৮০/২০ নিয়মকে ওজন কমানোর বৈজ্ঞানিকভাবে নির্ধারিত কোনো সূত্র হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।

    ৮. অ্যাপল সাইডার ভিনিগার নিয়ে বাড়তি আশা নয়

    অ্যাপল সাইডার ভিনিগার মেশানো পানি পান করলেই দ্রুত ওজন কমবে—এমন শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তাই এটিকে ওজন কমানোর শর্টকাট হিসেবে ব্যবহার করা ঠিক নয়। নিয়মিত ওষুধ সেবন করলে বা কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যা থাকলে এটি ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

    ৯. প্লেটে রাখুন বৈচিত্র্যময় খাবার

    শাকসবজি, ফল, মাছ, ডিম, ডাল, বাদাম ও বীজ থেকে শরীর প্রয়োজনীয় ফাইবার, প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ পেতে পারে। কোনো একটি খাবারকে ওজন কমানোর ‘জাদুকাঠি’ না ভেবে বৈচিত্র্যময় ও সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলাই ভালো।

    দ্রুত ওজন কমানোর প্রলোভন এড়িয়ে চলুন

    ওজন কমানোর জন্য বাজারে নানা ধরনের ‘ডিটক্স’, ‘ফ্যাট বার্নার’ ও সাপ্লিমেন্টের প্রচার রয়েছে। এসব পণ্যের কার্যকারিতা অনেক ক্ষেত্রেই পর্যাপ্তভাবে প্রমাণিত নয় এবং কিছু পণ্যের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। তাই দ্রুত ফল পাওয়ার আশায় অপ্রমাণিত পদ্ধতির ওপর নির্ভর না করাই ভালো।

    সবশেষে, ওজন নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এমন অভ্যাস তৈরি করা, যা দীর্ঘদিন ধরে অনুসরণ করা সম্ভব। ভাত বা ঘি পুরোপুরি বাদ দেওয়ার পরিবর্তে খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ, সুষম খাদ্য, নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম এবং পর্যাপ্ত ঘুম—এই অভ্যাসগুলোই হতে পারে স্বাস্থ্যকর ওজন নিয়ন্ত্রণের বাস্তবসম্মত পথ।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন